বিক্রি শুরু আইফোন ডুও
দেশের বাজারেও সারা ফেলেছে আইফোন ডুও, দাম সর্বোচ্চ ৪ লাখ টাকা
গাজী তানজীর আহমেদ
প্রকাশ: ১৭:০৭, ২৪ অক্টোবর ২০২৬ | আপডেট: ১৭:২৯, ২৪ অক্টোবর ২০২৬
দেশের বাজারেও সারা ফেলেছে আইফোন ডুও, দাম সর্বোচ্চ ৪ লাখ টাকা
দেশে বিক্রি শুরু হয়েছে অ্যাপলের প্রথম ভাঁজযোগ্য স্মার্টফোন আইফোন ডুও। দেশের বাজারে সর্বোচ্চ ৪ লাখ নির্ধারিত হলেও পণ্যটি কিনতে ক্রেতারা বেশ আগ্রহী বলে জানান বিক্রেতারা। আমদানি ব্যয়, কর ও ডলার বিনিময় হারের ওপর নির্ভর করে আইফোনের দাম নির্ধারিত হয় বলে জানান বিক্রেতারা।
গেল ২৩ অক্টোবর বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে শুরু হয় অ্যাপলের প্রথম ভাঁজযোগ্য স্মার্টফোন আইফোন ডুও। দেশি প্রযুক্তিপণ্য বিক্রেতা অ্যাপল গ্যাজেটসের এক কর্মকর্তা টেকস্ক্রলকে জানান, বাংলাদেশে ৩ লাখ ২০ হাজার টাকা থেকে শুরু করে পণ্যটির দাম নির্ধারণ করা হয়েছে সর্বোচ্চ ৪ লাখ টাকা। তবে দেশে আনুষ্ঠানিকভাবে বাজারজাতের ঘোষণা না থাকায় এই দাম নিশ্চিত নয়।
এদিকে, বিক্রি শুরুর পর থেকে দেশে আইফোন ডুও কিনতে ক্রেতারা বেশ আগ্রহী বলে জানান বিক্রেতারা। দাম আকাশচুম্বী হলেও এরই মধ্যে অনেক ক্রেতার হাতে পৌঁছে গেছে আইফোন ডুও। আবার অনেকে পণ্যটি কিনতে অর্ধেক মূল্য আগাম পরিশোধের মাধ্যমে বুকিং দিয়ে রেখেছেন।
তবে দেশে আইফোনের দাম নির্দিষ্ট নয়। তাই আগ্রহী ক্রেতাদের বিক্রেতার কাছ থেকে দাম, ওয়ারেন্টি ও বিক্রয়োত্তর সেবা সম্পর্কে জেনে নিতে হবে। আমদানি করা ফোন কেনার আগে এর সংস্করণ এবং বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশনের (বিটিআরসি) প্রযোজ্য অনুমোদন ও নিবন্ধনের বিষয়গুলোও যাচাই করা প্রয়োজন।
আইফোন ডুওর ভেতরে ৭ দশমিক ৬ ইঞ্চি এবং বাইরে ৫ দশমিক ৪ ইঞ্চির ওএলইডি পর্দা থাকার কথা বলা হয়েছে। দুই পর্দাতেই সর্বোচ্চ ১২০ হার্টজ রিফ্রেশ রেট সমর্থিত। ফোনটিতে এ২০ প্রো চিপ, ১২ জিবি র্যাম এবং ২৫৬ গিগাবাইট থেকে ২ টেরাবাইট পর্যন্ত স্টোরেজের বিকল্প থাকার কথা রয়েছে। ভাঁজ খুললে বড় পর্দায় একসঙ্গে একাধিক অ্যাপ ব্যবহার, নথি পড়া ও ভিডিও দেখার সুবিধা পাওয়া যাবে।
অ্যাপল ৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬ আইফোন ডুও উন্মোচন করে। যুক্তরাষ্ট্রে ফোনটির প্রারম্ভিক দাম ১ হাজার ৯৯৯ ডলার। ১৬ অক্টোবর প্রি-অর্ডার শুরু হওয়ার পর ২৩ অক্টোবর বিশ্ববাজারে বিক্রি শুরু হয়। চাহিদা বেশি থাকায় আগাম ফরমাশ শুরুর অল্প সময়ের মধ্যেই কিছু ক্রেতার জন্য সরবরাহের সম্ভাব্য সময় ২০২৭ সালের জানুয়ারির শেষ দিকে চলে যায়।
অস্ট্রেলিয়ার সিডনিতে বিক্রি শুরুর দিন অ্যাপল স্টোর খোলার আগেই ক্রেতাদের সারি তৈরি হয়। ৪৮ বছর বয়সী প্রকৌশলী সাইমন কৃষ্ণন ৫১২ গিগাবাইট সংস্করণের ফোনটি ৩ হাজার ৮৯৯ অস্ট্রেলীয় ডলারে কেনেন। তাঁর মতে, দাম বেশি হওয়ায় ফোনটি বিলাসপণ্য হলেও ব্যক্তিগত আনন্দের জন্য তিনি এটি কিনেছেন।
যুক্তরাষ্ট্রের অস্টিন ও নিউইয়র্কেও ক্রেতাদের ভিড় দেখা যায়। চীনের সাংহাইয়ে শাওমির ভাঁজযোগ্য ফোন ব্যবহার করা এক ক্রেতাও নতুন আইফোন কিনতে সকাল থেকে অপেক্ষা করেন। হংকংয়ের কিছু ক্রেতা পরে বেশি দামে বিক্রি করে মুনাফা করার আশায় ফোনটি কিনেছেন।
প্রাথমিক পর্যালোচনায় ফোনটির নকশা ও কবজার দৃঢ়তার প্রশংসা করেছেন প্রযুক্তি বিশ্লেষকেরা। পর্দার মাঝখানে ভাঁজের দাগও তুলনামূলক কম চোখে পড়ে। তবে টেলিফটো ক্যামেরা না থাকা, ক্যামেরার কিছু সীমাবদ্ধতা এবং বড় পর্দার সঙ্গে মানিয়ে নিতে তৃতীয় পক্ষের অ্যাপগুলোতে পরিবর্তনের প্রয়োজনীয়তা নিয়ে সমালোচনা রয়েছে।
সাধারণ কাজের জন্য ফোনটি সবার প্রয়োজন হবে না বলেও মত দিয়েছেন কয়েকজন বিশ্লেষক। তবে বড় পর্দায় কাজ করার সুবিধা আলাদা ট্যাবলেট বহনের প্রয়োজন কমাতে পারে।
বাজার গবেষণা প্রতিষ্ঠান আইডিসির পূর্বাভাস অনুযায়ী, ২০২৬ সালে ভাঁজযোগ্য ফোনের বাজারমূল্যের ৪৪ শতাংশ এবং মোট বিক্রির ৩১ শতাংশ দখল করতে পারে অ্যাপল। তবে এই আগ্রহকে দীর্ঘমেয়াদি সাফল্যে রূপ দিতে পর্যাপ্ত ফোন সরবরাহ এবং ক্রেতাদের সন্তুষ্টি নিশ্চিত করতে হবে প্রতিষ্ঠানটিকে।
আইফোন ডুও গতকাল বিক্রি শুরু হলেও আইফোন ১৮ প্রো ও প্রো ম্যাক্সের বিক্রি শুরু হয় গেল সেপ্টেম্বর। দেশের বিক্রয়কারী প্রতিষ্ঠান গ্যাজেট অ্যান্ড গিয়ারের ওয়েবসাইটে দেখা যায়, ২৫৬ গিগাবাইট ধারণক্ষমতার আইফোন ১৮ প্রোর দাম ২ লাখ ৭৪ হাজার ৯৯৯ টাকা এবং একই ধারণক্ষমতার আইফোন ১৮ প্রো ম্যাক্সের দাম ২ লাখ ৯৯ হাজার ৯৯৯ টাকা।













