দর্জি দোকান থেকে নাম্বার সংগ্রহ
সাইবার অপরাধের নতুন ফাঁদ কালো জাদু
তানজির আহমেদ
প্রকাশ: ১৮:৩৩, ২৩ জুন ২০২৬ | আপডেট: ১৮:৫৪, ২৩ জুন ২০২৬
সাইবার অপরাধের নতুন ফাঁদ কালো জাদু
সাইবার জগতে এখন প্রতারণার নতুন ফাঁদ হিসেবে যুক্ত হচ্ছে কালো জাদু বা ব্ল্যাক ম্যাজিক। হোয়াটসঅ্যাপে থেকে শুরু করে ফেসবুকের মেসেঞ্জারে ম্যাসেজ দিয়ে প্রতারক চক্র হাতিয়ে নিচ্ছেন মোটা অংকের অর্থ বলে অভিযোগ উঠেছে। গোয়েন্দা পুলিশের সাইবার অ্যান্ড স্পেশাল ক্রাইম দক্ষিণ বিভাগের উপ পুলিশ কমিশনার তরিকুল ইসলাম জানান, এ বিষয়ে এখনো কোনো অভিযোগ পাওয়া যায়নি, অভিযোগ পাওয়ার পর আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে। নারীদের লক্ষ্যবস্তু করে দার্জি দোকান থেকে নাম্বার সংগ্রহ করা হচ্ছে, অপরাধ কমাতে পুলিশকে আরো সক্রিয় হওয়ার পরামর্শ সাইবার নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞ তানভীর জোহার।
যোগাযোগ কিংবা সেবার মাধ্যম হিসেবে বাড়ছে অনলাইন নির্ভরতা। দেশ ডিজিটাল হওয়ার পাশাপাশি বাড়ছে সাইবার ঝুঁকি। ব্যক্তি থেকে শুরু করে ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও সরকারি সেবা সবাই এখন ডিজিটাল সেবার ওপর নির্ভরশীল। তাই এই সাইবার জগৎ থেকে অর্থ হাতিয়ে নেয়ার বিভিন্ন নতুন কৌশলও তৈরি করছেন প্রতারকরা। বর্তমানে অনলাইন থেকে অর্থ হাতিয়ে নিতে কালো জাদুর মতো নতুন ফাঁদ তৈরি করছেন প্রতারক চক্র।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক নারী ফেসবুক ব্যবহারকারী জানান, এক ব্যক্তি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে তাকে ম্যাসেজ দিয়ে পরিচয় দেন আলেম হুজুর নামে। এবং জানান আগামীতে তার অনেক বড় বিপদ আসছে। এই বিপদ কাটাতে তাকে কিছু তাবিজ কবজের সাহায্য নিতে হবে জানিয়ে দাবি করেন ১০ হাজার টাকা।
আরেক নারীকে ওটিটি প্ল্যাটফর্ম হোয়াটসঅ্যাপে কল দিয়ে এক ব্যক্তি বলেন, বর্তমানে নারীটির ব্যক্তিগত সম্পর্ক খারাপ যাচ্ছে এটি উন্নত করতে তাকে কিছু পানি খেতে হবে ও তাবিজ কবজের সাহায্য নিতে হবে। এজন্য কাজের আগেই তাকে ডিজিটাল পেমেন্টের মাধ্যমে দিতে হবে ৫ হাজার টাকা। এমনকি এটি না করলে ওই নারী অনেক বড় বিপদের সম্মুখীন হবেন জানিয়ে বারবার কল দিতে থাকেন। এর ফাঁদে পরে ওই ব্যক্তিকে অর্থ দেয়ার পর আর তাকে হোয়াটসঅ্যাপে খুঁজে পাওয়া যায়নি। এমন ফাঁদে আরো অনেক নারী পরেছেন বলেও জানা গেছে।
গোয়েন্দা পুলিশের সাইবার অ্যান্ড স্পেশাল ক্রাইম দক্ষিণ বিভাগের উপ পুলিশ কমিশনার তরিকুল ইসলাম জানান, অনলাইন ব্যাংক হিসাব হ্যাক করা থেকে শুরু করে সাইবার বুলিংসহ অনলাইনের মাধ্যমে সংঠিত বিভিন্ন অপরাধের অভিযোগ পাওয়া যায় প্রায়ই। তবে কালো জাদুর জন্য অনলাইনে অর্থ আত্মসাৎ করার কোনো অভিযোগ এখনো পাওয়া যায়নি। অভিযোগ পাওয়া গেলে মামলার প্রেক্ষিতে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।
তিনি আরো জানান, পুলিশ সাইবার সাপোর্ট ফর ওমেন নামে একটা ফেসবুক পেজ চালু করেছে। অনলাইনের মাধ্যমে ভুক্তিভোগীরা সে পেজে অভিযোগ জানিয়ে প্রয়োজনীয় সহায়তা নিতে পারেন। একই সাথে অনলাইনের মাধ্যমে কোনো প্রকার প্রলোভনে না জড়িয়ে ব্যবহারকারীদের সর্তক থাকার আহ্বানও জানান তরিকুল ইসলাম।
এদিকে সাইবার নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞ তানভীর হাসান জোহা জানান, দেশে দেড় বছরে ২০ হাজার সাইবার বুলিংয়ের অভিযোগ জমা পড়েছে। আর গেল ৫ বছরে জমা পড়েছে বিভিন্ন ধরণের সাইবার অপরাধের ২ লাখ অভিযোগ। তবে এসব অভিযোগের ক্ষেত্রে ব্যবস্থা নেয়ার নজির কম। আবার ফেসবুক পেজেরে মাধ্যমে পুলিশের কাছে যেসব অভিযোগ জমা পড়ে সেগুলোকে গুরত্ব দেয়া হয়না। এসব কারণে অনেকে অভিযোগ দেয়াও বন্ধ করে দিয়েছেন।
আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর প্রতি ভুক্তভোগীর আস্থা কমায় অনলাইনে বাড়ছে অপরাধের প্রবণতা। ডিজিটাল অপরাধ কমাতে আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে আরো সক্রিয় হওয়ার পরামর্শ দেন তানভীর জোহা।
বিকাশ ও নগদের মতো ডিজিটাল পেমেন্টের মাধ্যমে অর্থ জমা ও উত্তোলনের জায়গাগুলো থেকে, দর্জি দোকান ও গ্রামে অবস্থিত বিভিন্ন এনজিও থেকে মোবাইল নাম্বার সংগ্রহ করছেন প্রতারক চক্র। তাই মোবাইল নাম্বার দেয়ার ক্ষেত্রে সবাইকে আরো সচেতন হতে হবে বলেও জানান তিনি।













