বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬

| ১২ কার্তিক ১৪৩৩

প্রযুক্তিতে আঞ্চলিক কেন্দ্র হওয়ার লক্ষ্য

সাইবার নিরাপত্তা ও ব্যক্তিগত তথ্যের গোপনীয়তা নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ

টেকস্ক্রল নেটওয়ার্ক

প্রকাশ: ১৭:৫৪, ২৭ অক্টোবর ২০২৬ | আপডেট: ১৯:২৯, ২৭ অক্টোবর ২০২৬

সাইবার নিরাপত্তা ও ব্যক্তিগত তথ্যের গোপনীয়তা নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ

সাইবার নিরাপত্তা ও ব্যক্তিগত তথ্যের গোপনীয়তা নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ও ডিজিটাল প্রযুক্তির কার্যকর ব্যবহার দেশের উৎপাদনশীলতা বাড়ানো, নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ত্বরান্বিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে জানিয়েছেন তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তিমন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম। একই সঙ্গে সাইবার নিরাপত্তা, ব্যক্তিগত তথ্যের গোপনীয়তা এবং প্রযুক্তির দায়িত্বশীল ব্যবহার নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন তিনি।

মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) রাজধানীর বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগ এবং হুয়াওয়ের যৌথ আয়োজনে ‘বাংলাদেশ টেককানেক্ট ২০২৬’ সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

মন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে ‘সবার আগে বাংলাদেশ’ নীতির আলোকে সরকার একটি আধুনিক, প্রযুক্তিনির্ভর ও জ্ঞানভিত্তিক বাংলাদেশ গড়ে তুলতে কাজ করছে। আগামী পাঁচ বছরে ডিজিটাল খাতে ১০ লাখ কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং বাংলাদেশকে তথ্যপ্রযুক্তি ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার আঞ্চলিক কেন্দ্রে পরিণত করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।

তিনি বলেন, এ লক্ষ্য অর্জনে দেশের প্রতিটি অঞ্চলে নির্ভরযোগ্য, নিরাপদ, উচ্চগতির ও সাশ্রয়ী ডিজিটাল সংযোগ নিশ্চিত করা প্রয়োজন। পাশাপাশি আধুনিক টেলিযোগাযোগ অবকাঠামো উন্নয়ন, ডিজিটাল দক্ষতা বৃদ্ধি, বিনিয়োগ আকর্ষণ এবং দেশীয় উদ্ভাবনকে উৎসাহিত করতে হবে।

সরকারি ও বেসরকারি খাতের সমন্বিত উদ্যোগের ওপর গুরুত্ব দিয়ে মন্ত্রী বলেন, সরকার, দেশীয় শিল্পপ্রতিষ্ঠান ও আন্তর্জাতিক প্রযুক্তি অংশীদারদের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক ও প্রতিযোগিতামূলক ডিজিটাল অর্থনীতি গড়ে তোলা সম্ভব।

অনুষ্ঠানে ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগের সচিব ড. মো. কামরুজ্জামান বলেন, বাংলাদেশ টেককানেক্ট জাতীয় পর্যায়ের একটি গুরুত্বপূর্ণ প্ল্যাটফর্মে পরিণত হয়েছে। সরকার, শিল্পখাত, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, উন্নয়ন সহযোগী ও গণমাধ্যমের প্রতিনিধিদের অংশগ্রহণ নীতিনির্ধারক এবং শিল্পখাতের মধ্যে সহযোগিতা জোরদারের সুযোগ তৈরি করেছে।

তিনি বলেন, ডিজিটাল অবকাঠামো এখন আর বিলাসিতা নয়; বরং সমৃদ্ধ, বিনিয়োগনির্ভর ও জ্ঞানভিত্তিক অর্থনীতি গড়ে তোলার অন্যতম প্রধান ভিত্তি।

তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি বিভাগের সচিব মো. মামুনুর রশীদ ভূঞা বলেন, দেশের ডিজিটাল রূপান্তর ত্বরান্বিত করতে সরকার পাঁচটি কৌশলগত অগ্রাধিকার নির্ধারণ করেছে। এগুলো হলো শক্তিশালী আইনি ও নীতিগত কাঠামো, নির্ভরযোগ্য সংযোগব্যবস্থা, ডিজিটাল জনপরিকাঠামো, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও সাইবার নিরাপত্তা এবং দেশীয় উৎপাদন।

তিনি জানান, জাতীয় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা নীতিমালা প্রণয়নের কাজ শুরু হয়েছে। আগামী তিন থেকে চার মাসের মধ্যে নীতিমালাটি সম্পন্ন করার আশা করা হচ্ছে।

হুয়াওয়ের দক্ষিণ এশিয়ার প্রেসিডেন্ট জেসন উ বলেন, বাংলাদেশের ডিজিটাল অবকাঠামোর উন্নয়ন এবং প্রযুক্তির ব্যবহার সম্প্রসারণে সরকার ও শিল্পখাতের অংশীদারদের সঙ্গে কাজ করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ হুয়াওয়ে। সংযোগব্যবস্থা, ক্লাউড প্রযুক্তি ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তায় প্রতিষ্ঠানের সক্ষমতা কাজে লাগিয়ে স্থানীয় শিল্পের দক্ষতা বৃদ্ধি, নতুন সেবা উদ্ভাবন এবং দেশের দীর্ঘমেয়াদি ডিজিটাল প্রবৃদ্ধিতে অবদান রাখতে চায় প্রতিষ্ঠানটি।

সম্মেলনে ভবিষ্যৎ প্রযুক্তি ও সংযোগব্যবস্থা, শিল্পখাতে দক্ষতা বৃদ্ধিতে প্রযুক্তির ভূমিকা এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার বৈশ্বিক প্রবণতা, প্রভাব ও বাংলাদেশের প্রস্তুতি নিয়ে তিনটি প্যানেল আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়।

আলোচনায় ফাইভজি, ফিক্সড ওয়্যারলেস অ্যাকসেস ও বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের জন্য উন্নত সংযোগব্যবস্থার বাণিজ্যিক সম্ভাবনা তুলে ধরা হয়। তৈরি পোশাকশিল্প, বন্দর, কৃষি ও স্বাস্থ্যসেবার মতো খাতে এসব প্রযুক্তির ব্যবহার সম্প্রসারণের বিষয়েও আলোচনা করেন বক্তারা।

এ ছাড়া ক্লাউড কম্পিউটিং, স্বয়ংক্রিয় প্রযুক্তি, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক নিরাপত্তাব্যবস্থা ও স্মার্ট প্রযুক্তির মাধ্যমে উৎপাদনশীলতা বাড়ানো, পরিচালন ব্যয় কমানো এবং সরকারি সেবার মান উন্নয়নের সম্ভাবনা তুলে ধরা হয়। ব্যাংকিং, উৎপাদন, পণ্য পরিবহন ও সরবরাহব্যবস্থায় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার কার্যকর ব্যবহারের জন্য নির্ভরযোগ্য ক্লাউড অবকাঠামো, উপযুক্ত তথ্যভান্ডার, দক্ষ জনবল এবং সহায়ক নীতিমালার প্রয়োজনীয়তার ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হয়।

সম্মেলনের প্রযুক্তি প্রদর্শনীতে ডিজিটাল রূপান্তর, স্মার্ট সরকার, স্মার্ট শিক্ষা, ডিজিটাল বিদ্যুৎব্যবস্থা, স্মার্টফোন প্রযুক্তি ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক বিভিন্ন সমাধান প্রদর্শন করা হয়। পাশাপাশি ডিজিটাল বিদ্যুৎব্যবস্থা, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও প্রাতিষ্ঠানিক প্রযুক্তি এবং ডিজিটাল অর্থনীতি ও কর্মসংস্থান নিয়ে উচ্চপর্যায়ের গোলটেবিল বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।

সম্মেলনে সরকারি কর্মকর্তা, নীতিনির্ধারক, নিয়ন্ত্রক সংস্থার প্রতিনিধি, প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞ, শিল্পোদ্যোক্তা, শিক্ষাবিদ ও উন্নয়ন সহযোগী সংস্থার প্রতিনিধিসহ পাঁচ শতাধিক অংশগ্রহণকারী উপস্থিত ছিলেন।

এ সম্পর্কিত খবর
আরও পড়ুন