বিটিআরসির অনুমোদন
স্টারলিংকের সঙ্গে যুক্ত হয়ে সেবা দিবে বাংলালিংক
টেকস্ক্রল নেটওয়ার্ক
প্রকাশ: ১৫:০৩, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | আপডেট: ১৫:০৪, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬
স্টারলিংকের সঙ্গে যুক্ত হয়ে সেবা দিবে বাংলালিংক
স্টারলিংক স্যাটেলাইট প্রযুক্তি ব্যবহার করে মোবাইল নেটওয়ার্কের আওতার বাইরেও সংযোগ দেওয়ার সেবা চালু করছে মোবাইল অপারেটর বাংলালিংক। ডাইরেক্ট-টু-সেল (ডিটিসি) সেবার জন্য বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশনের (বিটিআরসি) অনুমোদন পেয়েছে অপারেটরটি। বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানায় বাংলালিংক।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, বাংলালিংকের সংযোগ ও ফোরজি সক্ষম মোবাইল ফোন থাকলেই ডিটিসি কভারেজের আওতাভুক্ত এলাকায় এই সেবা ব্যবহার করা যাবে। এর জন্য বিশেষ কোনো মোবাইল ফোন, স্যাটেলাইট ডিশ বা বাড়তি কোনো যন্ত্রের প্রয়োজন হবে না। নতুন করে কোনো অবকাঠামোও স্থাপন করতে হবে না।
বাংলালিংক জানিয়েছে, দক্ষিণ এশিয়ার প্রথম দেশ হিসেবে বাংলাদেশে স্টারলিংকের ডাইরেক্ট-টু-সেল সেবা চালু হচ্ছে। শুরুতে এ সেবার মাধ্যমে এসএমএস, ডেটা মেসেজিং ও হোয়াটসঅ্যাপ কল করা যাবে।
বাংলালিংকের মোবাইল নেটওয়ার্কের সঙ্গে স্টারলিংকের স্যাটেলাইট প্রযুক্তি যুক্ত করে এই সেবা দেওয়া হবে। এর ফলে সাগর, দুর্গম দ্বীপ, উপকূল ও পাহাড়ি এলাকার মতো প্রচলিত মোবাইল নেটওয়ার্কের আওতার বাইরে থাকা এলাকাতেও সংযোগ পৌঁছানোর সুযোগ তৈরি হবে।
এ সেবায় বিশেষভাবে উপকৃত হতে পারেন সাগরে কাজ করা জেলে ও অন্যান্য মানুষ। পাশাপাশি মোবাইল নেটওয়ার্ক নেই এমন দুর্গম এলাকায় বসবাসকারী মানুষ এবং পর্যটকেরাও স্বজনদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখতে পারবেন।
প্রাকৃতিক দুর্যোগের সময়ও ডিটিসি সেবা কাজে লাগবে বলে জানিয়েছে বাংলালিংক। ঘূর্ণিঝড়, বন্যা বা অন্য কোনো দুর্যোগে মোবাইল টাওয়ার ও নেটওয়ার্ক অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হলে যোগাযোগের বিকল্প ব্যবস্থা হিসেবে এটি ব্যবহার করা যাবে। বিদ্যুৎ সরবরাহে বিঘ্ন ঘটলেও, এমনকি লোডশেডিংয়ের সময়ও ডিটিসির মাধ্যমে প্রয়োজনীয় যোগাযোগ করা সম্ভব হবে।
বাংলালিংকের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) ইওহান বুসে বলেন, ‘এই উদ্যোগের মূল কথা প্রযুক্তি নয়, মানুষ। সাগরে থাকা জেলে, দুর্গম এলাকার পরিবার কিংবা দুর্যোগে আটকে পড়া মানুষের যেন যোগাযোগ নিয়ে চিন্তা করতে না হয় এজন্য স্টারলিংকের মাধ্যমে আমরা প্রচলিত মোবাইল নেটওয়ার্কের সীমার বাইরে সংযোগ পৌঁছে দিচ্ছি। বাংলাদেশের আরও বেশি মানুষ, আরও বেশি জায়গা থেকে এখন যোগাযোগ করতে পারবেন।
বাংলালিংক বলছে, বিটিআরসির অনুমোদন মোবাইল সেবাকে আরও সহজলভ্য ও নির্ভরযোগ্য করার পথে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। ভৌগোলিক অবস্থানের কারণে যারা প্রচলিত মোবাইল নেটওয়ার্কের বাইরে থাকেন, তারাও এই প্রযুক্তির মাধ্যমে যোগাযোগের সুযোগ পাবেন।
ডিজিটাল ফর অল’ লক্ষ্য নিয়ে প্রতিষ্ঠানটি বিভিন্ন ডিজিটাল সেবা দিচ্ছে। এই সেবার মধ্যে রয়েছে টেলকো-অ্যাগনস্টিক সুপার অ্যাপ মাইবিএল, বিনোদন প্ল্যাটফর্ম টফি এবং এআই-নির্ভর ডিজিটাল লাইফস্টাইল প্যাকেজ রাইজ।
নাসডাকের তালিকাভুক্ত বৈশ্বিক ডিজিটাল অপারেটর ভিওন লিমিটেডের সহযোগী প্রতিষ্ঠান হিসেবে বাংলালিংক বাংলাদেশের জন্য অন্তর্ভুক্তিমূলক ও সমৃদ্ধ ডিজিটাল ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করার লক্ষ্যে কাজ করছে। বর্তমানে বাংলালিংকের গ্রাহক রয়েছে ৩ কোটি ৭৯ লাখ ৫০ হাজার।













