ভারতকে ব্যবসার সুযোগ
বেসরকারি সাবমেরিন ক্যাবল প্রতিস্থাপনে ইন্টারনেটের দাম কমবে অর্ধেক
টেকস্ক্রল নেটওয়ার্ক
প্রকাশ: ২২:৩৭, ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | আপডেট: ২৩:০৬, ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬
বেসরকারি সাবমেরিন ক্যাবল প্রতিস্থাপনে ইন্টারনেটের দাম কমবে অর্ধেক
দেশে বেসরকারি সাবমেরিন ক্যাবল প্রতিস্থাপনে ইন্টারনেটের দাম ৪০ থেকে ৫০ শতাংশ কমবে। তবে ভারতকে দেশে ব্যবসার সুযোগ করে দিতে বেসরকারি সাবমেরিন ক্যাবল প্রতিষ্ঠান গড়তে অন্তরায় বাংলাদেশ সাবমেরিন ক্যাবলস পিএলসি (বিএসসিপিএলসি) বলে দাবি করেন ইন্টারনেট সেবাদাতা প্রতিষ্ঠাগুলোর সংগঠন আইএসপিএবির সভাপতি আমিনুল হাকিম।
মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) সকালে রাজধানীর একটি হোটেলে সবার জন্য সাশ্রয়ী ইন্টারনেট টেক জায়েন্টদের বাংলাদেশ বিনিয়োগে বাধা ও সমাধান কোথায় শীর্ষক আলোচনা সভায় তিনি এ কথা বলেন। সভার আয়োজন করে টেলিকম অ্যান্ড টেকনোলজি রিপোটার্স নেটওয়ার্ক বাংলাদেশ টিআরএনবি।
সভায় আইএসপিএবির সভাপতি আমিনুল হাকিম বলেন, বর্তমানে ইন্টারনেট সেবাদাতা প্রতিষ্ঠান আইএসপিরা প্রতি এমবিপিএস ব্যান্ডউইথ কিনছে ১২০ থেকে ১৩০ টাকায়। তবে বেসরকারি সাবমেরিন ক্যাবল বাজারে এলে আন্তর্জাতিক ব্যান্ডউইথের সরবরাহ বাড়ার পাশাপাশি প্রতিযোগিতামূলক বাজার তৈরি হবে। এতে ইন্টারনেটের দাম অর্ধেকে নেমে আসবে। এসময় আইএসপিরা প্রতি এমবিপিএস ব্যান্ডউইথ ৬০ থেকে ৭০ টাকায় কিনতে পারবে।
তবে দেশে সাশ্রয়ী ও নির্ভরযোগ্য ইন্টারনেট নিশ্চিত করার পথে প্রধান অন্তরায় হয়ে দাঁড়িয়েছে রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ সাবমেরিন ক্যাবলস পিএলসির (বিএসসিপিএলসি) মনোপলি বা একচেটিয়া আধিপত্য বলে উল্লেখ করেন তিনি।
আমিনুল হাকিম বলেন, বর্তমানে দেশে ব্যান্ডউইথের চাহিদা ১৩ হাজার ৫০০ জিবিপিএস। বাংলাদেশ সাবমেরিন ক্যাবলস পিএলসির পর্যাপ্ত ব্যান্ডউইথ সরবরাহের সক্ষমতা না থাকায় ভারতের আন্তর্জাতিক টেরিস্ট্রিয়াল ক্যাবল (আইটিসি) থেকে আমদানি করতে হচ্ছে চাহিদার ৬০ শতাংশ ব্যান্ডউইথ। আগামী ২০২৭ সালে দেশের ব্যান্ডউইথের চাহিদা বেড়ে দাঁড়াবে ১৭ হাজার জিবিপিএস এবং ২০৩০ সালে হবে ৫৪ হাজার জিবিপিএস।
এই চাহিদা মেটানোর সক্ষমতা বিএসসিপিএলসি না থাকায় ভারতের ওপর নির্ভরশীলতা আরো বাড়বে। এতে হুমকিতে পড়বে দেশের তথ্য নিরাপত্তা। এক্ষেত্রে বিএসসিপিএলসি এ খাতে ভারতকে দেশে ব্যবসার সুযোগ সৃষ্টি করে দিতে স্থানীয় প্রতিষ্ঠানগুলোকে সাবমেরিন ক্যাবল প্রতিস্থাপনে বাধা তৈরি করছে বলে দাবি করেন তিনি।
অনুষ্ঠানে সিডিনেট কমিউনিকেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মশিউর রহমান বলেন, দেশে প্রতিযোগিতামূলক বাজার তৈরি হলে প্রযুক্তি খাতে আগামী ৫ বছরে ১০ বিলিয়ন ডলার বিদেশি বিনিয়োগ আসার সম্ভাবনা রয়েছে। একই সাথে এ খাতে ১০ লাখ মানুষের কর্মসংস্থান নিশ্চিত হবে।
দেশে ৯০ শতাংশ মানুষের কাছে ফাইভজি পৌঁছে দেয়ার অঙ্গিকার রয়েছে সরকারের। তবে দুটি সাবমেরিন ক্যাবল প্রতিষ্ঠানের ওপর ভিত্তি করে তা সম্ভব নয়। যারা টেলিযোগাযোগ খাতে প্রতিযোগিতামূলক বাজার তৈরিতে বাধা সৃষ্টি করছে তারা দেশের ডিজিটালাইজেশনের শত্রু বলে উল্লেখ করেন বাংলাদেশ এনজিওস নেটওয়ার্ক ফর রেডিও অ্যান্ড কমিউনিকেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা এএইচএম বজলুর রহমান।
সভায় বক্তারা বলেন, দেশে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ ব্যান্ডউইথ ভারত থেকে আমদানি করতে হচ্ছে। গুগল, মেটা, আকামাই ও ক্লাউডফ্লেয়ারের মতো বৈশ্বিক প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানের সেবা ও অবকাঠামোর সঙ্গে এই আন্তর্জাতিক সংযোগের গভীর সম্পর্ক রয়েছে।
তবে বিএসসিপিএলসির মনোপলি নির্ভর পরিবেশ, আন্তর্জাতিক সংযোগের সীমাবদ্ধতা, নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ এবং অনুকূল নীতিমালার অনুপস্থিতির কারণে বাংলাদেশে বড় প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলো বিনিয়োগে মারাত্মক চ্যালেঞ্জের মুখে পড়ছে বলে জানান তারা।













