স্মার্ট কনট্যাক্ট লেন্স
বাজারে আসছে স্মার্ট কনট্যাক্ট লেন্স - মিলবে স্বাস্থ্যসেবাও
টেকস্ক্রল নেটওয়ার্ক
প্রকাশ: ২০:০৬, ২৫ মে ২০২৬
বাজারে আসছে স্মার্ট কনট্যাক্ট লেন্স - মিলবে স্বাস্থ্যসেবাও
স্মার্ট কনট্যাক্ট লেন্স
প্রযুক্তির অগ্রগতির সঙ্গে স্মার্ট ডিভাইসের ব্যবহার প্রতিনিয়ত বাড়ছে। স্মার্ট গ্লাসের মাধ্যমে ছবি তোলা, ভিডিও ধারণ কিংবা গান শোনার সুবিধার সঙ্গে অনেকেই ইতোমধ্যে পরিচিত। তবে এবার প্রযুক্তি যাচ্ছে আরও এক ধাপ এগিয়ে। বিশ্ববাজারে আসতে যাচ্ছে স্মার্ট কনট্যাক্ট লেন্স, যা বদলে দিতে পারে ডিজিটাল ব্যবহারের অভিজ্ঞতা।
দুবাইভিত্তিক একটি প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান ইতোমধ্যে তৈরি করেছে স্মার্ট কনট্যাক্ট লেন্সের প্রোটোটাইপ। প্রতিষ্ঠানটির দাবি, এটি স্মার্ট গ্লাসের তুলনায় আরও উন্নত অভিজ্ঞতা দেবে। এই লেন্সের মাধ্যমে ব্যবহারকারীরা মেসেজ আদান-প্রদান, মানচিত্রের সাহায্যে দিকনির্দেশনা, ছবি তোলা, ভিডিও দেখা এবং বিভিন্ন ডিজিটাল সুবিধা উপভোগ করতে পারবেন। পাশাপাশি স্বাস্থ্য সম্পর্কিত গুরুত্বপূর্ণ তথ্যও জানা যাবে এই ডিভাইসের মাধ্যমে।
প্রতিষ্ঠানটি জানায়, তারা ইতোমধ্যে ভেঞ্চার ক্যাপিটাল থেকে দুই দফায় বিনিয়োগ পেয়েছে। আগামী ২০৩০ সালের মধ্যেই স্মার্ট কনট্যাক্ট লেন্সের একটি বাণিজ্যিক সংস্করণ বাজারে আনার লক্ষ্য রয়েছে তাদের। একই সময় এর বিক্রি শুরু হওয়ার সম্ভাবনার কথাও জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
অন্যদিকে, সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের সাইন্স ট্রান্সলেশনাল মেডিসিন জার্নালে প্রকাশিত এক গবেষণায় উঠে এসেছে “থেরানোস্টিক” নামের একটি স্মার্ট কনট্যাক্ট লেন্সের তথ্য। গবেষকদের দাবি, এই লেন্স চোখের চাপ পর্যবেক্ষণের পাশাপাশি স্বয়ংক্রিয়ভাবে প্রয়োজন অনুযায়ী ওষুধ সরবরাহ করতে সক্ষম। বিশেষ করে গ্লুকোমা চিকিৎসায় এটি নতুন সম্ভাবনা তৈরি করেছে।
গ্লুকোমা এমন একটি নীরব চোখের রোগ, যা ধীরে ধীরে মানুষের দৃষ্টিশক্তি নষ্ট করে দেয়। বিশ্বজুড়ে অন্ধত্বের দ্বিতীয় প্রধান কারণ হিসেবে পরিচিত এই রোগের সবচেয়ে ভয়ংকর দিক হলো, অনেক রোগী আক্রান্ত হওয়ার পরও তা বুঝতে পারেন না। বর্তমানে গ্লুকোমার স্থায়ী কোনো চিকিৎসা নেই।
ঈদে মোবাইল বাজারে নানান অফার - তবুও ক্রেতা কম
চোখের ভেতরের চাপ বা আই প্রেসার সময়ের সঙ্গে পরিবর্তিত হয়। এই চাপ পরিমাপের জন্য রোগীদের নিয়মিত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হতে হয়। তবে অনেক ক্ষেত্রেই রোগীরা তা নিয়মিত করতে পারেন না। গবেষকদের মতে, থেরানোস্টিক লেন্স রোগ শনাক্ত করার পাশাপাশি চোখের চাপ পর্যবেক্ষণ করে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা দিতে পারবে।
গবেষণায় বলা হয়েছে, লেন্সটি রোগীর চোখ ও দৃষ্টিশক্তি অনুযায়ী আলাদাভাবে তৈরি করা হবে। শুরুতে ব্যবহারকারীদের কয়েক সপ্তাহ এটি ব্যবহার করে স্বস্তি বা অস্বস্তির অভিজ্ঞতা জানাতে হবে। প্রাথমিকভাবে এক সপ্তাহ পর্যন্ত লেন্সটি ব্যবহার করা সম্ভব হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। ভবিষ্যতে ওষুধ ধারণক্ষমতা বাড়ানো গেলে এটি আরও দীর্ঘ সময় ব্যবহার করা যেতে পারে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই প্রযুক্তি শুধু গ্লুকোমা নয়, ভবিষ্যতে চোখসহ শরীরের বিভিন্ন রোগের চিকিৎসায়ও নতুন দিগন্ত উন্মোচন করতে পারে। স্মার্ট কনট্যাক্ট লেন্স প্রযুক্তি স্বাস্থ্যসেবা ও ডিজিটাল প্রযুক্তির সমন্বয়ে ভবিষ্যতের চিকিৎসাব্যবস্থায় বড় পরিবর্তন আনতে পারে বলেও মনে করছেন তারা।
টেলিকম পলিসি নিয়ে ফিসফাস! বিটিআরসি চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল অব. এমদাদ উল বারী যা বলেছেন ১৬মে
সূত্র: সিএনএন, স্টেট নিউজ













