চিপ বিক্রিতে নিষেধাজ্ঞা
চীনের বাজার নিয়ন্ত্রণে কঠোর অবস্থানে ওয়াশিংটন
টেকস্ক্রল নেটওয়ার্ক
প্রকাশ: ১১:১৩, ২ জুন ২০২৬
চীনের বাজার নিয়ন্ত্রণে কঠোর অবস্থানে ওয়াশিংটন
চিপ যুদ্ধে নতুন অধ্যায়
চীনের বাইরে অবস্থানরত চীনা কোম্পানিগুলোর সহযোগী প্রতিষ্ঠানের কাছে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) সম্পন্ন চিপ বা সেমিকন্ডাক্টর বিক্রিতে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। দেশটির আইনি ফাঁক ব্যবহার করে চীন যেন এসব উন্নত প্রযুক্তি হাতে না পায় তাই কঠোর অবস্থান।
যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের স্পষ্ট জবাব, শুধু চীনের বাইরে প্রতিষ্ঠান খোলার সুযোগে এই নিষেধাজ্ঞা এড়ানো যাবে না। চীনের বাইরে অবস্থিত কোনো চীনা প্রতিষ্ঠানের জন্যও এই রপ্তানি নিয়ন্ত্রণ কার্যকর হবে।
প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের শেষ সময়ে এআই চিপ রপ্তানি নিয়ন্ত্রনে ফ্রেমওয়ার্ক ফর আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স ডিফিউশন নামে একটি নীতি বাস্তবায়নের পরিকল্পনা নেয়া হয়েছিল। এই নীতির আওতায় এআই চিপ রপ্তানিতে কঠোর লাইসেন্স ব্যবস্থা চালুর পরিকল্পনা নেয়া হয়। তবে এনভিডিয়ার মতো বিশ্বের দাপুটে চিপ উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানগুলো এর বিরোধিতা করে। তাদের দাবি ছিল, এমন কড়াকড়ি উদ্ভাবন ও আন্তঃদেশীয় সহযোগিতার পথে বাধা হয়ে দাঁড়াবে। পরে ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন গত মে মাসে এই নীতিটি বাতিল করে দেয়। এতে চলমান নিষেধাজ্ঞা কিছুটা শিথিল হয়েছে বলে অনেকের ধারণা। এবার এই বিভ্রান্তি দূর করতেই নতুন ব্যাখা টানলেন মার্কিন সরকার।
ট্রাম্প প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছিল, অতিরিক্ত নিয়ন্ত্রণমূলক ব্যবস্থার কারণে অন্য দেশের সঙ্গে ওয়াশিংটনের কূটনৈতিক সম্পর্ক ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। চিপ খাতের জায়ান্ট এনভিডিয়া জানিয়েছে, তাদের রপ্তানি সঠিক পথেই রয়েছে। নিয়ম মেনেই ব্যবসা চালাচ্ছেন তারা।
বাইডেন প্রশাসনের সাবেক কর্মকর্তা ক্রিস ম্যাকগুয়ারের অভিযোগ, নিয়ম স্পষ্ট না থাকায় চীনা কোম্পানিগুলো আইনি ফাঁকফোকর ব্যবহার করে এসব চিপ কিনেত সক্ষম হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের রপ্তানি নিয়ন্ত্রক সংস্থা তাদের কাজ সঠিকভাবে না করায় এই সুযোগ তৈরি হয়েছে। তবে নতুন নির্দেশনার ফলে চিপ বিক্রির বিষয়টি এখন স্পষ্ট। চীনা প্রতিষ্ঠানগুলো আগে যে চিপ কিনেছে তা বন্ধের বিষয়ে নির্দেশনা প্রয়োজন বলে মনে করেন তিনি।
মোবাইল ইন্টারনেটের গতিতে পিছিয়েছে ঢাকা ও চট্টগ্রাম
বিগত বছরগুলোতে যুক্তরাষ্ট্র ধারাবাহিকভাবে চীনের কাছে সেমিকন্ডাক্টর ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাসহ কিছু উন্নত প্রযুক্তি পণ্য রপ্তানি সীমিত করার চেষ্টা চালিয়েছে। চীনের সামরিক ও কৌশলগত সক্ষমতার বৃদ্ধি ঠেকাতেই এমন প্রচেষ্টা। এখন চীনের বাইরের সহযোগী প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে শক্তিশালি ব্ল্যাকওয়েল চিপের সরবরাহ আবারও অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে।

এদিকে, গেল ডিসেম্বর ট্রাম্প প্রশাসন এনভিডিয়াকে তাদের ‘এইচ-২০০’ চিপ চীনে বিক্রির অনুমতি দেয়। এই এইচ-২০০ চিপটি এনভিডিয়ার সবচেয়ে শক্তিশালী চিপ না হলেও আগে অনুমোদিত এইচ-২০ চিপের চেয়ে প্রায় ছয় গুণ বেশি শক্তিশালী। দুই দেশের এই প্রযুক্তি যুদ্ধে একদিকে যুক্তরাষ্ট্র চীনের উন্নত প্রযুক্তি প্রবেশ সীমিত করার পাশপাশি কিছু নির্দিষ্ট ক্ষেত্রে রপ্তানির সুযোগ নিয়ন্ত্রন করছে।













