মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬

| ৫ আশ্বিন ১৪৩৩

চাঁদে নতুন গর্ত

চাঁদে আছড়ে পড়েছে রকেটের অংশ

প্রকাশ: ১৬:১২, ৬ আগস্ট ২০২৬ | আপডেট: ১৬:৩০, ৬ আগস্ট ২০২৬

চাঁদে আছড়ে পড়েছে রকেটের অংশ

চাঁদে আছড়ে পড়েছে রকেটের অংশ

ইলন মাস্কের স্পেসএক্সের পরিত্যক্ত রকেটের একটি অংশ অনিয়ন্ত্রিতভাবে চাঁদের বুকে আছড়ে পড়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এতে পৃথিবীর কোনো ঝুঁকি তৈরি না হলেও চাঁদে নতুন গর্ত সৃষ্টি হয়েছে বলে বিজ্ঞানীদের ধারণ। এ ঘটনায় মহাকাশ বর্জ্য ব্যবস্থাপনা নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু করেছে।

গত বছর থেকে মহাকাশে ভেসে থাকা স্পেসএক্সের একটি প্রায় চার টনের পরিত্যক্ত রকেটের অংশ ৫ আগস্ট বুধবার ইস্টার্ন টাইম রাত ২:৩৫ এবং বাংলাদেশ সময় দুপুর ১২:৩৫ মিনিটে প্রায় ৮ হাজার ৬৯০ কিলোমিটার গতিতে চাঁদের পৃষ্ঠে আঘাত করে। বিজ্ঞানীদের ধারণা, এতে চাঁদের ধুলা ও পাথর অনেক দূর পর্যন্ত ছিটকে গেছে।

পাঁচতলা ভবনের সমান উচ্চতার এই রকেটের অংশটি ছিল স্পেসএক্সের ‘ফ্যালকন৯’ রকেটের দ্বিতীয় ধাপ বা অংশ। ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে এই রকেট যুক্তরাষ্ট্র ও জাপানের দুটি বাণিজ্যিক চন্দ্রযানকে চাঁদের পথে পাঠিয়েছিল।
ঘটনার পরপরই জ্যোতির্বিজ্ঞানীরা আঘাতের বিষয়টি নিশ্চিত করতে পারেননি। কারণ আঘাতের স্থানটি চাঁদের দৃশ্যমান প্রান্তের কাছাকাছি ছিলনা। তবে যুক্তরাষ্ট্র ও দক্ষিণ কোরিয়া চন্দ্র উপগ্রহ ওই স্থানের ছবি তুলবে বলে আশা করা হচ্ছে। 

মার্কিন মহাকাশ গবেষণা সংস্থা নাসার ধারণা, এই আঘাতে প্রায় ১৮ মিটার চওড়া এবং ৪ মিটার গভীর একটি গর্ত তৈরি হয়েছে। সংগৃহীত তথ্য কৃত্রিম আঘাতের প্রভাব এবং মহাকাশে থাকা বস্তুর গতিপথ পর্যবেক্ষণের প্রযুক্তি উন্নত করতে কাজে লাগবে।

২০২৫ সালের চন্দ্র অভিযানে পৃথিবীর কক্ষপথের তুলনায় বেশি শক্তি প্রয়োজন হওয়ায় রকেটের দ্বিতীয় ধাপটি পৃথিবীতে ফিরে আসেনি। জ্বালানি শেষ হয়ে যাওয়ায় এটি অনিয়ন্ত্রিত অবস্থায় মহাকাশে ভেসে ছিল। চলতি বছর জ্যোতির্বিজ্ঞানীরা নিশ্চিত হন, এর কক্ষপথ শেষ পর্যন্ত চাঁদের দিকে যাচ্ছে।

স্পেসএক্সের কর্মকর্তারা জানান, সূর্যের কার্যকলাপ এবং মহাকর্ষীয় শক্তির যৌথ প্রভাবে রকেটটির গতিপথ পরিবর্তিত হয়ে চাঁদের দিকে চলে যায়। এছাড়া বিজ্ঞানীদের মতে, এই ঘটনা পৃথিবীর জন্য বিপজ্জনক নয়, তবে মহাকাশ বর্জ্য নিয়ন্ত্রণের প্রয়োজনীয়তাকে আরও স্পষ্ট করেছে।

ভবিষ্যতে এমন ঘটনা এড়াতে নাসা ও স্পেসএক্স যৌথভাবে বিভিন্ন ব্যবস্থা নিয়ে আলোচনা করছে। উল্লেখ্য, একই অভিযানে পাঠানো যুক্তরাষ্ট্রের ব্লু ঘোস্ট চন্দ্রযান সফলভাবে চাঁদে অবতরণ করলেও জাপানের চন্দ্রযানটি শেষ মুহূর্তে বিধ্বস্ত হয়। 

 

এ সম্পর্কিত খবর
আরও পড়ুন