বন্ধ ৪৭ লাখ টিকটক-ইউটিউব অ্যাকাউন্ট
শিশুদের সামাজিক মাধ্যম ব্যবহার নিয়ন্ত্রণে ইন্দোনেশিয়ার পদক্ষেপ
টেকস্ক্রল নেটওয়ার্ক
প্রকাশ: ১৪:১০, ২৭ জুন ২০২৬
শিশুদের সামাজিক মাধ্যম ব্যবহার নিয়ন্ত্রণে ইন্দোনেশিয়ার পদক্ষেপ
ইন্দোনেশিয়ায় ১৬ বছরের কম বয়সী শিশুদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ব্যবহার নিয়ন্ত্রণে বিধিনিষেধ কার্যকর করতে যাচ্ছে দেশটির সরকার। এই ধারাবহিকতায় ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম টিকটক ও ইউটিউব ইতোমধ্যে নিষ্ক্রিয় করেছে ৪৭ লাখ শিশুর অ্যাকাউন্ট। ২৬ জুন ইন্দোনেশিয়ার যোগাযোগ ও ডিজিটাল বিষয়ক মন্ত্রী মেউত্যা হাফিদ এ তথ্য জানান।
মন্ত্রী জানান, শিশুদের অতিরিক্ত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ব্যবহার ও সাইবার বুলিংয়ের পাশাপাশি অনলাইনের বিভিন্ন ক্ষতিকর কনটেন্টর প্রভাব কমাতেই এই উদ্যোগ। তিনি বলেন, চীনা প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান বাইটড্যান্সের মালিকানাধীন টিকটক ৪১ লাখ এবং গুগলের মালিকানাধীন ভিডিও প্ল্যাটফর্ম ইউটিউব নিষ্ক্রিয় করেছে ৬ লাখ শিশুর অ্যাকাউন্ট।
দেশটির সরকার আশা করছে, শিশুদের মানসিক বিকাশে অন্যান্য সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমও একই ধরনের পদক্ষেপ নেবে। তবে টিকটক ও ইউটিউবের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে তাৎক্ষণিক কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।
এদিকে চলতি বছরের মার্চে ইন্দোনেশিয়া একটি নতুন বিধিমালা জারি করে। এই বিধিমালায়, উচ্চ ঝুঁকির আশঙ্কায় ১৬ বছরের কম বয়সী ব্যবহারকারীদের অ্যাকাউন্ট নিষ্ক্রিয় করতে বলা হয় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোর কর্তৃপক্ষদের। এই তালিকায় রয়ে এক্স (সাবেক টুইটার), মেটা প্রতিষ্ঠানের ইনস্টাগ্রাম এবং জনপ্রিয় গেমিং প্ল্যাটফর্ম রোবলক্স।
মন্ত্রী মেউত্যা হাফিদ বলেন, আমরা শুধু শিশুদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রবেশাধিকার বিলম্বিত করার পাশপাশি প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলোর আচরণেও পরিবর্তন আনা প্রয়োজন। সরকারি নির্দেশনা বাস্তবায়নে ইতোমধ্যে যাচাই করা হচ্ছে ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মগুলোর জমা দেয়া প্রতিবেদনও।
বিশেষজ্ঞদের মতে, অল্প বয়সে দীর্ঘ সময় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারের ফলে শিশুদের মানসিক স্বাস্থ্য, সামাজিক আচরণ এবং পড়াশোনায় নেতিবাচক প্রভাবের আশঙ্কা রয়েছে। তাই আগামীতে প্রযুক্তি কোম্পানিগুলোর ওপর সরকারি নিয়ন্ত্রণ আরো কঠোর হওয়ার সম্ভাবনার কথা জানায় তারা।
এদিকে, শিশুদের অনলাইন নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বিশ্বের বিভিন্ন দেশ বর্তমানে কঠোর নীতি গ্রহণ করছে। গত বছর অস্ট্রেলিয়া ১৬ বছরের কম বয়সীদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞা দিয়ে বিশ্বজুড়ে আলোচনার জন্ম দেয়। দেশটির সরকার বলেছে, অপ্রাপ্তবয়স্কদের মানসিক স্বাস্থ্য সুরক্ষায় এই পদক্ষেপ প্রয়োজন।
অস্ট্রেলিয়ার সেই উদ্যোগ নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে বিভিন্ন দেশ। এরই মধ্যে চলতি মাসে যুক্তরাজ্য সরকারও গেমিং ও লাইভ-স্ট্রিমিং প্ল্যাটফর্মসহ বিভিন্ন ডিজিটাল সেবায় শিশুদের প্রবেশ নিয়ন্ত্রণে আরও বিস্তৃত বিধিনিষেধ আনার পরিকল্পনার ঘোষণা দেয়।
সূত্র: রয়টার্স










