শুক্রবার, ০৯ অক্টোবর ২০২৬

| ২২ আশ্বিন ১৪৩৩

নিরাপদ রাইড লক্ষ্য

রাইড শেয়ারিং সেবায় চালক নারী যাত্রীও নারী

গাজী তানজীর আহমেদ

প্রকাশ: ১৫:১৭, ৮ অক্টোবর ২০২৬ | আপডেট: ১৫:২৩, ৮ অক্টোবর ২০২৬

রাইড শেয়ারিং সেবায় চালক নারী যাত্রীও নারী

রাইড শেয়ারিং সেবায় চালক নারী যাত্রীও নারী

এবার রাইড শেয়ারিংয়ে চালকের সিটে দেখা যাচ্ছে নারীদের। নারীদের যাতায়াত ব্যবস্থা নিরাপদ ও সহজ করতে চালু করা হয়েছে রাইড শেয়ারিং অ্যাপ মায়া রাইড। গন্তব্যে পৌঁছাতে অ্যাপের মাধ্যমে নারী যাত্রীরা কল করছেন নারী চালকদের।

কর্মব্যস্ত জীবনে নারীদের প্রতিদিন ছুটতে হয় এক জায়গা থেকে অন্য জায়গায়। যেখানে তাদের স্বস্তির পাশাপাশি নিরাপত্তা অনেক জরুরি। এই বাস্তবতা থেকেই নারীদের জন্য তুলনামূলক নিরাপদ ও স্বাচ্ছন্দ্যের যাতায়াত ব্যবস্থা তৈরির ভাবনা নিয়ে শুরু হয়েছে ‘মায়া রাইড’।

মায়া রাইডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক জান্নাতুল ফেরদৌস টেকস্ক্রলকে জানান, সাধারণ রাইড-শেয়ারিংয়ের মতো তাৎক্ষণিকভাবে চালক ও যাত্রীকে মিলিয়ে দেওয়ার বদলে আগে থেকেই বুকিং নেওয়া হয়। চালকের নিরাপত্তায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকের মাধ্যমে যাত্রীদের তথ্য যাচাই করা হয়। কোনো এলাকা তুলনামূলক ঝুঁকিপূর্ণ মনে হলে যাত্রীদের কল করেও অতিরিক্ত তথ্য নেওয়া হয়।

চলতি বছরের এপ্রিলের মাঝামাঝি ঢাকায় কার্যক্রম শুরু হওয়া এই প্ল্যাটফর্মের সঙ্গে যুক্ত রয়েছে ৬টি গাড়ি ও ১৫০টি বাইক। এর মধ্যে নিয়মিত সক্রিয় রয়েছেন প্রায় ৩০ জন নারী রাইডার। অ্যাপের মাধ্যমে এখন পর্যন্ত বাইক রাইড হয়েছে প্রায় ৪০০টি। আর মায়া রাইডের সঙ্গে যুক্ত যাচাইকৃত রাইডারের সংখ্যা প্রায় ৯৯।

শুরুতে মায়া রাইডের কার্যক্রম ছিল অনেকটা পরীক্ষামূলক। যাত্রীদের আগ্রহে ধীরে ধীরে বাড়তে থাকে ব্যবহারকারী ও চালকের সংখ্যা।

তিনি আরও জানান, মায়া রাইডে নিয়মিত গ্রাহক রয়েছেন প্রায় ২০ থেকে ৩০ জন। প্রতিদিন যাতায়াতের জন্য সেবাটি ব্যবহার করেন তারা। পাশাপাশি অনেকে সপ্তাহে এক-দুই দিন বাইকসহ অন্যান্য সেবা নেন। বাইক সেবায় প্রতিদিন গড়ে অন্তত পাঁচ থেকে ছয়টি রাইড থাকে।

নিরাপত্তার কারণে নির্দিষ্ট রাখা হয়েছে সেবার সময়। সেবা কার্যক্রম চলে সকাল ৬টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত। এমনকি যাত্রীদের নিরাপত্তার ক্ষেত্রে চালক বাছাইয়ে সংগ্রহ করা হয় জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি), ড্রাইভিং লাইসেন্স, মোটরসাইকেলের ছবি ও নম্বর। চালকের কাগজপত্র ও লাইসেন্সের সত্যতা যাচাইয়ের পাশাপাশি ব্যাকগ্রাউন্ড যাচাই ও পুলিশ সার্টিফিকেটের বিষয়টিও গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

অধিকাংশ বাইক রাইডারের পাঁচ থেকে আট বছর বা তার বেশি সময় বাইক চালানোর অভিজ্ঞতা রয়েছে। রাইডের পর যাত্রীদের কাছ থেকেও চালকের আচরণ ও বাইক চালানোর ধরন সম্পর্কে মতামত নেওয়া হয়। এসব অভিজ্ঞতা চালক বাছাই ও সেবার মান উন্নয়নে কাজে লাগানো হয়।

বর্তমানে মায়া রাইডের কার্যক্রম ঢাকাকেন্দ্রিক। তবে চাহিদা বৃদ্ধি পাওয়ায় আগামীতে রাজধানীর বাইরেও সেবা কার্যক্রম চালুর পরিকল্পনা রয়েছে।

এই কার্যক্রমের মাধ্যমে নারী চালকরা ন্যূনতম ৩০ থেকে ৪০ হাজার টাকা আয় করতে পারছেন বলে দাবি জান্নাতুল ফেরদৌসের। তিনি জানান, কোনো চালক নির্দিষ্ট ভাড়ায় যেতে রাজি না হলে সেই হিসাব নতুন করে সমন্বয় করা হয়। বর্তমানে নারী বাইক চালকদের ক্ষেত্রে মায়া রাইডের কমিশন ১০ শতাংশ এবং নারী গাড়ি চালকদের ক্ষেত্রে ১২ শতাংশ।

শুরুতে ভাড়া তুলনামূলক কম ছিল। তবে যাত্রীদের চাহিদা ও জ্বালানি তেলের দাম বাড়ার কারণে ভাড়া সমন্বয় করা হয়েছে বলেও জানান জান্নাতুল ফেরদৌস।

আরও পড়ুন