শুক্রবার, ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬

| ২ আশ্বিন ১৪৩৩

অস্ট্রেলিয়ার ই-সেইফটি প্রতিবেদন

শিশুদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা কাজ করছে না

টেক স্ক্রল

প্রকাশ: ০৭:৪৫, ৩ আগস্ট ২০২৬

শিশুদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা কাজ করছে না

২০২৫ সালের ১০ ডিসেম্বর থেকে অস্ট্রেলিয়ায় ১৬ বছরের কম বয়সীদের সামাজিক মাধ্যমে প্রবেশ নিষেধ

যেসব দেশ শিশুদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রবেশ সীমিত করতে অস্ট্রেলিয়াকে অনুসরণ করতে চাইছে, তাদের কিছুটা হলেও থামিয়ে দিতে পারে ই-সেফটি কমিশনারের নতুন প্রতিবেদন।

অস্ট্রেলিয়ার অনলাইন নজরদারি সংস্থার পর্যবেক্ষণে দেখা গেছে, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম নিষিদ্ধ হওয়ার তিন মাস পরও ৮০ শতাংশের বেশি শিশু ইনস্টাগ্রাম, টিকটক বা স্ন্যাপচ্যাট প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করছে।

দুই বছরব্যাপী মূল্যায়ন প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে কমিশনার যে ধারাবাহিক প্রতিবেদন প্রকাশ করবেন, এটি তার মধ্যে প্রথম। এই নিষেধাজ্ঞা যে পরিকল্পনা মতো কাজ করছে না তার সপক্ষে আরও কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্যও রয়েছে প্রতিবেদনে।

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের ব্যবহার কমানো হয়েছে সীমিত মাত্রায়

কমিশনারের প্রতিবেদনে, ১০ থেকে ১৫ বছরের ৮০৩ জন শিশু অভিভাবকদের কাছ থেকে পাওয়া তথ্য তুলে ধরা হয়েছে। এই প্রতিবেদনে, সরকারি নীতির দীর্ঘমেয়াদী কার্যকারিতা মূল্যায়ন করা হয়নি, বরং যেভাবে আশা করা হয়েছিল সেভাবে প্রাথমিক পরিবর্তনগুলো ঘটছে কিনা তা খতিয়ে দেখা হয়েছে।

অ্যাকাউন্টধারী শিশুদের সংখ্যা ৫২ শতাংশ থেকে কমে ৪২ শতাংশে নেমে এলেও, সামাজিক মাধ্যমের অব্যাহত ব্যবহারের চিত্র উদ্বেগজনক। প্রতিবেদন বলছে, বয়সসীমা আরোপের তিন মাস পরেও শিশুদের এসব প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার এবং অ্যাকাউন্টের মালিকানা কমার মাত্রা সীমিত ছিল। এর প্রধান কারণ, প্ল্যাটফর্মগুলোর নিজেদের পক্ষে বয়স যাচাই ব্যবস্থার বাস্তবায়ন না থাকা। প্রকৃতপক্ষে, জরিপে অংশ নেয়া অর্ধেকের বেশি শিশু বলেছে যে প্ল্যাটফর্মগুলো তাদের বয়স নিশ্চিত করতে বলেনি। প্রায় ১৮ শতাংশ জানিয়েছে যে প্ল্যাটফর্মগুলো ভুলভাবে তাদের বয়স ১৬ বছরের বেশি অনুমান করেছে, এবং ৩৭ শতাংশ বলেছে যে তারা নিজেদের বয়স ১৬ বছরের  বেশি উল্লেখ করেছে।

বিধিনিষেধ আরোপের আগে ৮৫.৯ শতাংশ শিশু অন্তত একটি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ব্যবহার করতো বলে জানিয়েছিল। তিন মাস পর এই সংখ্যাটি সাড়ে ৪ শতাংশে কমেছে।

প্রতিবেদনে এমন ইঙ্গিতও পাওয়া গেছে যে কিছু শিশু রেডিট এবং পিন্টারেস্টের মতো অন্যান্য প্ল্যাটফর্মে চলে যাচ্ছিল। এদিকে, যেসব অভিভাবক জানতেন না যে তাদের সন্তান সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহার করছে, তাদের অনুপাত ১০ শতাংশ বেড়েছে।

অপ্রত্যাশিত ফলাফল

এই মূল্যায়নের ফলাফল আশ্চর্যজনক নয়। শিশুরা যে অ্যাকাউন্ট নিজেদের কব্জায় রেখে দিচ্ছে এবং বয়স যাচাই প্রক্রিয়া এড়িয়ে যাচ্ছে, এটি অস্ট্রেলিয়ার গণমাধ্যমে নিয়মিত খবর। এসব খবর, অনলাইন নিয়ন্ত্রক সংস্থার আগের একটি প্রতিবেদনকে আরও শক্তিশালী করেছে, যেখানে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলো আইন মেনে চলছে না বলে জানানো হয়েছিল।

এরপর কী হবে?

জরিমানা বৃদ্ধি এবং কমিশনারের তথ্য সংগ্রহের ক্ষমতা বাড়ানোর মাধ্যমে, নিয়ম পালন নিশ্চিতের বিষয়ে সরকারের কঠোর পদক্ষেপের পরিপ্রেক্ষিতে একেবারে সঠিক সময়েই প্রতিবেদনটির প্রকাশ করা হয়।

এখন, নিয়ম লঙ্ঘনের তদন্ত এবং জরিমানা আরোপের জন্য অস্ট্রেলিয়া সরকারের ওপর চাপ তৈরি হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এমনকি বয়স-নিশ্চিতকারী সফটওয়্যার বিক্রি করা সংস্থাগুলো সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে যে, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলো বয়স-নির্ণয়কারী টুল সঠিকভাবে ব্যবহার করছে কিনাা তা যাচাই করা হোক।

কোম্পানিগুলো যদি আইন মেনে চলে এবং ১৬ বছরের কম বয়সী শিশুদের অ্যাকাউন্ট খুলতে বাধা দেয়, তাতেও শিশুরা সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহার করা বন্ধ করবে না। আইনটিতে লগ-আউট করা অবস্থায় ব্যবহারের উপর কোনো বিধিনিষেধ নেই।

এই সবকিছু থেকে শিক্ষা নিয়ে অন্যান্য দেশগুলো আগাম ব্যবস্থা নিতে পারে বলেও পরামর্শ দিচ্ছেন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম বিশ্লেষকরা।

এ সম্পর্কিত খবর
আরও পড়ুন