সোমবার, ০৫ জানুয়ারি ২০২৬

| ২১ পৌষ ১৪৩২

এনইআইআর চালুর পর সামনে আসছে ভয়ঙ্কর তথ্য

তবুও অবৈধ ফোন সচল থাকবে গ্রে ট্যাগে: তৈয়্যব

টেকস্ক্রল নেটওয়ার্ক

প্রকাশ: ২০:১৮, ৪ জানুয়ারি ২০২৬ | আপডেট: ২০:৩৫, ৪ জানুয়ারি ২০২৬

তবুও অবৈধ ফোন সচল থাকবে গ্রে ট্যাগে: তৈয়্যব

ছবি, চ্যাটজিপিটি

মোবাইল নেটওয়ার্কে লাখ লাখ ভুয়া ইন্টারন্যাশনাল মোবাইল ইকুইপমেন্ট আইডেন্টিটি বা আইএমইআই থাকার দাবি করেছেন  ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী ফয়েজ আহমদ তৈয়্যব।  উদাহরণ দিয়ে ফেসবুকে দেয়া এক বার্তায় তিনি এ তথ্য জানান।  তার দাবি,  “1111111111111”, “0000000000000”, “9999999999999” এবং এ রকম একই ধরনের প্যাটার্নের এসব আইএমইআই থাকলেও  ন্যাশনাল ইকুইপমেন্ট আইডেনটিটি রেজিস্টার বা এনইআইআর চালুর এই পর্যায়ে  সরকার এই সব আইএমইআই ব্লক করবে না।

লক্ষ লক্ষ নাগরিক এসব নিম্নমানের নকল ফোন ব্যবহার করছেন জানিয়ে  ফয়েজ আহমদ তৈয়্যব লেখেন , এসব ফোনের রেডিয়েশন টেস্ট,  স্পেসিফিক এবজারবেশন রেট বা এসএআর-সহ বিভিন্ন ধরনের নিরাপত্তা টেস্ট কখনও হয়নি । চারটি মোবাইল অপারেটরের নেটওয়ার্কে ব্যাপকভাবে সচল এসব ফোন ছড়িয়ে রয়েছে। জনজীবনে অসুবিধা তৈরি হয় এমন কোনো পদক্ষেপে সরকার যাবে না। এসব ফোন বন্ধ  না করে এ সব ফোন, গ্রে হিসেবে ট্যাগ করা হবে বলেও জানান টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী ।

বিগত ১০ বছরের সর্বমোট সংখ্যা হিসেবে, শুধুমাত্র একটি আইএমইআই নাম্বার 99999999999999 এ পাওয়া গেছে ৩ কোটি ৯১ লক্ষ ২২ হাজার ৫৩৪টি। বিভিন্ন কম্বিনেশন (Document ID+MSISDN+IMEI)। স্মার্টফোনের পাশাপাশি এ ধরনের আইএমইআই  বিভিন্ন আইওটি ডিভাইসেরও হতে পারে। যদিও অপারেটর মোবাইল ডিভাইস, সিম সংযুক্ত ডিভাইস এবং আইওটি ডিভাইসের আইএমইআই আলাদা করতে পারে না। যেমন হতে পারে, সিসিটিভি  বা এ ধরনের ডিভাইস হয়ত একই আইএমইআই নম্বরে আনা হয়েছে।  বৈধভাবে আমদানি করা আইওটি ডিভাইস গুলোকে আলাদাভাবে ট্যাগের কাজ শুরু করেছে, এমন তথ্যও জানান ফয়েজ আহমদ তৈয়্যব।

শীর্ষ কিছু আইএমইআই নম্বরের একটা তালিকা তৈরি করেছে  নিযন্ত্রক সংস্থা বিটিআরসি, তাতে দেখা যাচ্ছে , সাড়ে ১৯ লাখ ডিভাইসের আইএমইআই নাম্বার হচ্ছে 440015202000; যেগুলো ডুপ্লিকেট হিসাবে আনা হয়েছে। এভাবে-

35227301738634 নাম্বারে সাড়ে সতেরো লাখ

35275101952326 নাম্বারে সোয়া পনেরো লাখ

শুধুমাত্র ১ ডিজিটের শূন্য আইএমইআই নাম্বারে আছে ৫ লাখ ৮৬ হাজার ৩৩১টি।

নীচের সংখ্যাগুলো খেয়াল করলে ১ লক্ষের উপর নেটওয়ার্কে সচল আছে এরকম ফেক এবং ডুপ্লিকেট IMEI দেখলে আপনি নিজেই চমকে উঠবেন।

440015202000 -> 1949088

35227301738634 -> 1758848

35275101952326 -> 1523571

0 -> 586331

35464802000025 -> 539648

35868800000015 -> 532867

86740002031661 -> 463017

86740002031662 -> 413814

13579024681122 -> 276907

35210801000230 -> 213789

15151515151515 -> 210037

35975900251493 -> 194782

35868800009385 -> 190393

35505002098451 -> 168560

35945478498188 -> 158556

35464802000000 -> 150546

35391902568013 -> 147065

35973800955340 -> 127184

35325905457468 -> 126596

35968800000015 -> 124440

35827311738634 -> 114781

35448501567207 -> 114671

86301402000005 -> 106314

35411208064429 -> 103281

ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী বলছেন, আমরা অনুমান করেছি যে ক্লোন ও নকল ফোনের ছড়াছড়ি আছে, তবে বুঝতে পারিনি ভয়াবহতা এতটা গভীর।

বাংলাদেশ ব্যাংকের ২০২৪ সালের একটি প্রতিবেদন মতে, ৭৩ শতাংশ ডিজিটাল জালিয়াতি ঘটে অনিবন্ধিত ডিভাইসে। বিটিআরসি ও এমএফএস প্রতিষ্ঠানগুলোর যৌথ তথ্য অনুযায়ী, ২০২৩ সালে e-KYC জালিয়াতির ৮৫ শতাংশ ঘটেছিল অবৈধ ফোন, কিংবা পুনঃপ্রোগ্রাম করা হ্যান্ডসেট ব্যবহার করে। ২০২৩ সালে ১,৮ লাখ ফোন চুরির রিপোর্ট হয় (রিপোর্ট হয়নি এমন সংখ্যা আছে আরও কয়েক লক্ষ), এসব ফোনের অধিকাংশই উদ্ধার করা যায়নি।

বাংলাদেশের নাগরিকদের কাছে এভাবে আন-অফিশিয়াল নতুন ফোনের নামে নকল ফোন বিক্রি করা হয়েছে, এমন প্রতারণা অভাবনীয়, নজিরবিহীন। এই চক্রের লাগাম টানা জরুরি বলেও জানান ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী ।

সূত্র: ফয়েজ আহমদ তৈয়্যবের ফেসবুক হ্যান্ডেল

এ সম্পর্কিত খবর
আরও পড়ুন