রোববার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬

| ৪ আশ্বিন ১৪৩৩

গবেষণা সেদিকেই এগোচ্ছে

নিজের উন্নয়ন নিজেই পারবে এআই, শিগগির আসছে এমন পরিস্থিতি

টেক স্ক্রল

প্রকাশ: ০০:৩৬, ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | আপডেট: ০০:৩৬, ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬

নিজের উন্নয়ন নিজেই পারবে এআই, শিগগির আসছে এমন পরিস্থিতি

এআই নিয়ে বিজ্ঞানী ও প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলোর আলোচনায় নতুন করে গুরুত্ব পাচ্ছে রিকার্সিভ সেলফ ইমপ্রুভমেন্ট বা স্বয়ংক্রিয়ভাবে নিজেকে উন্নত করার সক্ষমতা। একাধিক শীর্ষস্থানীয় এআই প্রতিষ্ঠানের সাম্প্রতিক কর্মকাণ্ড বলছে, এমন প্রযুক্তি আর খুব দূরের বিষয় নয়।

রিকার্সিভ সেলফ-ইমপ্রুভমেন্ট বলতে এমন একটি পরিস্থিতিকে বোঝানো হচ্ছে, যেখানে একটি এআই মডেল নিজেই নিজের সক্ষমতা বাড়াতে কাজ করবে, পরবর্তী প্রজন্মের আরও উন্নত মডেল তৈরিতে ভূমিকা রাখবে এবং সেই নতুন মডেল আবার আরও উন্নত সংস্করণ তৈরিতে সক্ষম হবে। এভাবে উন্নয়নের প্রক্রিয়াটি ক্রমাগত চলতে পারে।

প্রযুক্তি খাতের সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, এমন সক্ষমতা বিজ্ঞানের গবেষণা ও চিকিৎসাবিজ্ঞানে বড় ধরনের অগ্রগতি আনতে পারে। তবে একই সঙ্গে মানুষের নিয়ন্ত্রণের বাইরে অত্যন্ত শক্তিশালী এআই ব্যবস্থা তৈরি হওয়ার ঝুঁকিও তৈরি হতে পারে।

 মেটার এআই এজেন্ট মিউজ উন্মুক্ত, কাজ করবে নিজে নিজেই

নিজেদের উন্নয়নে এআইয়ের ভূমিকা বাড়ছে

সম্প্রতি অ্যানথ্রপিক জানায়,তাদের এআই গবেষণা ও উন্নয়ন কার্যক্রমের প্রায় ২৬ শতাংশ নেতৃত্ব দিচ্ছে তাদেরই এআই মডেল ক্লড । অর্থাৎ নির্দিষ্ট অনেক কাজ উচ্চপর্যায়ের নির্দেশনা পাওয়ার পর মানুষের সরাসরি হস্তক্ষেপ ছাড়াই শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত সম্পন্ন করছে মডেলটি। তবে অ্যানথ্রপিক স্পষ্ট করেছে, ক্লড এখনো পুরোপুরি স্বায়ত্তশাসিতভাবে কাজ করছে না। প্রতিষ্ঠানটির গবেষণা ও উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের প্রায় ৯০ শতাংশেই কোনো না কোনোভাবে ক্লডের সহযোগিতা রয়েছে। অ্যানথ্রপিকের তথ্য অনুযায়ী, ৬ মাস আগেও তাদের গবেষণা ও উন্নয়নের ক্ষেত্রে ক্লডের নেতৃত্ব দেয়ার অংশ ছিল প্রায় শূন্য।

অন্য প্রতিষ্ঠানগুলোও এগোচ্ছে

ওপেনএআই চলতি সেপ্টেম্বরেই একটি স্বয়ংক্রিয় রিসার্চ ইন্টার্ন তৈরির কথা জানিয়েছে। এটি মানুষের নির্দেশনায় এমন কিছু গবেষণার কাজ করতে পারবে, যেগুলো সম্পন্ন করতে দক্ষ একজন গবেষকের কয়েক দিন লাগতে পারে।

ওপেনএআই ২০২৮ সালের মার্চের মধ্যে আরও উন্নত স্বয়ংক্রিয় এআই গবেষক তৈরির লক্ষ্য ঠিক করেছে। তবে প্রতিষ্ঠানটি একই সঙ্গে সতর্ক করেছে, দ্রুতগতির স্বয়ংক্রিয় আত্মউন্নয়ন নিরাপদভাবে কীভাবে বাস্তবায়ন করা যায়, সে বিষয়ে এখনো সব প্রশ্নের উত্তর তাদের জানা নেই।

অন্যদিকে, ইলন মাস্কের এক্স এআই-ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা মডেল তৈরির ক্ষেত্রে মানুষের অংশগ্রহণ ধীরে ধীরে কমিয়ে আনার কথা বলেছে। মাস্কের বক্তব্য অনুযায়ী, একটি মডেল পরবর্তী মডেল তৈরিতে ভূমিকা রাখছে। তবে এই প্রক্রিয়াও এখনো পুরোপুরি স্বয়ংক্রিয় হয়নি।

 টিভি সিরিয়ালের সেই রোবোকপ কি সত্যি হতে যাচ্ছে?

কেন এত আলোচনা?

এআই নিজেই যদি নিজের উন্নত সংস্করণ তৈরির ক্ষমতা অর্জন করে, তাহলে প্রযুক্তির উন্নয়নের গতি মানুষের প্রচলিত গবেষণা ও উন্নয়ন প্রক্রিয়ার চেয়ে অনেক দ্রুত হতে পারে। কারণ এআই মানুষের তুলনায় অনেক দ্রুত বিপুল পরিমাণ তথ্য বিশ্লেষণ, কোড লেখা এবং বিভিন্ন সম্ভাবনা পরীক্ষা করতে পারে।

এখানেই তৈরি হচ্ছে মূল উদ্বেগ। এআই যত বেশি স্বায়ত্তশাসিত হবে, সেটিকে পর্যবেক্ষণ ও নিয়ন্ত্রণ করাও তত কঠিন হতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন কিছু গবেষক।

যুক্তরাষ্ট্রের কর্নেল বিশ্ববিদ্যালয়ের কম্পিউটারবিজ্ঞানী জন থিকস্টুনের মতে, এআই দিয়ে নতুন প্রজন্মের এআই তৈরিতে সহায়তা নেয়া অবশ্য নতুন কিছু নয়। কয়েক বছর ধরেই আগের প্রজন্মের মডেল ব্যবহার করে পরবর্তী প্রজন্মের এআই তৈরির বিভিন্ন কাজে সহায়তা নেয়া হচ্ছে। তবে এখনকার অগ্রগতি আগের তুলনায় অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে।

নিরাপত্তা নিয়ে বাড়ছে উদ্বেগ

এআইয়ের সক্ষমতা দ্রুত বাড়লেও নিরাপত্তা ব্যবস্থা একই গতিতে এগোচ্ছে কি না, সেটিই এখন বড় প্রশ্ন।

অ্যানথ্রপিক জানিয়েছে, নিজেদের মডেলের উন্নয়নের গতি সম্পর্কে আরও স্বচ্ছ তথ্য প্রকাশ করা প্রয়োজন। তাদের মতে, এ ধরনের তথ্য প্রকাশ করা হলে গবেষক, সরকার ও সাধারণ মানুষ বুঝতে পারবেন এআই কতটা দ্রুত এমন পর্যায়ে পৌঁছাচ্ছে, যেখানে একটি মডেল নিজেই তার উত্তরসূরি তৈরিতে সক্ষম হতে পারে।

প্রতিষ্ঠানটি অন্যান্য এআই কোম্পানিকেও একই ধরনের পরিমাপ ও তথ্য নিয়মিত প্রকাশ করার আহ্বান জানিয়েছে।

এদিকে এআই উন্নয়নের গতি কমানো উচিত কি না, তা নিয়েও প্রযুক্তি খাতে মতভেদ দেখা দিয়েছে। অ্যানথ্রপিকসহ কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের শীর্ষ কর্মকর্তারা নিরাপত্তার বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে উন্নয়নের গতি নিয়ন্ত্রণের কথা বলেছেন। অন্যদিকে কিছু প্রযুক্তি উদ্যোক্তা দ্রুত অগ্রগতির পক্ষেও অবস্থান নিয়েছেন।

এ সম্পর্কিত খবর
আরও পড়ুন