সুইজারল্যান্ডের গবেষণা
ইলেকট্রনিক বর্জ্য থেকে সোনা বের করার নতুন পদ্ধতি
টেক স্ক্রল
প্রকাশ: ১৫:১৪, ১৩ মার্চ ২০২৬
বর্জ্য থেকে সোনা বের করার নতুন পদ্ধতি
ই-বর্জ্য। শব্দটি এখন অনেকের কাছেই পরিচিত। বাংলাদেশে পুরোনো জাহাজ ভাঙা শিল্পের কথা সবাই জানে। সেখান থেকে সবচেয়ে বেশি যে ধাতু আহরণ করা হয় তা হচ্ছে লোহা। জাহাজ সংখ্যায় কম। অথচ ই-বর্জ্য সংখ্যায় এতো বেশি যে, এটি একটি ক্ষুদ্র শিল্পে পরিণত হয়েছে।
ইলেকট্রনিক ডিভাইস যেমন কম্পিউটার, লেপটপ, মোবাইল ফোন ইত্যাদির মাদারবোর্ড, বিভিন্ন সার্কিট যখন নষ্ট হয়ে যায়, তাকে বলে ই-বর্জ্য। এগুলো থেকে নানা মূল্যবান জিনিস পাওয়া যায়। সার্কিট বোর্ড থেকে প্লাস্টিক গুড়া, তামা, রূপা এমনকি স্বর্ণ। যদিও এই স্বর্ণ খুবই কম পরিমানে ব্যবহার করা হয়। প্রশ্ন আসতে পারে যে স্বর্ণ কেন ব্যবহার হয়? কারণ এটি বিদ্যুৎ পরিবহনের জন্য খুবই ভালো ধাতু। এতে মরিচাও পড়ে না, ফলে ডিভাইস দীর্ঘদিন ভালো থাকতে পারে।
নগদ ইসলামিক: ফোন থেকেই দেয়া যাচ্ছে জাকাত ও অনুদান
ই-বর্জ্য থেকে মূল্যবান ধাতু উদ্ধার বাংলাদেশেও হয়। গাজীপুরেই এমন একটি কারখানা আছে। তবে স্বর্ণ উদ্ধার কিছুটা কঠিন। এতে ব্যয়ও বেশি। তাই লাভের পরিমান কমে যায়। সমস্যাটির সমাধানে এগিয়ে এসেছেন সুইজারল্যান্ডের ইটিএইচ জুরিখের বিজ্ঞানীরা। ই-বর্জ্য থেকে স্বর্ণ উদ্ধারের একটি টেকসই পদ্ধতি বের করেছেন তারা। তবে অবাক করার ঘটনা হলো, নতুন প্রক্রিয়ায় বিজ্ঞানীরা যে কাঁচামাল ব্যবহার করেছেন, তাও ফেলে দেয়া জিনিস থেকেই। ছানার পানির মতো ডেইরি উপজাত থেকে যে প্রোটিন পাওয়া যায়, তা-ই এখানে মূল কাঁচামাল। এ পদ্ধতিতে ২০টি মাদারবোর্ড থেকে সাড়ে চারশো মিলিগ্রাম ২২ ক্যারেট স্বর্ণ বের করতে সক্ষম হয়েছেন গবেষকরা।
ভয়ঙ্কর ক্ষতি করছে পোড়া স্যাটেলাইট
বিজ্ঞানীরা উচ্চ তাপমাত্রা ও অ্যাসিড দিয়ে ছানার পানির প্রোটিনকে ভেঙে, অ্যামাইলয়েড ফাইব্রিল নামে ছোট ছোট তন্তু তৈরি করেছেন। এসব তন্তু ন্যানোমিটার আকৃতির। পরে এগুলোকে স্পঞ্জে রূপান্তর করা হয়। মাদারবোর্ডের ধাতব অংশ গলিয়ে যে দ্রবণ পাওয়া যায়, সেখানে স্পঞ্জটি ডুবিয়ে রাখা হয়। এটি তখন চুম্বকের মতো স্বর্ণের কণাকে টেনে নেয়। রাসায়নিকের পরিবর্তে জৈব উপাদান ব্যবহার করে স্বর্ণ বের করার এ পদ্ধতি বেশ লাভজনক।
ইটিএইচ জুরিখের অর্থনৈতিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, ৪৫০ মিলিগ্রাম ২২ ক্যারেট স্বর্ণের দাম, এটি বের করতে যে ব্যয় হয় তার চেয়ে অনেক বেশি। এখনকার যে স্বর্ণ উদ্ধার পদ্ধতি, তার চেয়ে নতুন পদ্ধতির জ্বালানি ও কাঁচামালের খরচ প্রায় ৫০ গুণ কম।
সূত্র: টাইমস অব ইন্ডিয়া













