বুধবার, ২১ অক্টোবর ২০২৬

| ৪ কার্তিক ১৪৩৩

দেশে এআইয়ের প্রভাব

শুল্ক কমলেও কমছে না কম্পিউটার ও ল্যাপটপের দাম

তানজীর আহমেদ

প্রকাশ: ১৪:৪৪, ৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | আপডেট: ১৫:০৩, ৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬

শুল্ক কমলেও কমছে না কম্পিউটার ও ল্যাপটপের দাম

শুল্ক কমলেও কমছে না কম্পিউটার ও ল্যাপটপের দাম

২০২৬–২৭ অর্থবছরের বাজেটে ল্যাপটপসহ কম্পিউটার সরঞ্জামের ওপর শুল্ক ও ভ্যাট কমানো হলেও এর সুফল পাচ্ছেন না ক্রেতারা। আন্তর্জাতিক বাজারে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই চাহিদা বৃদ্ধিতে মেমোরি চিপ, র‌্যাম ও এসএসডির দাম বেড়েছে। আর এর প্রভাবে দেশের বাজারে কম্পিউটার ও ল্যাপটপের দাম বৃদ্ধি পাওয়ায় বিক্রি কমেছে বলে জানান বিক্রেতারা। 

২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটে তথ্যপ্রযুক্তি খাতের বিকাশ এবং এ খাতে কর্মসংস্থান বৃদ্ধির লক্ষ্যে কম্পিউটার ও সংশ্লিষ্ট পণ্য আমদানিতে ব্যাপক কর ছাড়ের প্রস্তাব দেওয়া হয়। 

প্রস্তাবিত বাজেটে ল্যাপটপ, ডেস্কটপ কম্পিউটার, সার্ভার, কম্পিউটার প্রিন্টার এবং কম্পিউটার মনিটর আমদানির ক্ষেত্রে বিদ্যমান আমদানি শুল্ক, রেগুলটরি শুল্ক ও সম্পূরক শুল্কসহ সব ধরনের শুল্ক ও ভ্যাট সম্পূর্ণ প্রত্যাহারের কথা বলা হয়। 

আবার এসএসডি আমদানির ক্ষেত্রে ৫ শতাংশ আমদানি শুল্ক বহাল রেখে অন্যান্য রেগুলটরি শুল্ক সম্পূরক শুল্ক ‍ও ভ্যাট প্রত্যাহারের প্রস্তাব করা হয়। 

তবে গেল জুইলায়ে এসব প্রযুক্তি পণ্যের ওপর এই কর ছাড় বাস্তবায়িত হলেও এখনো এর প্রভাব পড়েনি প্রযুক্তি বাজারে। রাজধানীর এলিফ্যান্ট রোডের প্রযুক্তি বাজার ঘুরে দেখা যায়, দাম কমার পরিবর্তে বেড়েছে কম্পিউটার ও ল্যাপটপের দাম। 

রায়ান্স কম্পিউটার্স লিমিটেডের বিক্রেতা রাজন চন্দ্র দাস টেকস্ক্রলকে বলেন, আন্তর্জাতিক বাজারে মেমোরি, মাদারবোর্ড, র‌্যাম ও এসএসডির দাম বৃদ্ধি পাওয়ায় দেশে বেড়েছে কম্পিউটার ও ল্যাপটপের দাম। 

দেশে পরিবহন ব্যয় বৃদ্ধিও এসব পণ্যের দাম বৃদ্ধির আরেকটি কারণ। আগে যেখানে একটি পণ্যের সরবরাহ ব্যয় ছিল ৩ হাজার ৫০০ টাকা। বর্তমানে তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৬ হাজার টাকা। 

বিক্রেতারা আরো জানান, এসব কারণে ২ হাজার টাকার র‌্যামের দাম বেড়ে হয়েছে ৫ হাজার টাকা। আবার ডিডিআর-৫ র‌্যামের দাম ৯ হাজার টাকা থেকে বেড়ে সর্বোচ্চ ২০ হাজার টাকা হয়েছে। 

তারা জানান, ৭০ হাজার টাকা থেকে ৭৫ হাজার টাকায় আগে যেখানে কোর আই-৫ ল্যাপটপ কিনতে পাওয়া যেত এখন একই দামে পাওয়া যাচ্ছে কোর আই-৩ ল্যাপটপ। আবার ১৬জিবি র‌্যামসহ কোর আই-৩ ল্যাপটপ ক্রেতাদের কিনতে হচ্ছে ৭৪ হাজার টাকা থেকে ৭৫ হাজার টাকায়।  একই সাথে প্রতিটি মনিটর ও প্রসেসর বা সিপিইউতেও দাম বৃদ্ধি পেয়েছে সর্বোচ্চ এক হাজার টাকা। 

বিক্রেতারা বলছেন, বিশ্ববাজারে এআইভিত্তিক ডেটা সেন্টার ও উচ্চক্ষমতার কম্পিউটিং অবকাঠামো সম্প্রসারণের কারণে মেমোরি ও স্টোরেজের চাহিদা বৃদ্ধিতে দেখা দিয়েছে সরবরাহ সংকট। এটি অব্যাহত থাকলে আগামীতে প্রযুক্তি পণ্যের দাম আরো বাড়বে। 

এদিকে ক্রেতারা জানান, আগে ৬০ হাজার থেকে ৭০ হাজার টাকায় কোর আই-৫ অথবা রাইজেন ৫ প্রসেসরের ল্যাপটপ পাওয়া যেত। এখন একই ব্যয়ে অনেক ক্ষেত্রে কোর আই-৩ কিংবা রাইজেন ৩ প্রসেসরের মডেল নিতে হচ্ছে। ভালো কনফিগারেশনের জন্য বাজেট ৮০ হাজার টাকার কাছাকাছি নিতে হচ্ছে।

তারা আরো জানান, ৫০ হাজার টাকার মধ্যে নতুন ল্যাপটপ পাওয়াও এখন কঠিন হয়ে পড়েছে। ব্র্যান্ডের নতুন ল্যাপটপের ক্ষেত্রে ন্যূনতম বাজেট ৬০ হাজার টাকা।  তবে ৭০ হাজার টাকার কমে এইচপি ব্র্যান্ডের নতুন ল্যাপটপ পাওয়া কঠিন। 

স্টার টেকের বিক্রয়কর্মী মোতাহার হোসাইন তুহিন টেকস্ক্রলকে বলেন, ৩০ হাজার থেকে ৪০ হাজার টাকায় ল্যাপটপ কিনতে আসা ক্রেতাদের বাড়তি অর্থ যোগ করতে হচ্ছে। আর যারা বাড়তি অর্থ যোগ করতে পারছেন না তারা অনেকেই ব্যবহৃত ল্যাপটপ কিনছেন।  এতে নতুন ল্যাপটপের বিক্রি কিছুটা কমেছে। 

বাজারে এইচপি, লেনোভো, আসুস, এসার ও ডেল-এর চাহিদা রয়েছে। অন্যদিকে, বাড়তি দামের কারণে অনেক ক্রেতা নতুন ল্যাপটপের পরিবর্তে ব্যবহৃত ল্যাপটপের দিকে ঝুঁকছেন বলেও জানান তিনি। 

এ সম্পর্কিত খবর
আরও পড়ুন