অংশীদারিত্বের বিষয়ে আলোচনা
টাওয়ার ব্যবসায় যুক্ত হতে চায় বাংলালিংকের মূল সংস্থা ভিওন
আইরিন
প্রকাশ: ১৭:০৪, ২৬ আগস্ট ২০২৬ | আপডেট: ২০:৪০, ২৬ আগস্ট ২০২৬
টাওয়ার ব্যবসায় যুক্ত হতে চায় বাংলালিংকের মূল সংস্থা ভিওন
টাওয়ার ব্যবসায় প্রবেশে আগ্রহী বাংলালিংকের মূল সংস্থা ভিওন। এ জন্য টাওয়ার নির্মাণ প্রতিষ্ঠান ফ্রন্টিয়ার টাওয়ারের সাথে অংশীদারিত্বসহ বিভিন্ন বিকল্প খতিয়ে দেখছে ভিওন। এ বিষয়ে জানতে চাইলে বাংলালিংকের চিফ কর্পোরেট অ্যান্ড রেগুলেটরি অ্যাফেয়ার্স অফিসার জনাব তাইমুর রহমান জানান, বাংলাদেশের বিভিন্ন খাতে বিনিয়োগে আগ্রহী ভিওন টাওয়ার নির্মাণ প্রতিষ্ঠান প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রেও গুরত্ব দিচ্ছে।
বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশনের (বিটিআরসি) তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে দেশে টাওয়ার রয়েছে ৪৬ হাজার ৫০৪টি। এর মধ্যে মোবাইল অপারেটর বাংলালিংকের রয়েছে ৩ হাজার ৯১০টি। আর টাওয়ার নির্মাণ ও শেয়ারিং প্রতিষ্ঠান ফ্রন্টিয়ার টাওয়ারের টাওয়ার রয়েছে ৯৩৯টি। তবে চলতি বছরের প্রথম ছয় মাসে দুই প্রতিষ্ঠানেরই টাওয়ার সংখ্যা কমেছে।
টেলিযোগাযোগ খাতে সেবার মান উন্নয়নের লক্ষ্যেই টাওয়ার ব্যবসায় যুক্ত হতে চায় ভিওন। এ ক্ষেত্রে ফ্রন্টিয়ার টাওয়ার কোম্পানির একটি বড় অংশের মালিকানাও নিতে আগ্রহী ডিজিটাল বহুজাতিক প্রতিষ্ঠান ভিওন।
এ বিষয়ে বাংলালিংকের চিফ করপোরেট অ্যান্ড রেগুলেটরি অ্যাফেয়ার্স অফিসার তাইমুর রহমান টেকস্ক্রলকে জানান, বাংলাদেশের বেশ কয়েকটি খাতে বিনিয়োগে আগ্রহী ভিওন। তবে বর্তমানে টাওয়ার ব্যবসায় যুক্ত হতে ইতোমধ্যে টাওয়ার নির্মাণ প্রতিষ্ঠান ফ্রন্টিয়ার টাওয়ারের সাথে প্রাথমিক আলোচনা শুরু করেছে।
পাশাপাশি এর বিকল্পও দেখা হচ্ছে। টেলিযোগাযোগ নীতিমালা বাস্তবায়নের পরই এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। তবে গ্রাহক সেবার মান উন্নয়নে ভিওন নিজস্ব টাওয়ার প্রতিষ্ঠান নির্মাণে তুলনামূলক বেশি আগ্রহী। এজন্য সংশ্লিষ্ট নীতিমালা বাস্তবায়ন প্রয়োজন বলেও জানান তিনি।
এদিকে প্রযুক্তি বিশ্লেষক সুমন আহমেদ সাবির টেকস্ক্রলকে বলেন, দেশীয় প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে অংশীদারিত্ব ছাড়াও বর্তমান টাওয়ার ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে সেবার মান উন্নয়ন সম্ভব। অংশীদারিত্বের মাধ্যমে টেলিযোগাযোগ খাতে বিদেশি প্রতিষ্ঠানগুলোর ব্যবসা আরও বাড়ার সুযোগ তৈরি হবে।
তিনি বলেন, বিদেশি বহুজাতিক প্রতিষ্ঠানগুলোর ক্রস লেয়ার লাইসেন্স (খাতসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন ব্যবসার সুযোগ) গ্রহণের সুযোগ তৈরি হলে এ খাতে তাদের আধিপত্য বাড়তে পারে। কারণ টেলিযোগাযোগ নেটওয়ার্ক ও লাইসেন্সিং নীতিমালায় দেশীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য ক্রস লেয়ার লাইসেন্স নেওয়ার সুযোগ নেই।
এতে দেশীয় প্রতিষ্ঠানগুলো প্রতিযোগিতায় পিছিয়ে পড়বে। সংকুচিত হতে পারে টেলিযোগাযোগ খাতে দেশীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর টেকসই ব্যবসার সুযোগ। ঝুঁকিতে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে এ খাতের ছোট ব্যবসাগুলোও।
বাজার দখলের পর বিদেশি প্রতিষ্ঠানগুলো মুনাফা নিজ দেশে প্রত্যাবাসন করবে। এতে ডলার সংকট আরও ঘনীভূত হয়ে দেশের আর্থিক স্থিতিশীলতা ঝুঁকিতে পড়তে পারে বলেও মনে করেন তিনি।
উল্লেখ্য, গত বছরের সেপ্টেম্বরে টেলিযোগাযোগ নেটওয়ার্ক ও লাইসেন্সিং নীতিমালা ২০২৫ অনুমোদন দেয় সরকারের উপদেষ্টা পরিষদ। এতে বিদেশি প্রতিষ্ঠানগুলোকে টাওয়ার ও অবকাঠামো ব্যবসায় যুক্ত হওয়ার সুযোগ দেওয়া হয়েছে। অর্থাৎ খাতসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে বিদেশি প্রতিষ্ঠানগুলো বিনিয়োগ করতে পারবে। আর বিদেশি প্রতিষ্ঠানের মালিকানার সর্বোচ্চ সীমা নির্ধারণ করা হয়েছে ৮৫ শতাংশ।













