বৃহস্পতিবার, ২১ মে ২০২৬

| ৫ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩

ক্যাসপারস্কির তথ্য

অনেকের কাছেই প্রযুক্তির মাধ্যমে হয়রানি গুরুত্ব পাচ্ছে না

টেকস্ক্রল নেটওয়ার্ক

প্রকাশ: ১৬:৪১, ২০ মে ২০২৬ | আপডেট: ১৬:৫৫, ২০ মে ২০২৬

অনেকের কাছেই প্রযুক্তির মাধ্যমে হয়রানি গুরুত্ব পাচ্ছে না

প্রযুক্তির মাধ্যমে হয়রানি ও নজরদারির ঘটনা বাড়লেও অনেক মানুষ এখনো এটিকে নির্যাতন হিসেবে বুঝতে পারছেন না:ক্যাসপারস্কি

ক্যাসপারস্কির তথ্য

প্রযুক্তির মাধ্যমে হয়রানি ও নজরদারির ঘটনা বাড়লেও অনেক মানুষ এখনো এটিকে নির্যাতন হিসেবে বুঝতে পারছেন না বলে জানিয়েছে গ্লোবাল সাইবার সিকিউরিটি প্রতিষ্ঠান ক্যাসপারস্কি। প্রতিষ্ঠানটির এক গবেষণায় দেখা গেছে, প্রায় অর্ধেক প্রাপ্তবয়স্ক ব্যক্তি কোনো না কোনো ধরনের প্রযুক্তিনির্ভর নির্যাতনের শিকার হলেও এ বিষয়ে সচেতনতার বড় ঘাটতি রয়েছে। এ বিষয়ে মানুষকে সচেতন করতে ইউনিভার্সিটি কলেজ লন্ডন (ইউসিএল) ও ক্যাসপারস্কি বিভিন্ন কর্মশালা ও সচেতনতামূলক কার্যক্রম পরিচালনা করছে।

প্রযুক্তির মাধ্যমে হয়রানির মধ্যে রয়েছে অনলাইনে হয়রানি, গোপনে নজরদারি, পরিচয় ভুয়া হিসেবে ব্যবহার, অনুসরণ করা বা ব্যক্তিগত তথ্য ফাঁসের মতো ঘটনা। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে এসব আচরণ অনেক সময় স্বাভাবিক বলে ধরে নেওয়া হয় এবং সরাসরি শারীরিক প্রমাণ না থাকায় বিষয়গুলো সহজে সামনে আসে না।

ইউনিভার্সিটি কলেজ লন্ডনের (ইউসিএল) কম্পিউটার সায়েন্স বিভাগের অ্যাসোসিয়েট প্রফেসর এবং জেন্ডার অ্যান্ড টেক রিসার্চ ল্যাবের প্রধান ড. লিওনি মারিয়া ট্যানজার বলেন, প্রযুক্তিনির্ভর নির্যাতন এখনো ক্ষতিকর হিসেবে সেভাবে স্বীকৃতি পায়নি। কারণ, এটি কী ধরনের আচরণকে বোঝায়, সে বিষয়ে সবার মধ্যে স্পষ্ট ধারণা নেই। ফলে অনেক ভুক্তভোগীর অভিজ্ঞতা অপ্রকাশিত থেকে যায় এবং প্রয়োজনীয় সহায়তাও তারা পান না।

ক্যাসপারস্কির গবেষণায় দেখা গেছে, মাত্র ৩২ শতাংশ মানুষ ‘টেক-ফ্যাসিলিটেটেড অ্যাবিউজ’ সম্পর্কে পরিষ্কার ধারণা রাখেন। অথচ ৪৫ দশমিক ৭ শতাংশ উত্তরদাতা জানিয়েছেন, তারা নিজেরাই এ ধরনের অভিজ্ঞতার মুখোমুখি হয়েছেন। অনেকেই একসঙ্গে একাধিক ধরনের হয়রানির শিকার হয়েছেন, যার মধ্যে রয়েছে অনলাইন হ্যারাসমেন্ট, স্টকিং, সামাজিকভাবে বিচ্ছিন্ন করা এবং ডক্সিং। গবেষণায় স্টকারওয়্যারকেও বড় ধরনের ঝুঁকি হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। স্টকারওয়্যার হলো এমন সফটওয়্যার, যা গোপনে কারও স্মার্টফোনে ইনস্টল করে তার অবস্থান, মেসেজ, কল সহ অন্যান্য কার্যক্রম নজরদারি করা যায়।

 নতুন ৩ মডেলের ইলেকট্রিক গাড়ি বাজারে

ক্যাসপারস্কির গ্লোবাল রিসার্চ অ্যান্ড অ্যানালাইসিস টিমের লিড সিকিউরিটি রিসার্চার তাতিয়ানা শিশকোভা বলেন, স্টকারওয়্যার খুব সহজেই ডাউনলোড ও ইনস্টল করা যায়। এটি ব্যাকগ্রাউন্ডে গোপনে কাজ করে বলে বেশিরভাগ ভুক্তভোগী বুঝতেই পারেন না যে তাদের প্রতিটি কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। তাই সন্দেহজনক কার্যক্রম কীভাবে শনাক্ত করতে হবে এবং এমন পরিস্থিতিতে কী করণীয়, সে বিষয়ে সচেতনতা জরুরি।

সাইবার স্টকিং ও প্রযুক্তিনির্ভর হয়রানি মোকাবিলায় ক্যাসপারস্কি ‘কোয়ালিশন অ্যাগেইনস্ট স্টকারওয়্যার’-এর সহ-প্রতিষ্ঠাতা হিসেবে কাজ করছে। এই জোটে প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান, গবেষক, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও বিভিন্ন সামাজিক সংগঠন একসঙ্গে কাজ করছে। এছাড়া ইউসিএল টেক অ্যাবিউজ কনফারেন্স ২০২৬-এ স্টকারওয়্যার শনাক্তকরণ নিয়ে একটি কর্মশালার আয়োজন করবে বলে জানিয়েছে ক্যাসপারস্কি। একই সঙ্গে ব্যবহারকারীদের নিরাপত্তা সফটওয়্যার ব্যবহার, সন্দেহজনক লক্ষণ পর্যবেক্ষণ এবং ঝুঁকিপূর্ণ পরিস্থিতিতে নিরাপদ সহায়তা নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি।

 টেলিকম পলিসি নিয়ে ফিসফাস! বিটিআরসি চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল অব. এমদাদ উল বারী যা বলেছেন ১৬মে।

সূত্র: ক্যাসপারস্কি

এ সম্পর্কিত খবর
আরও পড়ুন