নিষেধাজ্ঞার সমালোনায় টেলিগ্রাম প্রতিষ্ঠাতা
প্রশ্নফাঁস বিতর্কে ভারতে টেলিগ্রামের নিষেধাজ্ঞা বহাল
টেকস্ক্রল নেটওয়ার্ক
প্রকাশ: ১৪:৩৫, ২০ জুন ২০২৬ | আপডেট: ১৭:৩৬, ২০ জুন ২০২৬
প্রশ্নফাঁস বিতর্কে ভারতে টেলিগ্রামের নিষেধাজ্ঞা বহাল
ভারতে টেলিগ্রাম বন্ধে উদ্বেগে ডিজিটাল অধিকারকর্মীরা
ভর্তি পরীক্ষার স্বচ্ছতা ও নিরপেক্ষতা বজায় রাখতে জনপ্রিয় মেসেজিং অ্যাপ টেলিগ্রামের ওপর আরোপিত সরকারি নিষেধাজ্ঞা বহাল রেখেছেন দিল্লি হাইকোর্ট। শুক্রবার (১৯ জুন) এ রায় দেন দিল্লি আদালত। তবে অপরাধীদের পরিবর্তে সাধারণ ব্যবহারকারীরা ভোগান্তির শিকার হবে বলে নিষেধাজ্ঞার সমালোচনা করেন টেলিগ্রামের প্রতিষ্ঠাতা পাভেল দুরভ। এদিকে, রায় নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন ভারতের ডিজিটাল অধিকারকর্মীরা।
ভারতে মেডিকেল কলেজে ভর্তি পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের আশঙ্কায় কিছুদিন আগে দেশটির সরকার সাময়িকভাবে বন্ধ করে দেয় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের জনপ্রিয় অ্যাপ টেলিগ্রাম। আগামী ২১ জুন শুরু হতে যাওয়া পরীক্ষার স্বচ্ছতা ধরে রাখতে ২২ জুন পরীক্ষা শেষ হওয়া পর্যন্ত অ্যাপটি পুরোপুরে বন্ধ রাখার সিন্ধান্ত নেয় সরকার। এবং এক অভিযোগের ভিত্তিতে পরীক্ষার ফলাফল বাতিল করে তদন্ত শুরু করে প্রশাসন।
এরইমধ্যে অ্যাপটি পুনরায় চালু করতে আদালতের দ্বারস্থ হয় টেলিগ্রাম কর্তৃপক্ষ। তবে ১৯ জুন রায়ে দিল্লি হাইকোর্টের বিচারপতি তেজাস কারিয়া বলেন, জনস্বার্থে এবং পরীক্ষার সুষ্ঠু পরিবেশ নিশ্চিত করতে সরকার টেলিগ্রামের প্রবেশাধিকার সাময়িকভাবে বন্ধ করার ক্ষমতা রাখে। মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষার স্বচ্ছতা ও নিরাপত্তা রক্ষার স্বার্থে ভারত সরকার যে পদক্ষেপ নিয়েছে, তা আইনসম্মত এবং যুক্তিসঙ্গত। এবং খারিজ করে দেয়া হয় নিষেধাজ্ঞা বাতিলের আবেদনটি। এতে বহাল থাকছে টেলিগ্রামের ওপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞা।
জানা যায়, ভারত টেলিগ্রামের সবচেয়ে বড় বাজার। দেশটিতে এই অ্যাপ ব্যবহারকারী ১৫ কোটিরও বেশি। নিষেধাজ্ঞা কার্যকর হওয়ার পর টেলিগ্রাম সাময়িকভাবে অফলাইনে চলে যায় এবং অ্যাপ স্টোর থেকেও সরিয়ে নেওয়া হয়। ভারতীয় টেলিকম অপারেটরদের পাশাপাশি প্রযুক্তি জায়ান্ট গুগল এবং অ্যাপল দ্রুত সরকারি নির্দেশনা বাস্তবায়ন করে।
ভারত সরকারের দাবি, টেলিগ্রামের কিছু বিশেষ বৈশিষ্ট্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর জন্য অতিরিক্ত চ্যালেঞ্জ তৈরি করছে। বিশেষ করে নিষিদ্ধ চ্যানেল সহজে পুনরায় চালু করা, ব্যবহারকারীর পরিচয় গোপন রাখার সুবিধা এবং ফোন নম্বর ছাড়াই যোগাযোগের সুযোগ প্রশ্নফাঁসের মতো ঘটনা নজরদারি ও নিয়ন্ত্রণকে কঠিন করে তুলছে।
অন্যদিকে আদালতে টেলিগ্রামের দাবি, পরীক্ষাসংক্রান্ত অবৈধ কনটেন্টের বিরুদ্ধে সক্রিয় ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। প্রশ্নফাঁস ও সংশ্লিষ্ট অবৈধ কার্যক্রমের সঙ্গে যুক্ত ৯০০টির বেশি লিংক ও কনটেন্ট অপসারণ করা হয়েছে। সরকারের আদালতে উপস্থাপিত তথ্যে টেলিগ্রামের নেওয়া পদক্ষেপগুলোর অনেক কিছুই উল্লেখ নেই বলেও অভিযোগ অ্যাপ কর্তৃপক্ষের।
এদিকে, টেলিগ্রামের প্রতিষ্ঠাতা পাভেল দুরভ প্রকাশ্যে নিষেধাজ্ঞার সমালোচনা করে বলেন, এই পদক্ষেপে প্রকৃত অপরাধীদের পরিবর্তে সাধারণ ব্যবহারকারীরাই বেশি ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন। প্রশ্নফাঁসের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিরা অন্য প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করেও এই অপরাধ চালিয়ে যেতে সক্ষম, তবে যোগাযোগের সুযোগ হারিয়েছেন টেলিগ্রামের কোটি ব্যবহারকারী।
অন্যদিকে, আদালতের রায় নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন ডিজিটাল অধিকারকর্মীরা। জাতীয় নিরাপত্তা বা জনস্বার্থের নামে প্রযুক্তি প্ল্যাটফর্ম নিয়ন্ত্রণে সরকারের সিদ্ধান্ত নতুন বিতর্কের জন্ম দিচ্ছে বলে মনে করেন তারা।
বিশ্লেষকদের মতে, টেলিগ্রাম ও ভারত সরকারের এই আইনি লড়াই শুধু একটি অ্যাপের ভবিষ্যৎ নয়, বরং ডিজিটাল স্বাধীনতা, তথ্য নিয়ন্ত্রণ এবং সরকারি ক্ষমতার সীমা নিয়ে বৃহত্তর আলোচনারও অংশ হয়ে উঠেছে।
সূত্র: রয়েটার্স










