জাতিসংঘের সতর্কবার্তা
এআই ব্যবহারে বৈষম্য বাড়লে গভীর হবে বৈশ্বিক অর্থনৈতিক অসমতা
প্রকাশ: ১৩:১৪, ২৬ অক্টোবর ২০২৬
এআই ব্যবহারে বৈষম্য বাড়লে গভীর হবে বৈশ্বিক অর্থনৈতিক অসমতা
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ব্যবহারের সুযোগে ধনী ও দরিদ্র দেশগুলোর মধ্যে ব্যবধান বাড়লে বিশ্বজুড়ে সামাজিক ও অর্থনৈতিক বৈষম্য আরও গভীর হতে পারে। নির্ভরযোগ্য বিদ্যুৎ, ইন্টারনেট সংযোগ ও প্রযুক্তিগত দক্ষতার অভাবে উন্নয়নশীল দেশগুলো এআইয়ের অর্থনৈতিক সুফল থেকে বঞ্চিত হওয়ার ঝুঁকিতে রয়েছে। এ বিষয়ে সতর্ক করেছেন জাতিসংঘের আন্তর্জাতিক টেলিযোগাযোগ ইউনিয়নের (আইটিইউ) উপমহাসচিব টমাস লামানাউসকাস।
কাতারের দোহায় জাতিসংঘের বাণিজ্য ও উন্নয়নবিষয়ক সম্মেলনের বিশ্ব বিনিয়োগ ফোরামের এক অনুষ্ঠানে আল জাজিরাকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে লামানাউসকাস বলেন, এআই ব্যবহারের সুযোগে বৈষম্য শুধু ডিজিটাল প্রযুক্তিতে প্রবেশাধিকারের পার্থক্য নয়; এটি উন্নয়নের সুযোগেও বড় ব্যবধান তৈরি করতে পারে।
স্বাস্থ্যসেবা, শিক্ষা, সরকারি সেবা, শিল্প, কৃষি ও বাণিজ্যে এআইয়ের ব্যাপক সম্ভাবনা রয়েছে। কিন্তু সব দেশ সমানভাবে এ প্রযুক্তির সুবিধা নিতে না পারলে বিদ্যমান আর্থসামাজিক বৈষম্য আরও বাড়বে।
ডিজিটাল অবকাঠামোর বৈষম্য ইতোমধ্যে স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। লামানাউসকাসের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, আফ্রিকা ও লাতিন আমেরিকা মিলিয়ে বিশ্বের মোট ডেটা সেন্টার রয়েছে ৩ দশমিক ৩ শতাংশ রয়েছে। অন্যদিকে, বিশ্বে এখনো ২২০ কোটি মানুষ ইন্টারনেট ব্যবহারের সুযোগের বাইরে। ২০৩০ সালের মধ্যে ডিজিটাল অবকাঠামোর এই ব্যবধান কমাতে আনুমানিক ২ দশমিক ৮ ট্রিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ প্রয়োজন বলেও জানান তিনি।
জাতিসংঘের উন্নয়ন কর্মসূচি (ইউএনডিপি) ২০২৫ সালের এক প্রতিবেদনে সতর্ক করেছিল, এআই দেশগুলোর মধ্যে নতুন করে বৈষম্য তৈরি করতে পারে। এতে অর্থনৈতিক ব্যবধান কমানোর ক্ষেত্রে কয়েক দশকের অগ্রগতি বাধাগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
এআই ব্যবহারের ক্ষেত্রেও উন্নত ও উন্নয়নশীল দেশগুলোর মধ্যে পার্থক্য রয়েছে। লামানাউসকাসের হিসাব অনুযায়ী, উন্নত দেশগুলোর কর্মক্ষম জনগোষ্ঠীর প্রায় ২৯ শতাংশ জেনারেটিভ এআই ব্যবহার করেন। উন্নয়নশীল দেশগুলোতে এ হার ১৬ শতাংশ। ফলে উৎপাদনশীলতা বাড়ানো ও নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ কাজে লাগানোর ক্ষেত্রেও পিছিয়ে পড়তে পারে এসব দেশের মানুষ।
এআইয়ের কারণে একদিকে চাকরি হারানোর আশঙ্কা থাকলেও অন্যদিকে নতুন কর্মসংস্থানের সম্ভাবনাও রয়েছে। লামানাউসকাসের পূর্বাভাস অনুযায়ী, এ প্রযুক্তির কারণে ৯ কোটি চাকরি বিলুপ্ত হতে পারে, তবে নতুন করে ১৭ কোটি কর্মসংস্থানও তৈরি হতে পারে।
একই সঙ্গে ২০৩০ সালের মধ্যে কর্মক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় দক্ষতার প্রায় ৪০ শতাংশ বদলে যেতে পারে। ফলে নতুন দক্ষতা অর্জন করতে না পারলে অনেক কর্মী সমস্যায় পড়তে পারেন।
এআই ব্যবহারে ভাষাগত বৈষম্যও বড় বাধা। লামানাউসকাস জানান, আফ্রিকার মাত্র ৭ শতাংশ ভাষা এআইভিত্তিক অনুবাদে অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। এতে বহু মানুষের জন্য এ প্রযুক্তি ব্যবহার কঠিন হয়ে পড়ছে।
লামানাউসকাসের মতে, এআইয়ের অগ্রযাত্রা থামানো সম্ভব নয়। এক দশক আগে মাত্র চারটি দেশের এআই কৌশল থাকলেও এখন ১০৪টি দেশের এ ধরনের কৌশল রয়েছে।
তাই উন্নয়নশীল দেশগুলোর অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে ডিজিটাল অবকাঠামো, শিক্ষা ও প্রযুক্তিগত দক্ষতা উন্নয়নে বিনিয়োগ বাড়াতে হবে। এআইয়ের সুফল যেন সব দেশের মানুষের কাছে পৌঁছায়, তা নিশ্চিত করাই এখন গুরুত্বপূর্ণ।
সূত্র: আল জাজিরা।













