বুধবার, ১৪ অক্টোবর ২০২৬

| ২৮ আশ্বিন ১৪৩৩

অ্যাকটিভ শেয়ারিংয়ে নজরদারি প্রয়োজন

দেশে ধারাবাহিকভাবে বাড়ছে মোবাইল টাওয়ার

রিশাদ ইসলাম রাতিন

প্রকাশ: ১৬:৫৯, ২৪ আগস্ট ২০২৬ | আপডেট: ১৩:২০, ২৭ আগস্ট ২০২৬

দেশে ধারাবাহিকভাবে বাড়ছে মোবাইল টাওয়ার

দেশে ধারাবাহিকভাবে বাড়ছে মোবাইল টাওয়ার

টেলিযোগাযোগ সেবার মান উন্নয়নে দেশে ধারাবাহিকভাবে বাড়ছে মোবাইল টাওয়ারের সংখ্যা। চলতি বছরের মার্চ থেকে জুন এই চার মাসে দেশের সার্বিক নেটওয়ার্কে নতুন করে যুক্ত হয়েছে ৩২৮টি টাওয়ার।

বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশনের (বিটিআরসি) তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের মার্চ মাসে সারাদেশে মোট টাওয়ারের সংখ্যা ছিল ৪৬ হাজার ১৭৬টি। এপ্রিলে তা বেড়ে দাঁড়ায় ৪৬ হাজার ২৮৬টিতে। এবং মে মাসে পৌঁছায় ৪৬ হাজার ৩৭৮টিতে। সর্বশেষ জুন মাস মোট টাওয়ারের সংখ্যা দাঁড়ায় ৪৬ হাজার ৫০৪টিতে।

এই চার মাসে ৩২৮টি নতুন টাওয়ারের মধ্যে ২৭৯টি বা ৮৫ শতাংশ টাওয়ার নির্মাণ ও শেয়ারিং প্রতিষ্ঠানগুলোর। এর মধ্যে নতুন ১৪৭টি টাওয়ার যুক্ত করে বর্তমানে নির্মাণ প্রতিষ্ঠান সামিটের টাওয়ার রয়েছে ৫ হাজার ৫৩৯টি। দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ৯৫টি টাওয়ার যুক্ত করেছে কীর্তনখোলা টাওয়ার, বর্তমানে এই প্রতিষ্ঠানের টাওয়ার রয়েছে এক হাজার ১৭৭টি। আর ইডটকো যোগ করেছে নতুন ৩৮টি টাওয়ার, বর্তমানে প্রতিষ্ঠানটির টাওয়ার রয়েছে ১৬ হাজার ৯৭৯টি। অন্যদিকে ফ্রন্টিয়ার টাওয়ারের একটি টাওয়ার কমে বর্তমানে টাওয়ার রয়েছে ৯৩৯টি।  

অন্যদিকে, দেশের মোবাইল অপারেটররা চার মাসে প্রতিস্থাপন করেছে ৪৯টি নতুন টাওয়ার। এর মধ্যে রাষ্ট্রায়ত্ত মোবাইল অপারেটর টেলিটকের ৪৪টি টাওয়ার যুক্ত হয়ে বর্তমানে টাওয়ার রয়েছে ৩ হাজার ৪৬৯টি। এবং রবির ১০টি টাওয়ার যুক্ত হয়ে টাওয়ার সংখ্যা ২ হাজার ১৮৯টি। তবে বাংলালিংকের কমলেও অপরিবর্তিত রয়েছে গ্রামীণফোনের টাওয়ার সংখ্যা। বর্তমানে বাংলালিংকের ৩ হাজার ৯১০টি এবং গ্রামীণফোনের টাওয়ার সংখ্যা ১১ হাজার ৭৮৮টি। আর রাষ্ট্রায়ত্ত আরেক প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ টেলিকমিউনিকেশন কম্পানির (বিটিসিএল) টাওয়ার ৫১৪টি।

টেলিযোগাযোগ বিশ্লেষক টিআইএম নুরুল কবীর টেকস্ক্রলকে জানান, টাওয়ার বৃদ্ধিতে নিয়ন্ত্রণ সংস্থা বিটিআরসির নীতিমালা অনুসরণ করার পাশাপাশি অ্যাকটিভ শেয়ারিং সঠিকভাবে হচ্ছে কিনা এটি নজরদারির প্রয়োজন। অন্যথায় সেবার প্রত্যাশিত মান উন্নয়ন সম্ভব নয়।

একই সাথে টেলিযোগাযোগ সেবার মান উন্নয়নে টাওয়ার বাড়ানোর পাশাপাশি অপটিক্যাল ফাইবার ও সঞ্চালন লাইন বৃদ্ধিতেও প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেয়ার কথাও জানান তিনি।

উল্লেখ্য, ২০১৮ সালে বেসরকারি চার টাওয়ার প্রতিষ্ঠানটকে লাইসেন্স দিয়ে নীতিমালা তৈরি করে বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রক কমিশন বিটিআরসি। নীতিমালায় বলা হয়, মোবাইল অপারেটররা নতুন করে টাওয়ার তৈরি করতে পারবে না। তবে টাওয়ার নির্মাণ ও শেয়ারিং প্রতিষ্ঠানগুলো থেকে অর্থের বিনিময়ে টাওয়ার সেবা নিতে পারবে মোবাইল অপারেটররা।

এ সম্পর্কিত খবর
আরও পড়ুন