রোববার, ১১ অক্টোবর ২০২৬

| ২৪ আশ্বিন ১৪৩৩

চলছে বিক্ষোভ

ভারতের দিল্লিতে আবারও বন্ধ মোবাইল ইন্টারনেট

টেকস্ক্রল নেটওয়ার্ক

প্রকাশ: ১৩:৫৩, ১০ অক্টোবর ২০২৬ | আপডেট: ১৪:২৭, ১০ অক্টোবর ২০২৬

ভারতের দিল্লিতে আবারও বন্ধ মোবাইল ইন্টারনেট

ভারতের দিল্লিতে আবারও বন্ধ মোবাইল ইন্টারনেট

ভারতের নয়াদিল্লিতে ২৪ ঘন্টার জন্য বন্ধা রাখা হয়েছে মোবাইল ইন্টারনেট সেবা। শুক্রবার (৯ অক্টোবর) রাত ১০টা থেকে শনিবার (১০ অক্টোবর) রাত ১০টা পর্যন্ত দেশটিতে বন্ধ থাকছে মোবাইল ইন্টারনেট সেবা। কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রসচিবের অনুমোদনের পর দিল্লি পুলিশ এ নির্দেশ জারি করে। পুলিশের দাবি, আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখতে এ পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।

শুক্রবার রাতেই মোবাইল ইন্টারনেট বন্ধের নির্দেশ পাঠানো হয় ভারতের মোবাইল অপারেটর এয়ারটেল, ভোডাফোন-আইডিয়া, জিও ও এমটিএনএলকে। 

নয়াদিল্লিতে মোবাইল ইন্টারনেট বন্ধের আওতায় রয়েছে কনট প্লেস, মান্ডি হাউস, প্রগতি ময়দান, গুরুদ্বার বাংলা সাহিব, বারাখাম্বা রোড, খান মার্কেট, লোধি রোড ও জংপুরার কিছু এলাকা। 

এর আগে জুলাইয়ে সিজেপির বিক্ষোভের সময় ইন্টারনেট সেবা স্থগিত রাখা হয়েছিল। সে সময় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভিডিও প্রকাশ এবং সংবাদমাধ্যমের তাৎক্ষণিক প্রতিবেদন তৈরিতে সমস্যা হয়েছিল বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।

বর্তমানে ভারতের প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) বিক্ষোভ ঘিরে নয়াদিল্লিতে কঠোর নিরাপত্তাব্যবস্থা নিয়েছে পুলিশ। শনিবার (১০ অক্টোবর) বিক্ষোভের আগে দিল্লি পুলিশ দেশটির জনপ্রিয় ইউটিউবার ধ্রব রাঠিকে এবং পরে সিজেপির প্রধান অভিজিৎ দীপকসহ ৬০০ জনকে আটক করেছে। 

অন্যদিকে, বিক্ষোভস্থল জন্তর মন্তর ও আশপাশের এলাকা থেকে আরও প্রায় ২০০ জনকে আটকের তথ্যও পাওয়া গেছে। 

বিক্ষোভ ঘিরে রাজধানীর বিভিন্ন প্রবেশপথে তল্লাশি ও হোটেলগুলোতে নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। গুরুত্বপূর্ণ সড়কেও যান চলাচল নিয়ন্ত্রণে রাখা হয়েছে। এমনকি দিল্লি মেট্রোর ৪৫টি স্টেশনও বন্ধ রাখা হয়েছে।  পাশাপাশি ২৫০টির বেশি ট্রেন বাতিল করা হয়। 

বিক্ষোভের আগে দিল্লি মেট্রোর ৫৭টি স্টেশন বন্ধ রাখার প্রাথমিক পরিকল্পনা করা হয়েছিল। পরে দিল্লি মেট্রো রেল করপোরেশন (ডিএমআরসি) তালিকা সংশোধন করে ৪৫টি স্টেশন বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেয়।  

রাজীব চক, নয়াদিল্লি, সেন্ট্রাল সেক্রেটারিয়েট, প্যাটেল চক, মান্ডি হাউস ও কাশ্মীরি গেটের মতো গুরুত্বপূর্ণ স্টেশনও বিধিনিষেধের আওতায় ছিল। তবে গেট বন্ধ রাখার অর্থ সংশ্লিষ্ট সব স্টেশনের কার্যক্রম পুরোপুরি বন্ধ থাকা নয়।

গণপরিবহনে বিধিনিষেধের বিষয়টি গেল শুক্রবার ভারতের সুপ্রিম কোর্টেও ওঠে। প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্তের নেতৃত্বাধীন বেঞ্চ সাধারণ মানুষের যাতায়াতের ওপর বিধিনিষেধ নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। 

শুনানিতে সলিসিটর জেনারেল তুষার মেহতা বলেন, প্রতিবাদের অধিকার রক্ষার পাশাপাশি সাধারণ মানুষের অধিকার ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করাও সরকারের দায়িত্ব। তিনি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে বিধিনিষেধ পুনর্বিবেচনার বিষয়টি দেখার আশ্বাস দেন।

সিজেপি প্রধান নির্বাচন কমিশনারের পদত্যাগ এবং ভোটার তালিকার সংশোধন (এসআইআর) প্রক্রিয়া নিয়ে জবাবদিহিতার দাবিতে গেল ২ অক্টোবর বিক্ষোভের ডাক দেয়। সিজিপি ও বিরোধী দলের অভিযোগ, ভোটার তালিকা সংশোধনের মাধ্যমে বিপুলসংখ্যক মানুষের নাম বাদ পড়ায় নির্বাচনী প্রক্রিয়ার নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। মূলত এ প্রক্রিয়ায় প্রায় ১৩ কোটি ভোটারের নাম বাদ পড়ার বিষয়টি নিয়ে বিতর্ক তৈরি হয়।

তবে ভারতের নির্বাচন কমিশন ও ক্ষমতাসীন ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি) অনিয়মের অভিযোগ অস্বীকার করেছে। নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, যাচাই প্রক্রিয়ায় খুঁজে পাওয়া যায়নি এমন ব্যক্তি এবং মৃত ভোটারদের নাম চিহ্নিত করা হয়েছে। কমিশনের বক্তব্য, খসড়া তালিকায় নাম বাদ পড়া মানেই সংশোধন প্রক্রিয়া শেষ নয়। ভুলভাবে বাদ পড়া ভোটারদের নাম পুনরায় অন্তর্ভুক্ত করার সুযোগ রয়েছে।

তথ্যসূত্র: টাইমস অব ইন্ডিয়া, এনডিটিভি, 

এ সম্পর্কিত খবর
আরও পড়ুন