বুধবার, ০৭ অক্টোবর ২০২৬

| ২০ আশ্বিন ১৪৩৩

প্রাতিষ্ঠানিক দক্ষতা মূল্যায়ন

অর্থ মন্ত্রণালয়ের মূল্যায়নে দ্বিতীয় অবস্থানে বিটিআরসি

টেকস্ক্রল নেটওয়ার্ক

প্রকাশ: ২০:৫৪, ৫ অক্টোবর ২০২৬ | আপডেট: ২০:৫৮, ৫ অক্টোবর ২০২৬

অর্থ মন্ত্রণালয়ের মূল্যায়নে দ্বিতীয় অবস্থানে বিটিআরসি

অর্থ মন্ত্রণালয়ের মূল্যায়নে দ্বিতীয় অবস্থানে বিটিআরসি

সুশাসন প্রতিষ্ঠা, প্রাতিষ্ঠানিক দক্ষতা বৃদ্ধি ও জনসেবা নিশ্চিতকরণে পারফরম্যান্সের ভিত্তিতে অর্থ মন্ত্রণালয়ের মনিটরিং সেলের ইনডিপেনডেন্ট পারফরম্যান্স ইভালুয়েশন (আইপিই) প্রতিবেদনে দ্বিতীয় স্থান অর্জন করেছে বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রক কমিশন (বিটিআরসি)। 

২০২৩-২৪ অর্থবছরের জন্য বাছাই করা ৩০টি রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠান ও স্বায়ত্তশাসিত সংস্থার মধ্যে ৩ দশমিক ১৭ স্কোর নিয়ে এ অবস্থান অর্জন করেছে টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন।

গত ৪ অক্টোবর বিটিআরসির মহাপরিচালক মো. মেহেদি-উল-সহিদের হাতে আনুষ্ঠানিকভাবে স্বীকৃতি ও সম্মাননা ক্রেস্ট তুলে দেন অর্থ মন্ত্রণালয়ের মনিটরিং সেলের মহাপরিচালক রহিমা বেগম।

অর্থ বিভাগের মনিটরিং সেলের স্ট্রেটেনিং অব স্টেট ওনড এন্টারপ্রাইজ গভর্নেন্স (Strengthening of State-owned Enterprises Governance)  শীর্ষক স্কিমের আওতায় এ মূল্যায়ন করা হয়। অর্থ মন্ত্রণালয়ের মনিটরিং সেল ও

সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে গঠিত ইনডেপেনডেন্ট ইনডিপেনডেন্ট পারফরম্যান্স ইভালুয়েশন কমিটির (Independent Performance Evaluation Committee, IPEC) সার্বিক তত্ত্বাবধানে মূল্যায়নটি পরিচালিত হয়।
প্রতিষ্ঠানগুলোর আর্থিক ব্যবস্থাপনা, করপোরেট সুশাসন, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা, পরিচালন দক্ষতা এবং জনস্বার্থমূলক নীতি বাস্তবায়নসহ বিভিন্ন সূচকের ভিত্তিতে এ মূল্যায়ন করা হয়েছে।

বিটিআরসি জানিয়েছে, টেলিযোগাযোগ খাতের উন্নয়ন, সুশাসন ও গ্রাহকসেবার মানোন্নয়নের পাশাপাশি সরকারের রাজস্ব আহরণেও কমিশন ভূমিকা পালন করে আসছে। অর্থ বিভাগের মনিটরিং সেল নির্ধারিত রাজস্ব আহরণের লক্ষ্যমাত্রার তুলনায় কমিশন ধারাবাহিকভাবে বেশি রাজস্ব আদায় করেছে।

২০২৩-২৪ অর্থবছরে বিটিআরসির রাজস্ব আহরণের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৩ হাজার ৫৫৫ কোটি টাকা। এর বিপরীতে ওই অর্থবছরে রাজস্ব আহরণ হয়েছে ৪ হাজার ৪৩৪ কোটি টাকা। এ ছাড়া প্রতিষ্ঠার পর থেকে জুন ২০২৫ পর্যন্ত কমিশনের মোট রাজস্ব আহরণের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৭৫ হাজার ৮৮২ কোটি টাকা। বিপরীতে আদায় হয়েছে ৮১ হাজার ৮৯১ কোটি টাকা।

গ্রাহকসেবা ও সুশাসন নিশ্চিত করতে বিটিআরসি বিভিন্ন কার্যক্রম পরিচালনা করছে। এর মধ্যে রয়েছে ডিজিটাল সেবার সম্প্রসারণ, তরঙ্গ ব্যবস্থাপনা, ডিজিটাল অবকাঠামো উন্নয়নে গাইডলাইন ও নীতিমালা প্রণয়ন, ভয়েস ও ইন্টারনেট ট্যারিফ ব্যবস্থাপনা, ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেটে ‘এক দেশ, এক রেট’ বাস্তবায়ন, গণশুনানি, কোয়ালিটি অব সার্ভিস (QoS) যাচাই, মোবাইল টাওয়ারের রেডিয়েশন পরিমাপ, ওয়ান-স্টপ সার্ভিস, অবৈধ টেলিযোগাযোগ সরঞ্জাম প্রতিরোধে অভিযান এবং গ্রাহকদের অভিযোগ নিষ্পত্তি।

এ ছাড়া স্বচ্ছ লাইসেন্সিং ও রেগুলেটরি কাঠামো, গ্রাহক স্বার্থ ও সেবা মনিটরিং, গ্রাহক অধিকার ও অভিযোগ ব্যবস্থাপনা, সাশ্রয়ী ও যুক্তিসংগত মূল্য নির্ধারণ এবং অবকাঠামো ও নেটওয়ার্কের দক্ষতা বৃদ্ধির বিভিন্ন কার্যক্রমও পরিচালনা করছে কমিশন।

বিটিআরসির তথ্য অনুযায়ী, ডিজিটাল নিরাপত্তা ও ডিজিটাল লিটারেসি উন্নয়ন, সামাজিক দায়বদ্ধতা তহবিলের (SOF) মাধ্যমে প্রত্যন্ত অঞ্চলে সেবা ও টেলিযোগাযোগ অবকাঠামো সম্প্রসারণ এবং ইন্টারন্যাশনাল টেলিকমিউনিকেশন ইউনিয়ন (International Telecommunication Union, ITU) ও এশিয়া-প্যাসিফিক টেলিকমিউনিটির (Asia-Pacific Telecommunity, APT) মতো আন্তর্জাতিক সংস্থার সঙ্গে কাজ করাও কমিশনের কার্যক্রমের অংশ।

বিটিআরসি বলছে, এ মূল্যায়নে দ্বিতীয় স্থান অর্জন ভবিষ্যতে টেলিযোগাযোগ খাতের উন্নয়ন, সুশাসন, গ্রাহকসেবার মানোন্নয়ন ও রাজস্ব আহরণে কমিশনের কার্যক্রম আরও জোরদারে ভূমিকা রাখবে।
 

এ সম্পর্কিত খবর
আরও পড়ুন