অঞ্চলভেদে এআই বিস্তার
চীনে বাড়ছে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সক্ষমতা
টেকস্ক্রল নেটওয়ার্ক
প্রকাশ: ১৫:৩৮, ২০ আগস্ট ২০২৬
চীনে বাড়ছে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সক্ষমতা
চীনের বিভিন্ন অঞ্চল নিজেদের প্রযুক্তি, দক্ষ জনবল, শিল্প ও প্রাকৃতিক সম্পদকে কাজে লাগিয়ে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই খাতকে এগিয়ে নিচ্ছে। এতে দেশটিতে অঞ্চলভিত্তিক শক্তির পাশাপাশি সমন্বিত এআই শিল্প গড়ে উঠছে এবং ব্যবসা ও শিল্পে এর ব্যবহার দ্রুত বাড়ছে।
চীনের শিল্প ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের জুন শেষে দেশটির বুদ্ধিমান গণনাক্ষমতা এক বছরে ১৭৭ শতাংশ বেড়ে ২ হাজার ১৮৫ এক্সাফ্লপসে দাঁড়িয়েছে। এ সময় দেশজুড়ে গণনাকেন্দ্রগুলোর গড় ব্যবহার ছিল ৭১ দশমিক ৪ শতাংশ।
বেইজিং, সাংহাই ও কুয়াংতুং এআই খাতের প্রধান কেন্দ্র হিসেবে এগিয়ে রয়েছে। প্রযুক্তি, দক্ষ জনবল ও শিল্পভিত্তির সুবিধা কাজে লাগিয়ে এসব অঞ্চল এআই প্রযুক্তি, চিপ, শিল্প রোবট ও বিভিন্ন ব্যবহারিক ক্ষেত্রে নিজেদের সক্ষমতা বাড়াচ্ছে।
বেইজিং বিশ্বমানের এআই উদ্ভাবনকেন্দ্র গড়ে তোলার লক্ষ্য নিয়েছে। জুলাইয়ের ২৩ তারিখ পর্যন্ত সেখানে ২৫৯টি বড় এআই মডেল নিবন্ধন করা হয়েছে। একই সময়ে ১৯৫টি এআই পণ্যের নিবন্ধনও সম্পন্ন হয়েছে।
সাংহাইয়ে জুনের শেষ নাগাদ ১৬৯টি বড় এআই মডেল অনুমোদন পেয়েছে। শহরটির ৩৯৪টি বড় এআই প্রতিষ্ঠান ২০২৫ সালে ৬৩৭ বিলিয়ন ইউয়ানের বেশি শিল্প উৎপাদন করেছে। কুয়াংতুংয়ে গত বছর এআই শিল্পের মূল অংশের আকার ৩০০ বিলিয়ন ইউয়ান ছাড়িয়েছে।
তবে এআই উন্নয়ন শুধু বড় শহরগুলোতেই সীমাবদ্ধ নেই। বিভিন্ন প্রদেশ নিজেদের বিশেষ সুবিধা অনুযায়ী আলাদা ক্ষেত্রে এগিয়ে যাচ্ছে। আনহুই এআই চিপ তৈরিতে গুরুত্ব দিচ্ছে। হুবেই আলো ও তথ্যপ্রযুক্তি শিল্পের শক্তিকে কাজে লাগিয়ে এআইয়ের জন্য চিপ, পর্দা, যোগাযোগ ও যন্ত্রপাতির সমন্বিত শিল্প গড়ে তুলছে।
হেনানও এআইয়ের মাধ্যমে পরিবহনকেন্দ্রিক অর্থনীতি থেকে গণনাক্ষমতার গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্রে পরিণত হচ্ছে। প্রদেশটির রাজধানী চেংচৌয়ে এপ্রিলে দেশের সবচেয়ে বড় বৈজ্ঞানিক বুদ্ধিমান গণনাকেন্দ্র চালু হয়েছে। এটি বৈজ্ঞানিক গবেষণা ও শিল্পে এআই ব্যবহারে নতুন সুযোগ তৈরি করছে।
শিনচিয়াং, অন্তর্মঙ্গোলিয়া ও কুইচৌয়ের মতো অঞ্চলগুলো আবার নিজেদের পরিচ্ছন্ন জ্বালানি সুবিধা কাজে লাগিয়ে বুদ্ধিমান গণনাকেন্দ্র গড়ে তুলছে। কম খরচে বিদ্যুৎ সরবরাহের সুযোগ এসব অঞ্চলে বড় গণনাকেন্দ্র স্থাপনে সহায়তা করছে।
হুবেই প্রদেশের পাহাড়ি শহর লিচুয়ান এ ক্ষেত্রে ভিন্ন উদাহরণ তৈরি করেছে। শহরটির শীতল আবহাওয়া, পরিষ্কার বাতাস ও জলবিদ্যুতের সুবিধাকে কাজে লাগিয়ে সেখানে এআই গণনাকেন্দ্র গড়ে উঠেছে। কেন্দ্রটির গণনাক্ষমতা প্রায় ১৫০ পেটাফ্লপস এবং এর ব্যবহার ৮০ শতাংশের বেশি।
লিচুয়ানের এই কেন্দ্র এখন পর্যটন, সরকারি সেবা ও মহাকাশ তথ্যসহ বিভিন্ন কাজে গণনাসেবা দিচ্ছে। শহরের কাছে একটি কৃত্রিম উপগ্রহ তথ্য গ্রহণকেন্দ্রও স্থাপন করা হয়েছে। ফলে উপগ্রহ থেকে পাওয়া তথ্য দ্রুত পাশের এআই গণনাকেন্দ্রে পাঠিয়ে বিশ্লেষণ করা সম্ভব হচ্ছে।
শহরটিতে প্রতিবছর দুই কোটির বেশি পর্যটক আসেন। তাদের যাতায়াত, থাকা, খাবার ও বিনোদনসংক্রান্ত বিপুল তথ্য কাজে লাগিয়ে স্থানীয়ভাবে পর্যটনসেবার জন্য বড় এআই মডেল তৈরি করা হচ্ছে। এর মাধ্যমে পর্যটকদের জন্য বুদ্ধিমান নির্দেশনা ও বিভিন্ন সেবা দেওয়ার সুযোগ তৈরি হয়েছে।
চীন এখন জাতীয় পর্যায়ে বড়, আঞ্চলিক ও স্থানীয় গণনাকেন্দ্রগুলোর সমন্বিত ব্যবস্থা গড়ে তুলছে। একই সঙ্গে গণনাক্ষমতার ব্যবহার ও প্রয়োজন পর্যবেক্ষণের জন্য স্বয়ংক্রিয় ব্যবস্থা চালু করা হচ্ছে। এর ফলে দেশটির বিভিন্ন অঞ্চলের নিজস্ব সক্ষমতা কাজে লাগিয়ে এআই শিল্পকে আরও বিস্তৃত করার উদ্যোগ এগিয়ে যাচ্ছে।
সূত্রঃ সিনহুয়া










