শুক্রবার, ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬

| ২ আশ্বিন ১৪৩৩

মানুষের হাতে নিয়ন্ত্রণ দরকার

এআই ঝুঁকি মোকাবিলায় পারমাণবিক অস্ত্র সুরক্ষার প্রস্তাব

টেকস্ক্রল নেটওয়ার্ক

প্রকাশ: ১৯:৩০, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬

এআই ঝুঁকি মোকাবিলায় পারমাণবিক অস্ত্র সুরক্ষার প্রস্তাব

এআই ঝুঁকি মোকাবিলায় পারমাণবিক অস্ত্র সুরক্ষার প্রস্তাব

চিপ ও উন্নত এআই মডেল তৈরির প্রতিযোগিতা এখন পারমাণবিক নিরাপত্তা ও সামরিক সংঘাতের নতুন ঝুঁকি তৈরি করছে। এআইয়ের  সামরিক পদক্ষেপে যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের মধ্যে বড় ধরনের সংঘাতের আশঙ্কায় পারমাণবিক অস্ত্র ব্যবস্থায় সুরক্ষা কাঠামো তৈরির প্রস্তাব দিয়েছেন দুই দেশের নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞরা।

সরকারি পর্যায়ের এআই আলোচনা এবং আগামী ২৪ সেপ্টেম্বর ওয়াশিংটনে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সম্ভাব্য বৈঠকের আগে গত সপ্তাহে এসব সুপারিশ প্রকাশ করা হয়। 
প্রস্তাবগুলোর অন্যতম লেখক ব্রুকিংস ইনস্টিটিউটের সিনিয়র ফেলো মেলানি সিসন এবং ফুদান বিশ্ববিদ্যালয়ের সহযোগী অধ্যাপক তিয়ানজিয়াও জিয়াং। 

সিসন বলেছেন, অন্য দেশের পারমাণবিক কমান্ড, নিয়ন্ত্রণ ও যোগাযোগ ব্যবস্থা কিংবা কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোর বিরুদ্ধে এআই-নির্ভর সাইবার হামলা চালানোর একক কর্তৃত্ব মানুষের হাতে থাকা উচিত। 

স্বায়ত্তশাসিত এআই ত্রুটিপূর্ণভাবে কাজ করতে পারে, নির্দেশনার বাইরে যেতে পারে বা হ্যাক হতে পারে। ফলে কোনো হামলা দুর্ঘটনাজনিত নাকি পরিকল্পিতভাবে চালানো হয়েছে, তা নির্ধারণ করা কঠিন হতে পারে।

এআই যেন স্বাধীনভাবে পারমাণবিক অস্ত্র ব্যবহারের সিদ্ধান্ত নিতে বা পারমাণবিক কমান্ড ব্যবস্থায় হামলা চালাতে না পারে, সে জন্য স্পষ্ট সীমারেখা নির্ধারণের প্রস্তাব দিয়েছেন জিয়াং। 

তিনি জ্বালানি, অর্থ ও স্বাস্থ্যসেবার মতো গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোর সুরক্ষার পাশাপাশি ‘অর্থবহ মানবীয় নিয়ন্ত্রণ’-এর একটি অভিন্ন সংজ্ঞা নির্ধারণের আহ্বান জানিয়েছেন।

২০২৪ সালের নভেম্বরে তৎকালীন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন ও শি জিনপিং পারমাণবিক অস্ত্র ব্যবহারের সিদ্ধান্তে মানুষের নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখার বিষয়ে সম্মত হয়েছিলেন। 

স্টকহোম আন্তর্জাতিক শান্তি গবেষণা ইনস্টিটিউটের (এসআইপিআরআই) গবেষক লোরা সালমান এটিকে যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ অভিন্ন অবস্থান হিসেবে বর্ণনা করেছেন। তবে একই সময়ে উভয় দেশই পারমাণবিক ও পারমাণবিক-সংশ্লিষ্ট ব্যবস্থায় এআইয়ের ব্যবহার বাড়াচ্ছে।

এআই-সংক্রান্ত ঘটনার জন্য আলাদা সামরিক হটলাইন চালুর প্রস্তাবও দিয়েছেন জিয়াং। তাঁর আশঙ্কা, স্বয়ংক্রিয় সাইবার প্রতিক্রিয়া এত দ্রুত পাল্টাপাল্টি উত্তেজনা তৈরি করতে পারে যে মানুষের হস্তক্ষেপের সুযোগ নাও থাকতে পারে। হটলাইন থাকলে কোনো অস্বাভাবিক কার্যক্রম দুর্ঘটনাজনিত, অননুমোদিত নাকি তদন্তাধীন—তা দ্রুত স্পষ্ট করা সম্ভব হবে।

তবে জনস হপকিন্সের কার্লা ফ্রিম্যানসহ কয়েকজন বিশেষজ্ঞ বিদ্যমান যুক্তরাষ্ট্র-চীন সামরিক হটলাইনের কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। ২০২৩ সালের ‘গুপ্তচর বেলুন’ ঘটনার সময় চীন মার্কিন কর্মকর্তাদের ফোনের জবাব না দেওয়ার বিষয়টি তাঁরা উল্লেখ করেছেন।

কোনো সরকারই এখনো এসব প্রস্তাব প্রকাশ্যে অনুমোদন জানান নেই। চীন তার অস্ত্র নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থার আওতায় এআইকে অন্তর্ভুক্ত করেছে। অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্রে এআই-সংক্রান্ত অস্ত্র নিয়ন্ত্রণের জন্য কোনো একক সরকারি সংস্থা নেই। প্রযুক্তিগত উন্নয়ন ধীর করতে পারে—এমন পদক্ষেপ নিয়ে দুই দেশই সতর্ক।

সূত্র: রয়টার্স
 

এ সম্পর্কিত খবর
আরও পড়ুন