ভারতে ব্যবসায় বিরোধ
ভারতে সাশ্রয়ী দামে স্টারলিংক চালুর প্রতিশ্রুতি মাস্কের, আম্বানিকে কটাক্ষ
টেকস্ক্রল নেটওয়ার্ক
প্রকাশ: ১৪:২৮, ১২ অক্টোবর ২০২৬
ভারতে সাশ্রয়ী দামে স্টারলিংক চালুর প্রতিশ্রুতি মাস্কের, আম্বানিকে কটাক্ষ
ভারতে সাশ্রয়ী দামে স্টারলিংক ইন্টারনেট সেবা চালুর ঘোষণা দিয়েছে টেক জায়ান্ট ইলন মাস্ক। ভারতে স্যাটেলাইট ইন্টারনেট সেবা চালুর অনুমোদন নিয়ে বিরোধের মধ্যেই এমন ঘোষাণা মাস্কের। মুকেশ আম্বানির রিলায়েন্স জিওর সঙ্গে প্রতিযোগিতায় নামতে সাশ্রয়ী দামে স্টারলিংক সেবা দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে তাকে কটাক্ষ করেন স্পেসএক্সের প্রধান ইলন মাস্ক।
১১ অক্টোবর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া পোস্টে মাস্ক জানান, ভারতে স্টারলিংকের সেবার দাম বেশি হলে গ্রাহকেরা তা কিনবেন না। তাই বাজারে প্রতিযোগিতা করতে হলে সেবার মূল্য সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতার মধ্যে রাখতে হবে। তবে ভারতে স্টারলিংকের সেবার নির্দিষ্ট মূল্য এখনো ঘোষণা করেননি তিনি।
মাস্কের ভাষ্য, প্রতিযোগিতা বাড়লে ভারতের গ্রাহকেরা আরও বেশি বিকল্প পাবেন। এতে আম্বানির মুনাফা কমতে পারে, তবে তাঁর ব্যবসা বন্ধ হয়ে যাবে না।
এদিকে, মাস্ক ঘোষণাটি এমন সময় দিয়েছেন যখন কয়েকদিনের মধ্যেই জিও’র মূল প্রতিষ্ঠান দেশের ইতিহাসের সবচেয়ে বড় আইপিও ছাড়তে যাচ্ছে।
রয়টার্সের তথ্য অনুযায়ী, ভারতে প্রতি গিগাবাইট মোবাইল ডেটার দাম প্রায় ৮ মার্কিন সেন্ট, যা বিশ্বের সর্বনিম্ন দামের মধ্যে অন্যতম। কম দামের ইন্টারনেট সেবা দিয়ে দেশটির টেলিযোগাযোগ বাজারে শক্ত অবস্থান তৈরি করেছে জিও। ফলে স্টারলিংকের জন্য সাশ্রয়ী মূল্য নির্ধারণ গুরুত্বপূর্ণ হবে।
স্টারলিংকের কার্যক্রম শুরুর অনুমোদন নিয়ে সম্প্রতি ভারত সরকারের বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলেছেন মাস্ক। তাঁর দাবি, কিছু প্রভাবশালী ব্যবসায়ী নিজেদের বাজারের একচেটিয়া নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখতে স্টারলিংকের প্রবেশ বাধাগ্রস্ত করছেন।
প্রথম দিকের পোস্টে নির্দিষ্ট কারও নাম উল্লেখ না করলেও পরবর্তী পোস্টে আম্বানিকে উদ্দেশ করে তাঁকে ‘ভারতের প্রধানমন্ত্রী আম্বানি’ বলে কটাক্ষ করেন মাস্ক। একই সঙ্গে স্টারলিংককে প্রতিযোগিতার সুযোগ দেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
তবে মাস্কের অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছে ভারত সরকার। ৮ অক্টোবর দেশটির যোগাযোগ মন্ত্রণালয় জানায়, স্যাটেলাইট যোগাযোগসহ টেলিযোগাযোগ সেবার অনুমোদন প্রক্রিয়া ন্যায্য ও বৈষম্যহীন। স্টারলিংকসহ তিনটি প্রতিষ্ঠানের নিরাপত্তা যাচাই চলছে। যাচাই শেষ হলে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলো পরবর্তী ধাপে তরঙ্গ বরাদ্দের জন্য আবেদন করতে পারবে।
স্টারলিংক ছাড়াও আম্বানির জিও এবং সুনীল ভারতী মিত্তলের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ইউটেলস্যাট ওয়ানওয়েব ভারতে স্যাটেলাইট যোগাযোগ সেবা চালুর প্রস্তুতি নিচ্ছে। তবে প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা ছাড়পত্র ও অন্যান্য শর্ত পূরণ না হওয়ায় প্রতিষ্ঠানগুলোর কার্যক্রম শুরুর প্রক্রিয়া এখনো চূড়ান্ত হয়নি।
জিও প্ল্যাটফর্মস আইপিওর মাধ্যমে প্রায় ১০৬ বিলিয়ন ডলার মূল্যায়ন পাওয়ার লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে। ভারতের টেলিযোগাযোগ বাজারে প্রতিষ্ঠানটির শক্ত অবস্থানের মধ্যে স্টারলিংকের প্রবেশের সম্ভাবনা নিয়ে বিরোধ তৈরি হয়েছে। এতে বাজারের প্রতিযোগিতা ও স্যাটেলাইট ইন্টারনেট সেবার অনুমোদন প্রক্রিয়া নিয়ে প্রশ্ন সামনে এসেছে।
স্টারলিংক ও জিওর মধ্যে প্রতিযোগিতার প্রভাব নির্ভর করবে শুধু সেবার দামের ওপর নয়, প্রযুক্তি, সংযোগের মান, গ্রাহকের প্রয়োজন এবং ভৌগোলিক অবস্থানের ওপরও।
স্যাটেলাইট ইন্টারনেট প্রত্যন্ত অঞ্চলে প্রচলিত নেটওয়ার্কের বিকল্প হতে পারে, বিশেষ করে যেখানে মোবাইল বা ব্রডব্যান্ড সংযোগ সীমিত। তবে ভারতের মতো কম দামের মোবাইল ডেটার বাজারে প্রতিযোগিতামূলক হতে হলে স্টারলিংককে মাসিক সাবস্ক্রিপশন ও প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতির খরচও গ্রাহকের সাধ্যের মধ্যে রাখতে হবে।
তথ্যসূত্র: রয়টার্স, দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস













