এআইভিত্তিক নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা ব্যবস্থা
কি আছে যুক্তরাষ্ট্রের নতুন সামরিক প্রকল্প গোল্ডেন ডোমে?
টেকস্ক্রল
প্রকাশ: ১৩:২২, ৩ জুন ২০২৬ | আপডেট: ১৪:০৭, ৩ জুন ২০২৬
যুক্তরাষ্ট্রের গোল্ডেন ডোম কনসেপ্ট
মার্কিন ভূখণ্ডের জন্য ইরানের সামরিক সক্ষমতা কি বড় হুমকি? না হওয়ার সম্ভাবনাই খুব বেশি। বরং অনেকে মনে করেন, চীন যেভাবে সামরিক প্রযুক্তি উন্নয়নে এগিয়ে যাচ্ছে, তাতে বেইজিংকে ওয়াশিংটনের সবচেয়ে বড় সামরিক হুমকি মনে করার যথেষ্ট কারণ রয়েছে। পরমাণু প্রযুক্তি শুধু নয়, আধুনিক যুদ্ধ ব্যবস্থায় ড্রোন আর বোমারু বিমানের উন্নয়নও নতুন করে ভাবাচ্ছে যুদ্ধ-বিশ্লেষকদের।
ইরান যুদ্ধে একটি বাস্তবতা সামনে এসেছে। ড্রোনের ব্যবহার, যুদ্ধের গতিপ্রকৃতি পাল্টে দিতে পারে। লেবানন ফ্রন্টে হিজবুল্লাহর ফাইবার অপটিক এফপিভি ড্রোনের কাছে ইসরায়েলের আয়রন ডোমের নাকানিচুবানিও আরেকটি উদাহরণ। হয়তো এসব চিন্তা মাথায় রেখেই ট্রাম্প প্রশাসনের গোল্ডেন ডোম প্রকল্প।
সহানুভূতির আড়ালে ধ্বংসাত্মক কাজে প্ররোচনা দিচ্ছে চ্যাটজিপিটি
ইসরায়েলের আয়রন ডোমের অনুকরণে এ্রই প্রকল্প। তবে কাজের ক্ষেত্রে পুরোপুরি আলাদা। গোল্ডেন ডোম কাজ করবে মহাকাশ থেকে। এজন্য লকহিড মার্টিন, স্পেসএক্সসহ শীর্ষস্থানীয় ১২টি সংস্থাকে দায়িত্ব দেয়া হয়েছে। যেখানে ইলন মাস্কের স্পেসএক্স প্রায় ৪০০ কোটি ডলারের কাজ পেয়েছে।
গোল্ডেন ডোম হল এআই চালিত বহু স্তরবিশিষ্ট আকাশ ও ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের আকাশসীমাকে যেকোনো ধরনের বিদেশি মিসাইল, বিমান বা ঝাঁকে ঝাঁকে ড্রোন হামলা থেকে বাঁচাতে এই মেগা প্রজেক্টের পরিকল্পনা।
যেভাবে কাজ করবে গোল্ডেন ডোম
শত্রুপক্ষের ব্যালিস্টিক মিসাইল, ক্রজ মিসাইল এমনকি হাইপারসনিক মিসাইল ছোঁড়ার সঙ্গে সঙ্গে শনাক্ত করতে পারবে গোল্ডেন ডোম। এমনকি এলোমেলো পথের ড্রোন শনাক্তও সম্ভব হবে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা এবং স্যাটেলাইটের মাধ্যমে ধেয়ে আসা ক্ষেপণাস্ত্রের নিখুঁত গতিপথ ও সম্ভাব্য আঘাতের স্থান হিসাব করতে পারবে গোল্ডেন ডোম। শুধু শনাক্ত করা নয়, ধ্বংসের ক্ষমতাও রাখবে এই ব্যবস্থা। টার্গেটে আঘাত হানার আগেই মহাকাশে কিংবা বায়ুমণ্ডলের উপরের স্তরে প্রতিরোধক ক্ষেপণাস্ত্রের সাহায্যে শত্রুর মিসাইল ধ্বংস করা হবে।
২০২৬-২৭ বাজেটে প্রযুক্তি খাতে তরুণদের প্রত্যাশা কি?
এই প্রজেক্টের অন্যতম মূল ভিত্তি হলো মহাকাশে স্থাপন করা বিশেষ ট্র্যাকিং স্যাটেলাইট নেটওয়ার্ক। এই মহাকাশ কেন্দ্র ও প্রযুক্তি উন্নয়নের দায়িত্বে রয়েছে মার্কিন স্পেস ফোর্স। এটি সম্পূর্ণ নতুন কোনো একক অস্ত্র নয়, বরং বিদ্যমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার ফাঁকফোকর পূরণ করে বিভিন্ন রাডার, ইন্টারসেপ্টর ও স্যাটেলাইটকে এক সুতোয় বাঁধার একটি সমন্বিত ব্যবস্থা। আগামী ২০ বছরে এই প্রকল্পের পেছনে আনুমানিক ১.২ ট্রিলিয়ন ডলার খরচ হতে পারে।
গোল্ডেন ডোম প্রজেক্টের মূল শক্তি এর অত্যাধুনিক মহাকাশ প্রযুক্তি। প্রচলতি রাডার ব্যবস্থায় একটি নির্দিষ্ট দূরত্বের মিসাইল শনাক্ত করা সম্ভব। এছাড়া খুব দ্রুত গতির হাইপারসনিক মিসাইল ট্র্যাক করাও সম্ভব নয় এ ব্যবস্থায়। এ সীমাবদ্ধতা দূর করতে মার্কিন স্পেস ফোর্স মহাকাশে একটি বড় এবং অবিচ্ছিন্ন স্যাটেলাইট নেটওয়ার্ক তৈরি করছে। এটিই গোল্ডেন ডোম ব্যবস্থা।
আগে প্রতিরক্ষার জন্য মহাকাশের অনেক উঁচুতে হাতেগোনা কিছু বড় স্যাটেলাইট রাখা হতো। নতুন ব্যবস্থাপনায় নিম্ন কক্ষপথ বা লো আর্থ অরবিটে ৪০০ থেকে ১০০০টি ছোট ও মাঝারি স্যাটেলাইটের অবিচ্ছিন্ন নেটওয়ার্ক তৈরি করা হচ্ছে।
যুক্তরাষ্ট্রের গোল্ডেন ডোম প্রজেক্টের নেপথ্যের কারণ হিসেবে অনেকে চীনের একের পর এক স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণকেও মনে করেন। ২০২৩ সালে ২১৩টি স্যাটেলাইট পাঠিয়েছিল চীন। ২০২৪ সালে ২৬৩টি। কিন্তু ২০২৫ সালে এক লাফে এ সংখ্যা ৩৭০ এ দাঁড়ায়। মানে দিন কমপক্ষে একটি স্যাটেলাইট পাঠানো হয় সে বছর। তবে চমকে দেয়ার মতো বিষয় হচ্ছে, চলতি বছর অর্থাৎ ২০২৬ সালে ৬৪৮টি স্যাটেলাইট পাঠানোর চিন্তা বেইজিংয়ের। এর মধ্যে মে মাস নাগাদ পাঠানো হয়েছে ৬০টির বেশি।













