প্রযুক্তি বিশ্লেষকের বিশ্লেষণ
এআই দৌঁড়ে বিশ্বসেরা হওয়ার পথে অ্যাপল কি পিছিয়ে যাচ্ছে?
টেকস্ক্রল
প্রকাশ: ১৩:১৯, ৮ জুন ২০২৬ | আপডেট: ১৩:২৩, ৮ জুন ২০২৬
এআই দৌঁড়ে বিশ্বসেরা হওয়ার পথে অ্যাপল কি পিছিয়ে যাচ্ছে?
মাঝে মাঝে অ্যাপলের কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার প্রোগ্রাম সিরির তথ্যের পরিধি একটু বেশিই সীমিত থাকে। এমনকি ব্যবহারকারী এক পর্যায়ে হতাশায় রেগেও যেতে পারেন। এই ডিজিটাল সহকারীকে প্রশ্ন করে যদি এমন উত্তর পাওয়া যায়, যেমন-আপনি কি চান আমি এর উত্তর দিতে চ্যাটজিপিটি ব্যবহার করি? সিরিকে এক প্রশ্ন করে এমনই উত্তর পেয়েছেন ল্যান্স উলানফ। তার প্রশ্ন ছিল, ডব্লিউ.ডব্লিউ.ডি.সি-২০২৬ এ কি প্রত্যাশা করা উচিৎ? সিরির উত্তর ছিল-আপনি কি চান আমি চ্যাটজিপিটি ব্যবহার করে এর উত্তর দিই?
এই উত্তরের পেছনে আছে শুধু নিরেট বিভ্রান্তি আর সর্বজ্ঞ বিগ ব্রাদার এআই-এর প্রতি আহ্বান।
সাইবার হুমকি ঠেকাতে এআই পর্যালোচনায় নতুন উদ্যোগ ট্রাম্প প্রশাসনের
অথচ এক সময়ে অ্যাপল একটি নতুন, আকর্ষণীয় এবং আরও অনেক বেশি বুদ্ধিমান ও আত্মসচেতন সিরি-র আশ্বাস দিয়েছিল। অবশ্য এর পরের কয়েক বছরে এআই জগৎ অনেক বেশি এগিয়েছে।
ব্যবহারকারীর ফোন, তাকে কতোটা বোঝে, সেটি এখন ধীরে ধীরে প্রধান বিষয় হয়ে উঠছে। যেমন গুগলের জেমিনাই এখন সব অ্যানড্রয়েড ফোনেই আছে। এর পাশাপাশি ইমেইল, ডকুমেন্ট, ছবি সম্পাদনা, কেনাকাটা, পোশাক পছন্দ করা, খাদ্যাভ্যাস সবকিছুতেই একজন ব্যবহারকারী তার ফোনের ওপর অনেকটাই নির্ভর করতে পারেন। কারণ অনেককিছুই একসূত্রে গেঁথে ফেলেছে গুগল।
কি আছে যুক্তরাষ্ট্রের নতুন সামরিক প্রকল্প গোল্ডেন ডোমে
নিরাপত্তা ও গোপনীয়তার নীতিমালার প্রতি অ্যাপলের আনুগত্য প্রশংসনীয় হলেও, তা এখন পুরোনো ধাঁচের বলে মনে হতে শুরু করেছে। কেউ যদি এআই ব্যবহার করে, তবে আশা করবে যে এটি তার সম্পর্কে তার কাছে থাকা তথ্যের ভাণ্ডারের উপর ভিত্তি করে ব্যবহারকারীর উদ্দেশ্য এবং প্রতিটি অনুরোধের প্রেক্ষাপট বুঝতে পারবে। অথচ কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার দ্রুত পরিবর্তনশীল জগতে অ্যাপলের ধীর, স্থির পন্থা তাদের কোনো উপকারে আসছে না। সতর্কতার প্রশংসা অবশ্যই করতে হবে। তবে অ্যাপলের সতর্কতা এখন একটু বাড়াবাড়ি মনে হচ্ছে অনেকের। এর প্রভাব পড়ছে অ্যাপল ইন্টেলিজেন্সের ওপর। এখানে আছে আত্মসচেতনতার অভাব এবং এক নির্বোধ সিরি, যে উত্তর পাওয়ার জন্য অন্যদের ওপর নির্ভর করে।
এআই জগতের প্রতিদ্বন্দ্বিতায় টিকতে হলে নিয়মকানুন আর সতর্কতা হল বোকামি। কারণ চ্যাটজিপিটি, জেমিনাই, ক্লডের মতো এআই দৈত্যগুলো মানুষের চিন্তার গতির চেয়েও দ্রুত চলতে শিখে গেছে। তাই আরও উন্নত ফ্রন্টিয়ার মডেল বাজারে আনা গেলেই, প্রতিযোগীদের ছাড়িয়ে যাওয়া যাবে, অন্যথায় নয়।
এখন অ্যাপলের উচিত সব দ্বিধা ঝেড়ে ফেলে নতুন সিরি-কে একটি পূর্ণাঙ্গ সংস্করণ হিসেবে বাজারে আনা এবং এরপর যেকোনো সমস্যা সমাধানের জন্য এর ব্যাপক উন্নতি করা। অবশ্যই, এটা অ্যাপলের রীতি নয়, এবং এ ধরনের সতর্কতা তাদের পক্ষেই সবসময় কাজ করেছে। কিন্তু এখন পরিস্থিতি ভিন্ন। প্রযুক্তির ইতিহাসের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্র এআই জগতে অ্যাপলকে এতটা পিছিয়ে পড়তে আগে কখনো দেখা যায়নি।
যদি এমন হতো, ওয়ার্ল্ড ওয়াইড ওয়েবের ব্যাপক প্রসারের এক দশক পরেও অ্যাপলের কোনো ওয়েব ব্রাউজার না থাকত এবং ইন্টারনেটে কানেক্ট হওয়া এবং সার্চের জন্য তাদের নিজস্ব প্রোটোকলও ব্যবহার না করত। হয়তো তারা ভাইরাসে আক্রান্ত হওয়া নিয়ে চিন্তা করতো কিংবা ভাবতো যে ইন্টারনেট একটি অনিয়ন্ত্রিত জায়গা। তাহলে কেমন হতো?
এমনটা না ঘটার কারণ হল, অ্যাপল সাধারণত খুব বিচক্ষণতার সাথে জানে কখন এবং কীভাবে একটি বাজারে ঢুকতে হয়। অনেক সময় দেখা গেছে যে, প্রতিদ্বন্দ্বিদের হোঁচট খাওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করেছে অ্যাপল, এরপর সুযোগ বুঝে সবচেয়ে ভালো পণ্যটি নিয়ে হাজির হয়ে বাজার দখল করেছে। তবে জেনারেটিভ এআই কোনো ব্যর্থ বা অপূর্ণাঙ্গ ক্ষেত্র নয়, যাকে অ্যাপল নতুন করে উদ্ভাবন ও পুনরুজ্জীবিত করতে পারে। অ্যাপল এটা জানে, কিন্তু মনে হচ্ছে তারা থমকে গেছে কিংবা বিভ্রান্ত।
সূত্র: টেকরাডার










