শনিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬

| ৩ আশ্বিন ১৪৩৩

ইনসিডেন্স রিপোর্টিং সিস্টেম

সাইবার অপরাধের অভিযোগ জানাতে নতুন প্ল্যাটফর্ম

টেকস্ক্রল নেটওয়ার্ক

প্রকাশ: ১৮:০০, ৪ আগস্ট ২০২৬ | আপডেট: ১৮:৫৪, ৪ আগস্ট ২০২৬

সাইবার অপরাধের অভিযোগ জানাতে নতুন প্ল্যাটফর্ম

সাইবার অপরাধের অভিযোগ জানাতে নতুন প্ল্যাটফর্ম

ভুয়া তথ্য ছড়ানোসহ সাইবার অপরাধের যেকোনো  বিষয়ে অভিযোগ জানাতে চালু করা হয়েছে সাইবার ইনসিডেন্স রিপোর্টিং সিস্টেম (সিআইআরএস)। একই সাথে ব্যাংকসহ আর্থিক খাতের সুরক্ষায় চালু করা হয়েছে ন্যাশনাল সিকিউরিটি রেটিং সিস্টেম (এনআরএস)। আজ মঙ্গলবার দুপুরে রাজধানীর আগারগাঁওয়ে আইসিটি টাওয়ারে বাংলাদেশ কম্পিউটার কাউন্সিল (বিসিসি) মিলনায়তনে আয়োজিত অনুষ্ঠানে ডিজিটাল এই প্ল্যাটফর্ম দুটি  উদ্বোধন করেন ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তিমন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে জানা যায়, সাইবার ইনসিডেন্স রিপোর্টিং সিস্টেম -এর মাধ্যমে দেশের যেকোনো নাগরিক অনলাইনে প্রতারণা, হয়রানি, গুজব বা সাইবার অপরাধের আয়ত্তাধীন যেকোনো ঘটনার অভিযোগ জানাতে পারবেন। 

অভিযোগগুলো একটি কেন্দ্রীয় টিকেটিং ও কমপ্লেইন ম্যানেজমেন্ট সিস্টেমের মাধ্যমে গ্রহণ, যাচাই ও ট্র্যাক করা হবে। প্রয়োজন অনুযায়ী সংশ্লিষ্ট সংস্থা যেমন আইনশৃঙ্খলা বাহিনী, বিটিআরসি বা অন্যান্য কর্তৃপক্ষের কাছে অভিযোগ পাঠানো হবে। এতে নাগরিকদের হয়রানি কমবে বলে আশা কর্তৃপক্ষের। 

এছাড়া সিস্টেমটিতে নীতি নির্ধারকদের জন্য পৃথক ড্যাশবোর্ড, রোলভিত্তিক মনিটরিং ব্যবস্থা এবং একটি এআই-চালিত চ্যাটবট যুক্ত করা হয়েছে। চ্যাটবটের মাধ্যমে নাগরিকরা জানতে পারবেন কোনটি সাইবার অপরাধ, কোথায় অভিযোগ করতে হবে, কীভাবে রিপোর্ট করতে হবে এবং সংশ্লিষ্ট আইনি তথ্যও জানতে পারবেন।

আর ন্যাশনাল রেটিং সিস্টেম দেশের সরকারি, ব্যাংকিং ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানসহ গুরুত্বপূর্ণ সংস্থাগুলোর সাইবার নিরাপত্তা সক্ষমতা মূল্যায়নের জন্য তৈরি করা হয়েছে। চারটি প্রধান সূচকের ভিত্তিতে প্রতিষ্ঠানগুলো প্রথমে নিজেরা স্ব-মূল্যায়ন করবে। পরে একটি ভ্যালিডেশন টিম সেই মূল্যায়ন যাচাই করে চূড়ান্ত স্কোর নির্ধারণ করবে। নিয়মিত মূল্যায়নের মাধ্যমে কোনো প্রতিষ্ঠানের আইটি অবকাঠামো, সফটওয়্যার, নীতিমালা, মানবসম্পদ, নিরাপত্তা ব্যবস্থা এবং আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুসরণের অবস্থা পর্যালোচনা করা হবে।

এতে প্রতিষ্ঠানগুলো নিজেদের দুর্বলতা চিহ্নিত করে কোথায় বিনিয়োগ প্রয়োজন, তা সহজেই নির্ধারণ করতে পারবে বলে আয়োজকরা আশা প্রকাশ করেন।

অনুষ্ঠানে বিটিআরসি চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল মো. এমদাদ উল বারী (অব.) বলেন, বিভিন্ন সংস্থার নিজস্ব অভিযোগ গ্রহণের ব্যবস্থা থাকলেও, সাধারণ মানুষ সাইবার অপরাধের ঘটনায় কোথায় যাবে সে বিষয়ে স্পষ্টতা ছিল না। নতুন প্ল্যাটফর্ম সেই শূন্যতা পূরণ করবে। এছাড়া আধুনিক যুদ্ধ, ড্রোন প্রযুক্তি, ক্লাউড কম্পিউটিং এবং জাতীয় নিরাপত্তার নতুন বাস্তবতায় সশস্ত্র বাহিনী, নীতিনির্ধারক ও প্রযুক্তি খাতের মধ্যে আরও সমন্বয় প্রয়োজন বলে মনে করনে তিনি।  

ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তিমন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম বলেন, ডিজিটাল প্রযুক্তির বিস্তারের সঙ্গে সাইবার হামলা, তথ্য চুরি, অনলাইন প্রতারণা ও বিভ্রান্তিকর তথ্যের ঝুঁকিও বাড়ছে। ইনসিডেন্স রিপোর্টিং সিস্টেমের মাধ্যমে নাগরিক ও প্রতিষ্ঠান সহজে সাইবার ঘটনার রিপোর্ট করতে পারবে এবং দ্রুত প্রতিকার পাবে। অন্যদিকে ন্যাশনাল সিকিউরিটি রেটিং সিস্টেমের মাধ্যমে  সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের সাইবার নিরাপত্তা সক্ষমতা মূল্যায়ন ও উন্নয়নে সহায়তা করবে।

মন্ত্রী আরও বলেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের অপব্যবহার, অপপ্রচার ও অনলাইন হয়রানি রোধে সচেতনতা এবং দায়িত্বশীল ব্যবহার নিশ্চিত করতে হবে। নিরাপদ, স্থিতিশীল ও আস্থাশীল ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়তে সরকার, প্রতিষ্ঠান ও নাগরিকদের সম্মিলিতভাবে কাজ করতে হবে। এই উদ্যোগগুলো দেশের সাইবার নিরাপত্তা কাঠামোকে আরও শক্তিশালী করবে এবং নাগরিকদের জন্য নিরাপদ ডিজিটাল পরিবেশ নিশ্চিত করবে বলেও মন্ত্রী জানান।

এ সম্পর্কিত খবর
আরও পড়ুন