অভিযোগ প্রমাণে সদস্যপদ স্থগিত
বিটোপিয়ার বিরুদ্ধে অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্ত চায় বেসিস
টেকস্ক্রল নেটওয়ার্ক
প্রকাশ: ০০:০৭, ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬
বিটোপিয়ার বিরুদ্ধে অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্ত চায় বেসিস
বিটোপিয়া গ্রুপ ও এর সংশ্লিষ্ট কার্যক্রমের বিষয়ে বিভিন্ন অভিযোগের স্বচ্ছ তদন্ত ও ন্যায়সংগত প্রক্রিয়া অনুসরণের আহ্বান জানিয়েছে বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব সফটওয়্যার অ্যান্ড ইনফরমেশন সার্ভিসেস (বেসিস)। অভিযোগ তদন্তের আগে কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানকে দোষী সাব্যস্ত না করার ওপরও গুরুত্ব দিয়েছে সংগঠনটি।
শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর কারওয়ান বাজারে বেসিস কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ আহ্বান জানানো হয়।
বিটোপিয়ার বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক ফ্রিল্যান্সিং মার্কেটপ্লেসে অ্যাকাউন্ট ব্যবস্থাপনা, ব্যক্তিগত পরিচয় ও তথ্যের ব্যবহার, অর্ডার ও রিভিউ ব্যবস্থাপনা, কর্মী ও ফ্রিল্যান্সারদের অ্যাকাউন্ট নিয়ন্ত্রণ এবং মার্কেটপ্লেসের নীতিমালা লঙ্ঘনসহ বিভিন্ন অভিযোগ উঠেছে। এসব অভিযোগের সত্যতা যথাযথ তদন্ত ছাড়া চূড়ান্তভাবে নির্ধারণ করা সম্ভব নয় বলে মন্তব্য করেন মোহাম্মদ জুয়েল।
সংবাদ সম্মেলনে বেসিস সহায়ক কমিটির সদস্য ও ট্রাস্ট-আইটি (বিডি) লিমিটেডের চেয়ারম্যান ইঞ্জিঃ মোহাম্মদ জুয়েল বলেন, অভিযোগগুলোর প্রকৃতি ও সম্ভাব্য প্রভাব বিবেচনায় বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা প্রয়োজন। কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রমের কারণে দেশের সামগ্রিক ফ্রিল্যান্সিং কমিউনিটির সুনাম যাতে ক্ষতিগ্রস্ত না হয় সেদিকে লক্ষ্য রাখা প্রয়োজন।
বেসিস জানায়, প্রতারণা, ভুয়া পরিচয় ব্যবহার, ব্যক্তিগত তথ্যের অপব্যবহার, ভুয়া অর্ডার, কৃত্রিম রিভিউ, মার্কেটপ্লেস ম্যানিপুলেশন কিংবা কোনো আন্তর্জাতিক প্ল্যাটফর্মের নীতিমালা লঙ্ঘনকে সংগঠনটি সমর্থন করে না। একই সঙ্গে তদন্তের আগে অভিযোগের ভিত্তিতে কাউকে দোষী সাব্যস্ত না করে ন্যায়সংগত প্রক্রিয়া নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
অভিযোগ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান বেসিসের সদস্য হলে সংগঠনের গঠনতন্ত্র, সদস্য আচরণবিধি ও প্রযোজ্য নিয়ম অনুযায়ী বিষয়টি যাচাই করা হবে বলে জানানো হয়। প্রাথমিকভাবে গুরুতর অনিয়মের বিশ্বাসযোগ্য উপাদান পাওয়া গেলে যথাযথ প্রক্রিয়ায় সদস্যপদ সাময়িকভাবে স্থগিতের বিষয় বিবেচনা করা হবে।
সংশ্লিষ্ট সদস্য বা প্রতিষ্ঠানকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া এবং বক্তব্য উপস্থাপনের সুযোগও নিশ্চিত করা হবে। তদন্তে অভিযোগ প্রমাণিত হলে গঠনতন্ত্র অনুযায়ী প্রয়োজনীয় সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
সরকারের যেকোনো বৈধ তদন্ত বা অনুসন্ধানে বেসিস সহযোগিতা করবে বলে জানান মোহাম্মদ জুয়েল। সংশ্লিষ্ট সরকারি মন্ত্রণালয়, বিভাগ, নিয়ন্ত্রক সংস্থা, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী বা অন্য কোনো কর্তৃপক্ষ প্রয়োজনীয় তথ্য চাইলে আইনগত এখতিয়ার ও সীমার মধ্যে সর্বোচ্চ সহযোগিতা করা হবে বলেও জানান তিনি।
অভিযোগের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত ফ্রিল্যান্সার, সাবেক কর্মী বা সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বক্তব্য ও তথ্য সংগ্রহের ব্যবস্থা চালুর উদ্যোগ নেওয়া হবে বলে জানানো হয়। কারও এনআইডি, পাসপোর্ট, ব্যক্তিগত তথ্য বা আন্তর্জাতিক মার্কেটপ্লেস অ্যাকাউন্ট অনুমতি ছাড়া ব্যবহার করা হয়ে থাকলে কিংবা অ্যাকাউন্টের নিয়ন্ত্রণ অন্য কোনো পক্ষের হাতে চলে গেলে তা জানানোর সুযোগ থাকবে। তথ্যদাতাদের পরিচয় ও ব্যক্তিগত তথ্যের নিরাপত্তাকে গুরুত্ব দেওয়া হবে।
মোহাম্মদ জুয়েল বলেন, ফ্রিল্যান্সারের নামে তৈরি মার্কেটপ্লেস অ্যাকাউন্টের প্রকৃত নিয়ন্ত্রণ, এনআইডি-পাসপোর্ট ও ব্যক্তিগত তথ্য ব্যবহারের নিয়ম, চাকরি শেষ হলে অ্যাকাউন্ট ও ডিজিটাল পরিচয়ের মালিকানা এবং একটি কোম্পানি বা এজেন্সি কতগুলো ব্যক্তিগত অ্যাকাউন্ট পরিচালনা করতে পারবে এসব বিষয়ে সুস্পষ্ট নীতিমালার প্রয়োজন রয়েছে।
এ লক্ষ্যে সরকারের সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে ন্যাশনাল ফ্রিল্যান্সিং অ্যান্ড গভর্নেন্স ফ্রেমওয়ার্ক (National Freelancing & Marketplace Governance Framework) তৈরির উদ্যোগ নেওয়ার প্রস্তাব করবে বেসিস। পাশাপাশি ফ্রিল্যান্সারদের পেমেন্ট গ্রহণের জটিলতা, আন্তর্জাতিক পেমেন্ট গেটওয়ের সীমাবদ্ধতা, ব্যাংকিং সমস্যা, বৈদেশিক মুদ্রা ব্যবস্থাপনা, করসংক্রান্ত অস্পষ্টতা এবং ডিজিটাল পরিচয় সুরক্ষার মতো দীর্ঘমেয়াদি বিষয়গুলোর সমাধানের প্রয়োজনীয়তার কথাও জানানো হয়।
সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, দেশের অধিকাংশ ফ্রিল্যান্সার দক্ষতা, সততা ও আন্তর্জাতিক নিয়ম মেনে কাজ করছেন এই বার্তা আন্তর্জাতিক মার্কেটপ্লেস ও বৈশ্বিক ক্রেতাদের কাছেও পৌঁছে দেওয়া প্রয়োজন।













