বিনিয়োগ বৃদ্ধির লক্ষ্য
হাইটেক পার্কের জবাবদিহিতা নিশ্চিতে নির্দেশিকা
টেকস্ক্রল নেটওয়ার্ক
প্রকাশ: ১৬:৩৭, ২২ আগস্ট ২০২৬ | আপডেট: ১৮:৫৪, ২২ আগস্ট ২০২৬
হাইটেক পার্কের জবাবদিহিতা নিশ্চিতে নির্দেশিকা
দেশের হাইটেক পার্কগুলোকে আরো কার্যকর করার পাশাপাশি জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে একটি নির্দেশিকা প্রণয়ন করা হয়েছে। শনিবার ২২ আগস্ট যশোরে সফটওয়্যার টেকনোলজি পার্ক অডিটোরিয়ামে আয়োজিত এক সেমিনারে এর খসড়া প্রকাশ করা হয়। বিনিয়োগকারীসহ সংশ্লিষ্ট সবার সাথে আলোচনার প্রেক্ষিতে ২ মাসের মধ্যে অনুমোদন দেয়ার কথা নির্দেশিকাটির।
জানা যায়, দেশের তথ্যপ্রযুক্তি খাতে দক্ষ মানবসম্পদ উন্নয়ন, কর্মসংস্থান ও ফ্রিল্যান্সিংয়ের সুযোগ সম্প্রসারণ, প্রযুক্তিনির্ভর উদ্যোক্তা ও স্টার্টআপ সৃষ্টি এবং দেশি-বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণের লক্ষ্যে ‘আইটি ট্রেনিং ও ইনকিউবেশন সেন্টার পরিচালনা, রক্ষণাবেক্ষণ ও ব্যবস্থাপনা নির্দেশিকা-২০২৬’ প্রণয়ন করা হয়েছে।
এতে বাংলাদেশ হাই-টেক পার্ক কর্তৃপক্ষের (BHTPA) আওতাধীন দেশের বিভিন্ন আইটি ট্রেনিং ও ইনকিউবেশন সেন্টারে একটি অভিন্ন, মানসম্মত ও প্রযুক্তিনির্ভর সমন্বিত ব্যবস্থাপনা কাঠামো প্রতিষ্ঠিত হবে।
নির্দেশিকায় প্রশিক্ষণের বিষয়, কারিকুলাম ও দক্ষতার মান নির্ধারণে শিল্পখাতের চাহিদাকে অগ্রাধিকার দেওয়ার পাশাপাশি সময়ের সঙ্গে প্রশিক্ষণের বিষয় নিয়মিত হালনাগাদের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।
নির্দেশিকায়, হাইটেক পার্কের ল্যাবসহ সব অবকাঠামো, ইউটিলিটি ও প্রযুক্তিগত সম্পদের নিরাপদ, সর্বোচ্চ কার্যকর ও টেকসই পরিচালনা নিশ্চিতের কথা বলা হয়েছে। এসব সম্পদের রক্ষণাবেক্ষণ ও সম্পদভিত্তিক ব্যবস্থাপনা, নির্ধারিত সেবা প্রদানের মান নিশ্চিত করা, সম্পদের বৃদ্ধি, পরিচালন ব্যয় কমানো ও অপচয় রোধ করারও কথা বলা হয়েছে।
এছাড়াও কর্মপরিবেশে নিরাপত্তা, স্বাস্থ্যবিধি নিশ্চিত, আন্তর্জাতিক মানসম্মত ব্যবস্থাপনা পদ্ধতি প্রবর্তন ও স্বচ্ছ, জবাবদিহিমূলক এবং ডিজিটাল রেকর্ডভিত্তিক পরিচালনা সংস্কৃতি প্রতিষ্ঠার কথাও বলা হয়েছে।
সেমিনারে অনলাইনে যুক্ত হয়ে ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম বলেন, নির্দেশিকাটি কার্যকরভাবে বাস্তবায়িত হলে দেশের আইটি ট্রেনিং ও ইনকিউবেশন সেন্টারগুলোর সেবার মান ও দক্ষতা বৃদ্ধি পাবে। তরুণদের কর্মসংস্থান ও ফ্রিল্যান্সিংয়ের সুযোগ সম্প্রসারিত হওয়ার পাশাপাশি নতুন উদ্যোক্তা ও স্টার্টআপ সৃষ্টি হবে। এবং প্রযুক্তি খাতে দেশি-বিদেশি বিনিয়োগের জন্য আরও অনুকূল পরিবেশ তৈরি হবে। এর মাধ্যমে বাংলাদেশের ডিজিটাল অর্থনীতি, উদ্ভাবন ও জ্ঞানভিত্তিক অর্থনীতির বিকাশ আরও ত্বরান্বিত হবে।
স্টার্টআপ ও উদ্ভাবনের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে আইসিটি মন্ত্রী বলেন, আগামী দিনের ডিজিটাল অর্থনীতিতে চাকরিপ্রার্থী তৈরির পাশাপাশি চাকরি ও কর্মসংস্থান সৃষ্টিকারী উদ্যোক্তা তৈরি করতে হবে।
তিনি বলেন, সরকারের লক্ষ্য শুধু প্রশিক্ষণ প্রদান নয়, প্রশিক্ষণের মাধ্যমে তরুণদের কর্মসংস্থান, ফ্রিল্যান্সিং ও উদ্যোক্তা হওয়ার সক্ষমতা তৈরি করা। একই সঙ্গে আইটি ট্রেনিং ও ইনকিউবেশন সেন্টারগুলোকে উদ্ভাবন, স্টার্টআপ এবং বিনিয়োগের কার্যকর কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলার পাশাপাশি কর্মসংস্থান সৃষ্টির কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তুলতে হবে।
আইটি সেন্টারগুলোর অবকাঠামো, যন্ত্রপাতি, ইউটিলিটি, রক্ষণাবেক্ষণ ও সেবার মানকে একটি সুসংগঠিত ব্যবস্থাপনা কাঠামোর আওতায় আনা হবে বলেও জানান মন্ত্রী।













