সাশ্রয়ী প্রযুক্তির অপেক্ষায় তরুণরা
আসন্ন অর্থবছরের বাজেটে প্রযুক্তি খাতে তরুণদের প্রত্যাশা
টেকস্ক্রল নেটওয়ার্ক
প্রকাশ: ১৫:৪৯, ২ জুন ২০২৬ | আপডেট: ১৬:০৮, ২ জুন ২০২৬
আসন্ন অর্থবছরের বাজেটে প্রযুক্তি খাতে তরুণদের প্রত্যাশা
প্রযুক্তিতে তরুণদের প্রত্যাশা
আসন্ন ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জাতীয় বাজেটকে ঘিরে দেশের তরুণদের প্রত্যাশার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে প্রযুক্তি ও টেলিযোগাযোগ খাত। ডিজিটাল বাংলাদেশের লক্ষ্য বাস্তবায়নে প্রযুক্তিপণ্যের দাম কমানো, ইন্টারনেটকে আরও সাশ্রয়ী করা এবং প্রযুক্তি শিক্ষায় বিনিয়োগ বাড়ানোর দাবি জানিয়েছেন শিক্ষার্থীরা।
প্রযুক্তিপণ্যের দাম কমানোর দাবি
সাউথ ইস্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের বিবিএ শিক্ষার্থী জাহিদ হাসান বলেন, বর্তমানে একটি ভালো মানের স্মার্টফোন কিংবা ল্যাপটপ কিনতে আগের তুলনায় অনেক বেশি অর্থ ব্যয় করতে হচ্ছে। শুধু স্মার্টফোন নয়, র্যাম, এসএসডি, প্রসেসরসহ বিভিন্ন কম্পিউটার যন্ত্রাংশের দামও সাধারণ শিক্ষার্থীদের নাগালের বাইরে চলে যাচ্ছে।
তার মতে, অনলাইন শিক্ষা, ফ্রিল্যান্সিং, গ্রাফিক ডিজাইন, প্রোগ্রামিং কিংবা কনটেন্ট তৈরির মতো কাজের জন্য এসব ডিভাইস এখন আর বিলাসিতা নয়, বরং প্রয়োজনীয় উপকরণ। তাই প্রযুক্তিপণ্যের ওপর আরোপিত কর ও শুল্ক কাঠামো পুনর্বিবেচনা করা প্রয়োজন।
সবার জন্য সাশ্রয়ী ইন্টারনেট
তেজগাঁও কলেজের বিবিএ শিক্ষার্থী সামিউর রহমান শাওনসহ তার সহপাঠীরা মনে করেন, ইন্টারনেট এখন বিদ্যুৎ ও পানির মতো মৌলিক সেবায় পরিণত হয়েছে। অথচ মোবাইল ডেটা এবং ব্রডব্যান্ড সেবার ব্যয় এখনও অনেক পরিবারের জন্য বাড়তি চাপ তৈরি করছে।
শিক্ষার্থীদের দাবি, বাজেটে এমন উদ্যোগ নেওয়া উচিত যাতে ইন্টারনেটের দাম কমে এবং সেবার মান বাড়ে। বিশেষ করে গ্রামীণ অঞ্চলে দ্রুতগতির ইন্টারনেট পৌঁছে দেওয়া এবং মোবাইল নেটওয়ার্কের মান উন্নয়নে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার প্রত্যাশা রয়েছে তাদের।
কলড্রপ, ধীরগতির ডেটা এবং নেটওয়ার্ক সমস্যার মতো দীর্ঘদিনের অভিযোগগুলো সমাধানেও বাজেটে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তারা।
ডিজিটাল সেবার বাস্তব উন্নয়ন চান তরুণরা
সরকারি বিভিন্ন সেবা অনলাইনে আনার উদ্যোগ থাকলেও বাস্তবে অনেক ক্ষেত্রেই কাঙ্ক্ষিত সুবিধা পাওয়া যাচ্ছে না বলে অভিযোগ তরুণদের। সিটি কলেজের শিক্ষার্থী রাইহান বলেন, অনেক সরকারি ওয়েবসাইট তৈরি হলেও সেগুলোর ব্যবহারযোগ্যতা এবং তথ্য হালনাগাদের ক্ষেত্রে ঘাটতি রয়েছে। নাগরিকদের স্বাস্থ্য, শিক্ষা, ভূমি ও অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ নথি ডিজিটালভাবে সংরক্ষণ ও পুনরুদ্ধারের কার্যকর ব্যবস্থা এখনও পর্যাপ্ত নয়। তার মতে, একটি সমন্বিত ডিজিটাল সেবা প্ল্যাটফর্ম গড়ে তুলতে পারলে নাগরিক ভোগান্তি যেমন কমবে, তেমনি সরকারি সেবার স্বচ্ছতা ও দক্ষতাও বাড়বে।
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা গবেষণায় বিনিয়োগের আহ্বান
বর্তমানে বিশ্বজুড়ে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই প্রযুক্তির দ্রুত প্রসার ঘটছে। বাংলাদেশেও তরুণদের একটি বড় অংশ এআই, মেশিন লার্নিং, ডেটা সায়েন্স এবং সাইবার সিকিউরিটি নিয়ে কাজ করছেন।
সিটি কলেজের বিবিএ শিক্ষার্থী সএম নাহিদুজ্জামান প্রিন্স মনে করেন, শুধু প্রযুক্তি ব্যবহার নয়, প্রযুক্তি উদ্ভাবনের সক্ষমতাও তৈরি করতে হবে। এজন্য বিশ্ববিদ্যালয় ও গবেষণা প্রতিষ্ঠানে এআই গবেষণার জন্য বিশেষ তহবিল, প্রশিক্ষণ এবং আধুনিক গবেষণা অবকাঠামো গড়ে তোলা প্রয়োজন।
একই সঙ্গে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভুয়া তথ্য, অনলাইন প্রতারণা ও সাইবার অপরাধ মোকাবিলায় তরুণদের প্রশিক্ষণ ও সচেতনতা কার্যক্রম বাড়ানোরও দাবি জানান তিনি।

চীনের বাজার নিয়ন্ত্রণে কঠোর অবস্থানে ওয়াশিংটন
প্রযুক্তিকে মানবসম্পদ উন্নয়নের হাতিয়ার হিসেবে দেখার আহ্বান
তরুণদের অভিন্ন মত হলো, প্রযুক্তি ও টেলিযোগাযোগ খাতকে কেবল রাজস্ব আয়ের উৎস হিসেবে বিবেচনা করলে চলবে না। এটি দেশের মানবসম্পদ উন্নয়ন, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং ডিজিটাল অন্তর্ভুক্তি নিশ্চিত করার অন্যতম প্রধান মাধ্যম।
তাদের প্রত্যাশা, আসন্ন বাজেটে এমন পদক্ষেপ নেওয়া হবে যাতে প্রযুক্তি আরও সহজলভ্য, সাশ্রয়ী এবং কার্যকর হয়। একই সঙ্গে দেশের তরুণ প্রজন্মকে ভবিষ্যতের প্রযুক্তিনির্ভর বিশ্বে প্রতিযোগিতার জন্য প্রস্তুত করার বাস্তব পরিকল্পনাও বাজেটে প্রতিফলিত হবে।













