সোমবার, ১৮ মে ২০২৬

| ৩ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩

প্রযুক্তিবিশ্বে নতুন আলোচনা

মনের কথা আগেই জানতে পারবে মেটার এআই

টেক স্ক্রল

প্রকাশ: ০৮:৫২, ১৮ মে ২০২৬

মনের কথা আগেই জানতে পারবে মেটার এআই

মনের কথা আগেই জানতে পারবে মেটার এআই

বর্তমান এআই মডেলগুলো কমান্ডের ওপর ভিত্তি করে কাজ করতে পারে। যেমন কোনো ছবি বা ভিডিও তৈরির ক্ষেত্রে তাকে বিস্তারিত লিখে দিতে হয় কিংবা ভয়েস কমান্ড দিতে হয়। এই গণ্ডি থেকে শিগগির বের হতে পারে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রযুক্তি। আগে থেকে বুঝতে পারবে মানুষ কি চাচ্ছে। কারণ এরইমধ্যে মানুষের মস্তিষ্ক কিভাবে কাজ করে, সেটি শনাক্তে সক্ষম এআই মডেল নিয়ে কাজ শুরু করেছে ফেসবুকের মালিক প্রতিষ্ঠান মেটা।

 স্মার্ট চশমায় ফেস রিকগনিশন পুরোপুরি বাতিল চায় মানবাধিকার সংগঠন

সুপরিচিত লেখক ও চলচ্চিত্র নির্মাতা অ্যাশলি ভ্যান্সের সঞ্চালনায়, বিজ্ঞান ও প্রযক্তি বিষয়ক পডকাস্ট 'কোর মেমোরি'তে সম্প্রতি এ গবেষণা নিয়ে কথা বলেন মেটার প্রধান এআই কর্মকর্তা আলেকজান্ডার ওয়াংয়ে। তিনি জানান, একাধিক এআই মডেল নিয়ে মেটার গবেষণা চলমান রয়েছে। যেখানে কোনো ছবি বা ভিডিও দেখলে কিংবা কোনো শব্দ শুনলে মানুষের মস্তিষ্কের কি প্রতিক্রিয়া হয়, তা বুঝতে পারার জন্য এসব মডেল ডিজাইন করা হচ্ছে। তার মানে, আগামীর এআই, মানুষের অনুভূতি, আবেগ, প্রতিক্রিয়া আগে থেকেই বুঝতে পারবে। ফলে কথোপকথন কিংবা কোনো বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেয়ার ক্ষেত্রে একধাপ এগিয়ে থাকবে এআই। মেটার এ গবেষণা ব্যক্তিগত গোপনীয়তা ও তথ্যের নিরাপত্তায় নতুন উদ্বেগ তৈরি করেছে।

 ইলন মাস্কের বাড়িয়ে বলার অভ্যাস কি যাবে না?

‘ফাউন্ডেশন মডেলস ফর ব্রেন প্রেডিকশন’ নামের এআই মডেলগুলো মানুষের মস্তিষ্কের কাজের ধরন বিশ্লেষণ করে সম্ভাব্য প্রতিক্রিয়া অনুমান করার চেষ্টা করবে। নতুন এ প্রযুক্তি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রযুক্তির ক্ষেত্রে বেশ বড় অগ্রগতি নিয়ে আসবে।

মেটার উদ্যোগ প্রযুক্তিবিশ্বে তৈরি করেছে নতুন আলোচনা। এখন পর্যন্ত এআই ব্যবস্থাগুলো ব্যবহারকারীর আচরণভিত্তিক তথ্য বিশ্লেষণ করে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এমন প্রযুক্তি আগামীতে ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের কাজের ধরনেও বড় পরিবর্তন আনবে। এখন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম বা ইউটিউবের মতো ভিডিও প্ল্যাটফর্মগুলো ব্যবহারকারীর ইন্টারনেট ব্যবহারের ইতিহাস, লাইক, সার্চ বা অনলাইন কার্যক্রম বিশ্লেষণ করে কনটেন্ট প্রদর্শন করে। মস্তিষ্কের প্রতিক্রিয়া বিশ্লেষণ প্রযুক্তি, ব্যবহারকারীর প্রতিক্রিয়া অনুমান করেই এ কাজ করতে পারবে। তাকে ইন্টারনেট ব্যবহারের ইতিহাস, লাইক, কমেন্ট জানতে হবে না।

তবে এই প্রযুক্তি ভালো দিকও থাকতে পারে। প্রযুক্তিপ্রতিষ্ঠানগুলো বলছে, এ ধরনের প্রযুক্তি স্বাস্থ্যসেবা, স্নায়ুবিজ্ঞান গবেষণায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। কথা বলতে না পারা মানুষ বা নিউরোলজিকাল সমস্যায় আক্রান্ত রোগীকে সহায়তায় ভবিষ্যতে এসব প্রযুক্তি কার্যকর হতে পারে।

এ সম্পর্কিত খবর
আরও পড়ুন