এআইভিত্তিক ডেটা সেন্টার প্রয়োজন
দেশে প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়লেও ডেটা সেন্টার কম
আইরিন
প্রকাশ: ১৭:১৯, ৬ অক্টোবর ২০২৬
দেশে প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়লেও ডেটা সেন্টার কম
বিশ্বজুড়ে প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বাড়ছে তথ্য সংরক্ষণ ও ব্যবস্থাপনার প্রয়োজনীয়তা। এ কারণে উন্নত দেশগুলো নিরাপদ ও আধুনিক ডেটা সেন্টার নির্মাণে বিনিয়োগ বাড়াচ্ছে। তবে প্রযুক্তির ব্যবহার দ্রুত অগ্রগতি হলেও বাংলাদেশে ডেটা সেন্টারের সংখ্যা এখনো তুলনামূলক কম। প্রযুক্তির সঙ্গে তাল মিলিয়ে দেশে এআইভিত্তিক ডেটা সেন্টার নির্মাণের পাশাপাশি নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করার ওপরও গুরুত্ব দিচ্ছেন প্রযুক্তি বিশ্লেষকরা।
ডেনমার্কভিত্তিক ডেটা সেন্টার ট্র্যাকিং প্ল্যাটফর্ম ডেটা সেন্টার ম্যাপের তথ্য অনুযায়ী, বিশ্বে প্রায় ১২ হাজার ২৫৯টি ডেটা সেন্টার রয়েছে। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি ডেটা সেন্টার রয়েছে যুক্তরাষ্ট্রে। দেশটিতে রয়েছে ৪ হাজার ৭৬৭টি ডেটা সেন্টার। অন্যদিকে মালি, সোমালিয়াসহ বেশ কয়েকটি দেশে মাত্র একটি করে ডেটা সেন্টার রয়েছে।
বর্তমানে বাংলাদেশে রয়েছে ১৫টি ডেটা সেন্টার। এর বিপরীতে পার্শ্ববর্তী দেশ ভারতে ৩০৫টি এবং পাকিস্তানে রয়েছে ৩১টি ডেটা সেন্টার।
জানা যায়, বর্তমানে বিশ্বে ওয়েবসাইটের সংখ্যা প্রায় ২০ কোটি। পাশাপাশি বিশ্বে প্রায় ৬০০ কোটি মানুষ ইন্টারনেট ব্যবহার করছেন। বিপুলসংখ্যক ব্যবহারকারী ও ওয়েবসাইটের কারণে প্রতিনিয়ত তৈরি হচ্ছে বিপুল পরিমাণ ডিজিটাল তথ্য। এসব তথ্য সংরক্ষণ ও পরিচালনার জন্যই প্রয়োজন হচ্ছে ডেটা সেন্টার।
তথ্যকেন্দ্র বা ডেটা সেন্টার হলো এমন একটি নির্দিষ্ট স্থাপনা, যেখানে সার্ভার ও ইন্টারনেট সংযোগের মাধ্যমে তথ্য সংরক্ষণ, প্রক্রিয়াকরণ ও পরিচালনা করা হয়। একটি ডেটা সেন্টারে একাধিক সার্ভার থাকে এবং নিজেদের মধ্যে সংযোগের মাধ্যমে এসব সার্ভার সমন্বিতভাবে কাজ করে।
তবে ডেটা সেন্টার পরিচালনায় নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুতের পাশাপাশি বিপুল পরিমাণ পানি প্রয়োজন হয়। ডেটা সেন্টারের সার্ভারগুলো দিনরাত সচল থাকায় প্রচুর তাপ উৎপন্ন হয়। অতিরিক্ত তাপে সার্ভার ক্ষতিগ্রস্ত বা বিকল হওয়ার আশঙ্কা থাকে। এ কারণে সার্ভার ঠান্ডা রাখতে বিশেষায়িত কুলিং ব্যবস্থার প্রয়োজন হয়, যেখানে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ পানি ব্যবহার করার প্রয়োজন হয়।
বাংলাদেশে সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের ১৫টি ডেটা সেন্টার রয়েছে। দেশের প্রধান ডেটা সেন্টারটি টিয়ার-৪ মানের এবং গাজীপুরের কালিয়াকৈরে অবস্থিত। এটি সরকারি প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ ডেটা সেন্টার কোম্পানির মাধ্যমে পরিচালিত হয়।
এছাড়া রাজধানীর মহাখালীসহ চট্টগ্রাম, সিলেট, যশোর ও বগুড়ায় ছোট ও মাঝারি আকারের ডেটা সেন্টার রয়েছে।
প্রযুক্তি বিশ্লেষক সুমন আহমেদ সাবির টেকস্ক্রলকে বলেন, দেশে প্রতিনিয়ত প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ছে। মোবাইল ফোনসহ বিভিন্ন ধরনের প্রযুক্তিপণ্য ব্যবহার করছেন দেশের মানুষ। এর ফলে বাড়ছে ডেটা সংরক্ষণের প্রয়োজনীয়তা। তবে সেই তুলনায় দেশে ডেটা সেন্টারের সংখ্যা অনেক কম।
এদিকে বিশ্বে বাড়ছে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআইয়ের ব্যবহার। প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলোও প্রতিনিয়ত এআইয়ের সক্ষমতা বাড়াচ্ছে। এ কারণে চীন ও জাপানসহ বেশ কয়েকটি দেশ এআইভিত্তিক ডেটা সেন্টার নির্মাণে বিনিয়োগ করছে।
সুমন আহমেদ সাবির বলেন, বিশ্বের প্রযুক্তিগত অগ্রগতির সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলতে বাংলাদেশ সরকারেরও এআই নিয়ে সুস্পষ্ট ভিশন থাকা প্রয়োজন। একই সঙ্গে এখন থেকেই এআইভিত্তিক ডেটা সেন্টার নির্মাণের বিষয়টি বিবেচনায় নিতে হবে। তা না হলে ভবিষ্যতে তথ্যের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা আরও কঠিন হয়ে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।
তিনি বলেন, উপযুক্ত পরিবেশে এআইভিত্তিক ডেটা সেন্টার নির্মাণের ক্ষেত্রে এর সঙ্গে সংযুক্ত বিদ্যুৎ উৎপাদনকেন্দ্র স্থাপনের বিষয়টিও বিবেচনায় রাখা প্রয়োজন। নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যবস্থা না থাকলে এআইভিত্তিক ডেটা সেন্টার সচল রাখা সম্ভব নয়।
বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) তথ্য অনুযায়ী, দেশের ১৭ কোটি মানুষের মধ্যে বর্তমানে ইন্টারনেট ব্যবহার করছেন ৫৩ দশমিক ৪ শতাংশ মানুষ। আর ৮১ শতাংশ মানুষ মোবাইল ফোন ব্যবহার করেন। কম্পিউটার ব্যবহার করেন ৫ দশমিক ৮ শতাংশ মানুষ।













