প্রযুক্তি বিশ্লেষকদের আশঙ্কা
টেলিযোগাযোগ নীতিমালায় বিদেশি প্রতিষ্ঠানের আধিপত্য
টেকস্ক্রল নেটওয়ার্ক
প্রকাশ: ২৩:১৬, ১৮ আগস্ট ২০২৬ | আপডেট: ০০:০৪, ২০ আগস্ট ২০২৬
টেলিযোগাযোগ নীতিমালায় বিদেশি প্রতিষ্ঠানের আধিপত্য
নতুন টেলিযোগাযোগ নীতিমালায় বিদেশি বহুজাতিক প্রতিষ্ঠানগুলোর আধিপত্য লক্ষ্য করা যায় বলে টেলিযোগাযোগ ও প্রযুক্তি খাতের উন্নয়নে বিভিন্ন পরামর্শ তুলে ধরেন প্রযুক্তি বিশ্লেষক সুমন আহমেদ সাবির। সোমবার (১৭ আগস্ট) গাজীপুরের এক রিসোর্টে টেলিকম ও টেকনোলজি রিপোর্টারদের সংগঠন টিআরএনবি আয়োজিত কর্মশালায় পরামর্শগুলো তুলে ধরেন তিনি।
ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেট সংযোগের বিষয়ে
দেশে প্রযুক্তি খাতের উন্নয়নে ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেট সংযোগের বিকল্প নেই। কারণ এতে একটি সংযোগে একযোগে চালানো যায় ৫ থেকে ১০টি ডিভাইস। মোবাইল ডেটার তুলনায় সাশ্রয়ী ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেট।একই ব্যয়ে মোবাইল ডেটার তুলনায় বহুগুণ বেশি ব্যবহার করা যায় ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেট।
মাসিক নির্দিষ্ট ডেটার সীমাবদ্ধতা ছাড়াই ভারী ব্যবহার সম্ভব ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেটের। ফ্রিল্যান্সিং, ই-কমার্স, আউটসোর্সিং ও দূরকর্ম সবই স্থিতিশীল সংযোগ নির্ভর।
তবে দেশে বর্তমানে ৪ কোটি ১০ লাখ পরিবার থাকলেও, ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান ও পরিবারসহ ব্রডব্যান্ড গ্রাহক এক কোটি ৪৫ লাখ। কার্যকর ব্রডব্যান্ড সেবাদাতা প্রতিষ্ঠানের (আইএসপি) লাইলসেন্স ২ হাজার ৫০০। দেশে মোট ৪ হাজার ৫৭৯ টি ইউনিয়ন থাকলেও এখনো ব্রডব্যান্ড সংযোগের বাইরে রয়েছে ৪ হাজার ৫৫০টি ইউনিয়ন। সংযোগ বাড়াতে দ্রুত পদক্ষেপ নেয়া প্রয়োজন।
ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেট সেবাদাতা প্রতিষ্ঠানগুলোর সংগঠন আইএসপিএবির প্রস্তাব ও বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিটিআরসির ট্যারিফ কাঠামোর পর্যালোচনায় দেখা যায়, ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেটের সর্বনিম্ন দাম ৮০০ টাকা করার কথা বলা হচ্ছে। এতে ব্যয় বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে গ্রাহকদের।
আবার নতুন লাইসেন্স ফি, রেভিনিউ শেয়ার ও সামাজিক দায়বদ্ধতা তহবিলের চাঁদা ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেট সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর ব্যয় ২০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ানোর শঙ্কা রয়েছে। এমনকি গ্রামাঞ্চলে রোলআউটের বাধ্যবাধকতা গ্রাহকদের ব্যয়ে যোগ হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
বিদেশি প্রতিষ্ঠানের বিষয়ে
টেলিযোগাযোগ নেটওয়ার্ক ও লাইসেন্স নীতিমালায় বহুজাতিক প্রতিষ্ঠানগুলোর আধিপত্য লক্ষ্য করা যায়। নতুন নীতিমালা অনুযায়ী দেশে ৮৫ শতাংশ পর্যন্ত বিনিয়োগে বিদেশি বহুজাতিক প্রতিষ্ঠান ক্রস লেয়ার লাইসেন্স (খাত সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন ব্যবসার সুযোগ) গ্রহণ করতে পারবে। তবে দেশীয় প্রতিষ্ঠান বা অপারেটরদের জন্য থাকছে না এই সুযোগ।
এতে দেশি প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য বৈষম্যমূলক বাধা তৈরি হবে। গেল ১৫ থেকে ২০ বছরে বিপুল বিনিয়োগ করা ন্যাশনাল টেলিকমিউনিকেশন ট্রান্সমিশন নেটওয়ার্কসহ (এনটিটিএন) সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলো বিনিয়োগ ফেরত পেতে বাধার মুখে পড়বে। অর্থাৎ দীর্ঘদিনের অবকাঠামো ব্যবসা ঝুঁকিতে পড়বে।
বিনিয়োগ কমবে আইএসপিসহ খাত সংশ্লিষ্ট দেশীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর। সংকুচিত হবে এ খাতের টেকসই ব্যবসা।
বিদেশি প্রতিষ্ঠানগুলোর ক্রস লেয়ার ক্ষমতায়নে মোবাইল অবকাঠামোতে কিছু প্রতিষ্ঠানের একচেটিয়া প্রভাব বাড়বে।
বাজার দখলের পর বিদেশি প্রতিষ্ঠান তাদের মুনাফা প্রত্যাবাসন করবে। এতে ডলার সংকট আরো ঘণীভূত হয়ে আর্থিক স্থিতিশীলতা ঝুঁকিতে ফেলবে।
ফাইবার অবকাঠামোর প্রভাব, আন্তর্জাতিক গেটওয়ে ও ডেটা সেন্টার বিদেশি প্রতিষ্ঠানগুলোর নিয়ন্ত্রণে চলে গেলে নজরদারির দূর্বলতা বহুগুণ বাড়বে। সরকারি ডেটার নিরাপত্তায় ঝুঁকি তৈরি হবে। অর্থাৎ আগামীতে হুমকিতে থাকবে দেশের ডিজিটাল সার্বভৌমত্ব।








