গতি এখন বছরে ২৮ কিলোমিটার
অস্বাভাবিক গতিতে আরও সরে গেছে চৌম্বকীয় উত্তর মেরু
টেক স্ক্রল
প্রকাশ: ১৫:৩৭, ২০ মার্চ ২০২৬
পৃথিবীর চৌম্বকীয় মেরু
১৮৩১ সালে কানাডার বুথিয়া উপদ্বীপে প্রথমবার চৌম্বকীয় উত্তর মেরু শনাক্ত করেন ব্রিটিশ অভিযাত্রী জেমস ক্লার্ক। তখন থেকেই বিজ্ঞানীরা এর অবস্থান মেপে আসছেন সময়ে সময়ে। তবে সেই অবস্থানের পালে যেন হাওয়া লেগেছে। আগের জায়গায় স্থির নেই চৌম্বকীয় উত্তর মেরু। কয়েক দশক ধরে এটি কানাডা থেকে সাইবেরিয়ার দিকে ছুটছে। এরই মধ্যে পার করে ফেলেছে কানাডার সীমানা।
যুক্তরাজ্য ও ডেনমার্কের গবেষকরা এ স্থান পরিবর্তনের কারণ খুঁজে বের করেছেন। তাদের দাবি, পৃথিবীর কেন্দ্রের কাছে থাকা দুটি শক্তিশালী চৌম্বকীয় তরঙ্গের মধ্যে চলা এক লড়াইয়ের ফলে সরে যাচ্ছে চৌম্বকীয় উত্তর মেরু। নেচার জিওসায়েন্স জার্নালে তাদের গবেষণাপত্র প্রকাশ করা হয়েছে।
চরম দুর্যোগেও লক্ষ্যভেদে সক্ষম যে মার্কিন স্মার্ট বোমা
পৃথিবীর কেন্দ্রের ঠিক বাইরে আছে গলিত লোহা। এর মাধ্যমেই চৌম্বক ক্ষেত্র তৈরি হয়। এ তরল লোহার প্রবাহ একটি গ্রহের চৌম্বক মেরুর অবস্থান বদলে ফেলতে পারে। পৃথিবীর জন্মের পর চৌম্বকীয় উত্তর ও দক্ষিণ মেরু অনেকবার তাদের অবস্থান বদলেছে। তবে এখনকার বিষয়টি আলাদা। কারণ, এর অস্বাভাবিক গতি। ১৯৯৯ থেকে ২০০৫ সালের মধ্যে চৌম্বকীয় উত্তর মেরুর সরে যাওয়ার গতি বছরে সর্বোচ্চ ৯ মাইল থেকে এক লাফে পৌঁছে যায় ৩৭ মাইলে। এ গবেষণায় ইউরোপীয় স্পেস এজেন্সির স্যাটেলাইট মিশন সোয়ার্মের ২০ বছরের তথ্য বিশ্লেষণ করা হয়েছে।
১৯৭০ থেকে ১৯৯৯ সালের মধ্যে পৃথিবীর কেন্দ্রের কাছে গলিত লোহার প্রবাহে পরিবর্তন হয়। গবেষকরা বলছেন, এ পরিবর্তনের কারণে কানাডার নিচে থাকা বিশাল চৌম্বকীয় ক্ষেত্রটি ২০০০ সালের শুরুর দিকে ধীরে ধীরে লম্বাটে হয়ে যায়। এতে পৃথিবীর উপরিভাগে ওই অঞ্চলের চৌম্বকীয় শক্তি দুর্বল হয়ে পড়ে।
পৃথিবীর ভয়ঙ্কর ক্ষতি করছে পোড়া স্যাটেলাইট
একসময় কানাডার নিচে থাকা গলিত পদার্থের পিণ্ডটি দুই ভাগে বিভক্ত হয়ে, শক্তিশালী অংশটি সাইবেরিয়ার নিচে থাকা পিণ্ডটির দিকে সরে যায়। এ ঘটনাই চৌম্বকীয় উত্তর মেরুকে সাইবেরিয়ার আরও কাছে ঠেলে দেয়। ২০১৭ সালে চৌম্বকীয় উত্তর মেরুটি আসল ভৌগোলিক মেরুর ২৪০ মাইলের মধ্যে চলে আসে। বর্তমানে চৌম্বকীয় উত্তর মেরুটি কানাডিয়ান আর্কটিক অঞ্চল ছেড়ে বছরে প্রায় ২৮ মাইল বেগে সাইবেরিয়ার দিকে যাচ্ছে। অবশ্য চৌম্বকীয় উত্তর মেরু ভৌগলিক উত্তর মেরু থেকে আলাদা হওয়ায়, এই পরিবর্তনের প্রভাব খুব সহজে বোঝা যায় না।













