মঙ্গলবার, ১৪ এপ্রিল ২০২৬

| ৩০ চৈত্র ১৪৩২

ইউরোপের গবেষণা

হেডফোনেও ক্যান্সারের ঝুঁকি, মিলল ক্ষতিকর উপাদান

টেক স্ক্রল

প্রকাশ: ১২:৫৫, ২২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ | আপডেট: ১৫:৫৪, ২২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

হেডফোনেও ক্যান্সারের ঝুঁকি, মিলল ক্ষতিকর উপাদান

হেডফোনেও ক্যান্সারের ঝুঁকি

ইউরোপের গবেষণা

গবেষণাটি ইউরোপের। গবেষকদের দাবি, জনপ্রিয় ব্র্যান্ডের হেডফোনে ক্ষতিকর এমন রাসায়নিক আছে যা ক্যান্সারের ঝুঁকি বাড়ায়। এছাড়া অন্যান্য রোগেরও ঝুঁকি তৈরি হয়। ‘টক্স-ফ্রি লাইফ ফর অল’ নামে একটি প্রকল্পের অধীনে এই গবেষণা হয়েছে।

 বাংলালিংকের হাই-ভ্যালু লয়্যালটি পোর্টফোলিও চালু

এই গবেষণায়, ৮১টি ইন-ইয়ার ও ওভার-ইয়ার হেডফোন পরীক্ষা করা হয়। প্রতিটি হেডফোনে এমন রাসায়নিক শনাক্ত হয়েছে, যা মানুষের হরমোন–ব্যবস্থাকে ব্যাহত করে। প্যানাসনিক, স্যামসাং, বোস ও সেনহাইজারের মতো ব্র্যান্ডের হেডফোনেও এসব ক্ষতিকর উপাদান পাওয়া গেছে।

দীর্ঘ সময় হেডফোন ব্যবহার করলে, এসব রাসায়নিক মানুষের ত্বকের সংস্পর্শে চলে আসতে পারে বলে আশঙ্কা গবেষকদের। গবেষকেরা হরমোন ব্যাহত করে এমন রাসায়নিকের উপস্থিতি পরীক্ষা করেছেন। এতে বিসফেনল–এ (বিপিএ) এবং বিসফেনল–এস (বিপিএস) নামের উপাদান পাওয়া গেছে, যেগুলোকে ‘চিরস্থায়ী রাসায়নিক’ বলা হয়। এই দুই রাসায়নিক, ওয়ানটাইম প্লাস্টিক পণ্যেও পাওয়া যায়। এই উপাদানগুলো মানুষের শরীরে, নারী হরমোন ইস্ট্রোজেনের মতো আচরণ করতে পারে। এর ফলে মেয়েদের বয়ঃসন্ধিকাল আগেভাগে শুরু হওয়া, পুরুষদের ক্ষেত্রে হরমোনগত পরিবর্তন এবং দীর্ঘ মেয়াদে ক্যানসারের ঝুঁকি বাড়ার আশঙ্কা থাকে।

 ইউটিউবে টেক স্ক্রল

গবেষণায় হেডফোনগুলোর প্রায় ৯৮ শতাংশেই ক্ষতিকর বিপি-এ পাওয়া গেছে। বিপিএস শনাক্ত হয়েছে ৭৫ শতাংশের বেশি নমুনায়। কিছু হেডফোনে এসব রাসায়নিক প্রতি কেজিতে সর্বোচ্চ ৩১৫ মিলিগ্রাম পর্যন্ত ছিল। অথচ এর নিরাপদ সীমা বা টক্সিসিটি লেভেল কেজিপ্রতি ১০ মিলিগ্রাম। গবেষকেরা বলেন, দীর্ঘ সময় কানে লাগিয়ে রাখার কারণে হেডফোন ব্যবহারে ত্বক এসব রাসায়নিক শরীরে প্রবেশের একটি গুরুত্বপূর্ণ পথ হিসেবে পরিণত হতে পারে।

বিপিএ ও বিপিএস রাসায়নিক উপদান, প্লাস্টিক থেকে ঘামের মধ্যে মিশে যায়। পরে ত্বকের মাধ্যমে শরীরে শোষিত হতে পারে। তাই খেলা কিংবা শরীরচর্চার সময় ইন-ইয়ার হেডফোন ব্যবহারে ঝুঁকি বেশি। বিসফেনলের পাশাপাশি কিছু হেডফোনে ফথালেট নামের রাসায়নিকও মিলেছে, যা প্রজননক্ষমতার ক্ষতি করতে পারে। এছাড়া ক্লোরিনযুক্ত প্যারাফিন শনাক্ত হয়েছে, যা লিভার ও কিডনির ক্ষতি করতে পারে। তবে এসব উপাদান বেশির ভাগ ক্ষেত্রে খুব সামান্যই পাওয়া গেছে।

সূত্র: দ্যা গার্ডিয়ান

এ সম্পর্কিত খবর
আরও পড়ুন