অনেক এলাকায় নেই নেটওয়ার্ক
টাওয়ারের ঘাটতিতে মোবাইল নেটওয়ার্ক সম্প্রসারণ ব্যাহত
আইরিন
প্রকাশ: ১২:১৮, ২৫ অক্টোবর ২০২৬ | আপডেট: ১৩:১২, ২৫ অক্টোবর ২০২৬
টাওয়ারের ঘাটতিতে মোবাইল নেটওয়ার্ক সম্প্রসারণ ব্যাহত
দেশে ফাইভজি নেটওয়ার্ক চালু হওয়ার পরও রাজধানীর বেশ কয়েকটি এলাকায় মোবাইল নেটওয়ার্ক না পাওয়ার অভিযোগ করছেন গ্রাহকেরা। মোবাইল অপারেটরদের দাবি, দেশে প্রতিবছর ৬ হাজার নতুন টাওয়ার স্থাপন করা প্রয়োজন। তবে টাওয়ার নির্মাণকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর বিনিয়োগের অভাব ও উপযুক্ত জায়গা না পাওয়ায় নতুন টাওয়ার স্থাপন করা সম্ভব হচ্ছে না। ফলে রাজধানীর কয়েকটি এলাকাসহ দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলেও মোবাইল নেটওয়ার্ক সম্প্রসারণ ব্যাহত হচ্ছে বলে জানান তারা।
রাজধানীর পশ্চিম মাটিকাটার বাসিন্দা মোহাম্মদ ইমরাদ একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে কর্মরত। বাড়িতে বসে প্রায়ই তাকে অফিসের কাজ করতে হয়। এ ক্ষেত্রে ইন্টারনেট ব্যবহারের জন্য তাকে সব সময় ব্রডব্যান্ড সেবার ওপর নির্ভর থাকতে হয়। কারণ, তার বাড়িতে মোবাইল নেটওয়ার্ক পাওয়া যায় না। আবার বিদ্যুৎ না থাকলে ব্রডব্যান্ড সংযোগও বন্ধ হয়ে যায়। এ সময় কাজ করতে গিয়ে জটিলতায় পড়তে হয় তাকে।
রাজধানীর পুরান ঢাকার নিম্ন আদালতের আইনজীবী নাশিদের অবস্থাও একই। এলাকায় মোবাইল নেটওয়ার্ক না থাকায় বাদীদের সঙ্গে যোগাযোগ করতে বেগ পেতে হয় তাকে।
দেশে পর্যাপ্ত টাওয়ার না থাকায় মোবাইল নেটওয়ার্কের এমন পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে বলে জানান মোবাইল অপারেটররা। মোবাইল অপারেটর রবি আজিয়াটা পিএলসির চিফ করপোরেট অ্যান্ড রেগুলেটরি অফিসার শাহেদুল আলম টেকস্ক্রলকে জানান, রাজধানীর কয়েকটি এলাকাসহ সিলেট, ময়মনসিংহ, বরিশাল ও বরগুনার অনেক অঞ্চলে গ্রাহকদের মোবাইল নেটওয়ার্ক পেতে বেগ পেতে হয়। এই সমস্যা সমাধানে দেশে প্রতিবছর ৬ হাজার নতুন টাওয়ার স্থাপন করা প্রয়োজন হলেও তা হচ্ছে না।
তবে সিগনিফিক্যান্ট মার্কেট পাওয়ার (এসএসপি) সংক্রান্ত বিধিনিষেধের কারণে মোবাইল টাওয়ার অবকাঠামো নির্মাণ ও শেয়ারিং খাতের অনেক প্রতিষ্ঠানের পক্ষে নতুন বিনিয়োগ করা সম্ভব হচ্ছে না। আবার জায়গার অভাবে অনেক প্রতিষ্ঠান টাওয়ার স্থাপন করতে পারছে না। ফলে নেটওয়ার্ক সম্প্রসারণ ব্যাহত হচ্ছে এবং মোবাইল টাওয়ারের ঘাটতি রয়ে যাচ্ছে বলে জানান তিনি।
টাওয়ার অবকাঠামো নির্মাণ ও শেয়ারিং প্রতিষ্ঠান ইডটকো বাংলাদেশের কান্ট্রি ম্যানেজিং ডিরেক্টর আল-বাতুনী মোহাম্মাদ সাঈদ আহমেদ টেকস্ক্রলকে বলেন, টাওয়ার স্থাপনের ক্ষেত্রে অপারেটরদের কাঙ্ক্ষিত এলাকার মধ্যে উপযুক্ত স্থান, যোগাযোগের সুবিধা, নিয়ন্ত্রক সংস্থার অনুমোদন এবং অবকাঠামো, বিদ্যুৎ ও নিরাপত্তা সংক্রান্ত বিষয়গুলো নিশ্চিত করতে হয়। তবে উপযুক্ত স্থানের অভাব এবং নির্মাণ ও পরিচালন ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় বিশেষ করে ঘনবসতিপূর্ণ এলাকায় নেটওয়ার্ক সম্প্রসারণ কঠিন হয়ে পড়ে।
তবে গ্রাহকের চাহিদা, বাজারের চাহিদা এবং দীর্ঘমেয়াদি নেটওয়ার্ক উন্নয়নের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে টেলিযোগাযোগ অবকাঠামো খাতে নিয়মিত মূল্যায়ন ও বিনিয়োগ অব্যাহত রয়েছে বলে জানান আল-বাতুনী মোহাম্মাদ সাঈদ আহমেদ।
অন্যদিকে, বর্তমানে টাওয়ার নির্মাণকারী প্রতিষ্ঠানগুলো নতুন বিনিয়োগে আগ্রহী নয় বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন (বিটিআরসি)। সংস্থাটির ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড অপারেশনস বিভাগের মহাপরিচালক ব্রিগেডিয়ার শফিউল আজম পারভেজ টেকস্ক্রলকে জানান, ইতোমধ্যে অনেক প্রতিষ্ঠান তাদের ব্যবসা গুটিয়ে নিয়েছে। মোবাইল অপারেটরদের সঙ্গে জটিলতার কারণেও অনেক প্রতিষ্ঠান বিনিয়োগে আগ্রহ হারাচ্ছে।
টাওয়ার নির্মাণকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর ব্যবসা গুটিয়ে নেওয়ার অন্যতম কারণ বর্তমান টেলিযোগাযোগ নীতিমালা বলে মনে করেন তিনি। এসব বিষয় বিবেচনায় নিয়ে এসএমপি হওয়া সত্ত্বেও মোবাইল টাওয়ার অবকাঠামো নির্মাণ ও শেয়ারিং প্রতিষ্ঠান সামিট টাওয়ার লিমিটেড এবং ইডটকোকে টাওয়ার নির্মাণ ও স্থাপনের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।
উন্নত মানের মোবাইল সেবা নিশ্চিত করতে টাওয়ারের ঘাটতি দূর করা প্রয়োজন। এ জন্য এ খাতে বিদেশি বিনিয়োগ প্রয়োজন বলে মনে করেন তিনি। তার মতে, টেলিযোগাযোগ নেটওয়ার্ক ও লাইসেন্সিং নীতিমালা ২০২৫ বাস্তবায়িত হলে এ খাতে নতুন বিনিয়োগ বাড়বে এবং টাওয়ার ঘাটতির সমস্যাও সমাধান হবে।
বিটিআরসির তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে দেশে টাওয়ার রয়েছে ৪৬ হাজার ৭১৭টি। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি টাওয়ার রয়েছে মোবাইল টাওয়ার অবকাঠামো নির্মাণ ও শেয়ারিং প্রতিষ্ঠান ইডটকোর। প্রতিষ্ঠানটির টাওয়ার সংখ্যা ১৬ হাজার ৯৮২টি।
অন্যদিকে, বর্তমানে দেশে মোবাইল গ্রাহকের সংখ্যা ১৯ কোটি ১০ লাখ ৯০ হাজার। এর মধ্যে মোবাইল ইন্টারনেট ব্যবহারকারীর সংখ্যা ১২ কোটি ২২ লাখ ৬০ হাজার।













