যুক্তরাজ্যের গবেষকদের তৈরি পদ্ধতি
মাত্র ১৫ থেকে ২০ মিনিটের প্রশিক্ষণেই চেনা যাবে এআইয়ের তৈরি মুখ
টেক স্ক্রল
প্রকাশ: ১২:৫৯, ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬
এআই দিয়ে তৈরি মানুষের মুখ এখন এতটাই বাস্তব যে আসল-নকল বোঝা কঠিন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম থেকে শুরু করে বিভিন্ন অনলাইন প্ল্যাটফর্মে এ ধরনের ছবি ব্যবহারের কারণে ভুয়া পরিচয় ও প্রতারণার ঝুঁকিও বাড়ছে। তবে মাত্র ১৫ থেকে ২০ মিনিটের প্রশিক্ষণেই কৃত্রিমভাবে তৈরি মুখ শনাক্ত করার দক্ষতা উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়ানো সম্ভব বলে জানিয়েছেন গবেষকেরা।
যুক্তরাজ্যের ইউনিভার্সিটি অব সাউদাম্পটনের গবেষকেদের দাবি, তাদের তৈরি প্রশিক্ষণ পদ্ধতি ব্যবহার করে, মানুষ এআই দিয়ে তৈরি মুখ শনাক্তের ক্ষেত্রে আরও দক্ষ হয়ে উঠতে পারেন। গবেষণায় ৬ শতাধিক মানুষের ওপর পরীক্ষা চালানো হয়েছে। এতে দেখা গেছে, প্রশিক্ষণের পর অংশগ্রহণকারীদের এআই-নির্মিত মুখ শনাক্ত করার সক্ষমতা বেড়েছে। শুধু তা-ই নয়, প্রশিক্ষণের ২০ দিন পর আবার পরীক্ষা নেয়া হলেও একই দক্ষতার বড় অংশই বজায় ছিল।
নিজের উন্নয়ন নিজেই পারবে এআই, শিগগির আসছে এমন পরিস্থিতি
কোন বিষয়গুলো খেয়াল করতে হবে?
গবেষকদের তৈরি করা পদ্ধতিটির নাম দেয়া হয়েছে ডিসার্ন-এআই। সেখানে মানুষের মুখের এমন কিছু বৈশিষ্ট্যের দিকে নজর দিতে শেখানো হয়, যেগুলো সাধারণত চোখ এড়িয়ে যায়। অনেক সময় মানুষ পরিচিত ও স্বাভাবিক দেখতে মুখমণ্ডলকে আসল বলে ধরে নেয়। কিন্তু এআই এখন এমন মুখও তৈরি করতে পারে, যেগুলো দেখতে সম্পূর্ণ স্বাভাবিক। তাই শুধু মুখের গড়ন, ত্বকের মসৃণতা কিংবা হাসির ধরন দেখে সিদ্ধান্ত না নেয়ার ওপর জোর দেয়া হয়েছে প্রশিক্ষণে।
গবেষকদের মতে, মুখের বিভিন্ন বৈশিষ্ট্যের সামঞ্জস্য, অস্বাভাবিকতা এবং সামগ্রিক চেহারার সূক্ষ্ম পার্থক্য খেয়াল করা গুরুত্বপূর্ণ।
কীভাবে কাজ করে প্রশিক্ষণটি
ডিসার্ন-এআই প্রশিক্ষণকে তিনটি ধাপে ভাগ করা হয়েছে। প্রথম ধাপে মানুষ যেসব বৈশিষ্ট্যকে স্বাভাবিক বা বাস্তব মুখের লক্ষণ হিসেবে ধরে নেয়, সেগুলো সম্পর্কে সতর্ক করা হয়। যেমন-মুখের বিভিন্ন অংশের সামঞ্জস্যপূর্ণ অনুপাত বা পরিচিত ধরনের চেহারা দেখলে মানুষ সেটিকে সহজেই বাস্তব বলে ধরে নিতে পারে। কিন্তু এসব বৈশিষ্ট্য এআই-নির্মিত মুখেও থাকতে পারে।
দ্বিতীয় ধাপে এমন কিছু বৈশিষ্ট্যের দিকে নজর দিতে শেখানো হয়, যেগুলো মানুষ সাধারণত উপেক্ষা করে। গবেষকদের মতে, অত্যন্ত নিখুঁত ও পরিপাটি ছবি এআই-নির্মিত হওয়ার সম্ভাবনার একটি ইঙ্গিত হতে পারে। বিপরীতে কিছুটা অদ্ভুত, বৈচিত্র্যময় বা স্বতন্ত্র বৈশিষ্ট্য থাকা ছবি বাস্তব হওয়ার সম্ভাবনা বেশি হতে পারে।
তৃতীয় ধাপে প্রচলিত কিছু ভুল ধারণা থেকে দূরে থাকতে শেখানো হয়। যেমন মসৃণ ত্বক, হাসিমুখ বা নির্দিষ্ট ধরনের মুখভঙ্গিকে এআই ছবি হিসেবে বিবেচনা না করার পরামর্শ দেয়া হয়।
২০ দিন পরও থাকছে প্রশিক্ষণের প্রভাব
গবেষণায় অংশগ্রহণকারীদের প্রশিক্ষণের আগে ও পরে এআই-নির্মিত এবং বাস্তব মুখ শনাক্ত করতে দেয়া হয়। প্রশিক্ষণের পর তাদের শনাক্ত করার সক্ষমতা বাড়তে দেখা যায়। ২০ দিন পর আবার পরীক্ষা করা হয়। তখনও প্রশিক্ষণের প্রভাব দেখা গেছে। অর্থাৎ এটি শুধু তাৎক্ষণিকভাবে মানুষকে বেশি সতর্ক করেনি; বরং এআইয়ের তৈরি মুখ শনাক্ত করার একটি কার্যকর দক্ষতা গড়ে তুলতে সহায়তা করেছে।
কম্পিউটার অবশ্য এখনো এগিয়ে
তবে এআই-নির্মিত মুখ শনাক্ত করার ক্ষেত্রে মানুষ এখনো কম্পিউটার মডেলের সমান দক্ষ নয়। গবেষণায় ব্যবহৃত একটি কম্পিউটার মডেল প্রায় ৯৪ শতাংশ নির্ভুলতার সঙ্গে এআই-নির্মিত মুখ শনাক্ত করতে পেরেছে। প্রশিক্ষণের মাধ্যমে মানুষের সক্ষমতা বাড়লেও কম্পিউটার মডেলের নির্ভুলতা ছিল বেশি। গবেষকদের মতে, এআই দিয়ে তৈরি ভুয়া ছবি যত বেশি বাস্তবসম্মত হয়ে উঠছে, ততই সাধারণ মানুষের জন্য এ ধরনের কনটেন্ট শনাক্ত করার দক্ষতা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে। বিশেষ করে ভুয়া সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম অ্যাকাউন্ট, পরিচয় জালিয়াতি ও অনলাইন প্রতারণার ক্ষেত্রে এআই-নির্মিত মুখ ব্যবহারের ঝুঁকি থাকায় অল্প সময়ের এ প্রশিক্ষণ ভবিষ্যতে সাধারণ ব্যবহারকারীদের জন্য কার্যকর হতে পারে।













