শনিবার, ০৭ নভেম্বর ২০২৬

| ২২ কার্তিক ১৪৩৩

গ্রাহকদের অসন্তোষ

বিল বেশি দিয়েও ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেটের গতি কম

গাজী তানজীর আহমেদ

প্রকাশ: ১৪:৪৯, ৭ নভেম্বর ২০২৬ | আপডেট: ১৬:০০, ৭ নভেম্বর ২০২৬

বিল বেশি দিয়েও ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেটের গতি কম

বিল বেশি দিয়েও ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেটের গতি কম

নির্ধারিত প্যাকেজের তুলনায় ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেটের গতি কম পাওয়া, প্রায়ই সংযোগ বিচ্ছিন্ন হওয়া এবং একাধিক ডিভাইসে ইন্টারনেট ব্যবহারে ভোগান্তির অভিযোগ করছেন গ্রাহকেরা। এসব ভোগান্তি কমাতে এবার ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেটের আপলোড ও ডাউনলোডের গতি পর্যবেক্ষণে নতুন মনিটরিং ব্যবস্থা চালু করতে যাচ্ছে বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন (বিটিআরসি)।

উচ্চগতির ব্রডব্যান্ড সেবা আরও সহজলভ্য করতে চলতি বছরের এপ্রিল মাসে ইন্টারনেটের নতুন শুল্ক কাঠামো অনুমোদন দেয় বিটিআরসি। নতুন মূল্যকাঠামো অনুযায়ী, ৩০ এমবিপিএস গতির ইন্টারনেটের সর্বোচ্চ মাসিক মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে ৫০০ টাকা, ১০০ এমবিপিএসের ১ হাজার টাকা এবং ২৫০ এমবিপিএসের ৩ হাজার টাকা।

তবে সরকারের নির্ধারিত মূল্যের তুলনায় বেশি দামে ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেট ব্যবহার করতে হচ্ছে বলে অভিযোগ অনেক গ্রাহকের। প্যাকেজ অনুযায়ী গতি দেওয়ার কথা থাকলেও  কম গতি পাওয়া, সন্ধ্যায় ইন্টারনেটের ধীরগতি, প্রায়ই সংযোগ বিচ্ছিন্ন হওয়া এবং একাধিক ডিভাইসে ইন্টারনেট ব্যবহারে ভোগান্তিসহ নানা অভিযোগ রয়েছে গ্রাহকদের।

অনেক ব্রডব্যান্ড সেবাদাতা প্রতিষ্ঠান প্রয়োজন অনুযায়ী ব্যান্ডউইথ ব্যবহার না করায় গ্রাহকদের ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে বলে জানান ইন্টারনেট সার্ভিস প্রোভাইডারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (আইএসপিএবি) সভাপতি মোহাম্মদ আমিনুল হাকিম। টেকস্ক্রলকে তিনি জানান, অনেক ইন্টারনেট সেবাদাতা প্রতিষ্ঠানের ১০০ জিবিপিএস ব্যান্ডউইথ প্রয়োজন হলেও তারা ব্যবহার করছে ৮০ জিবিপিএস। ফলে গ্রাহকদের ইন্টারনেট ব্যবহার বেড়ে গেলে নেটওয়ার্কে চাপ তৈরি হয়।

আমিনুল হাকিম আরও বলেন, একটি আবাসিক ব্রডব্যান্ড সংযোগের মাধ্যমে গড়ে পাঁচজন ইন্টারনেট ব্যবহার করতে পারেন। একই সময়ে এর বেশি মানুষ ইন্টারনেট ব্যবহার করলে প্রত্যেকের ডিভাইসে গতি কমে যায়। এ ছাড়া রাউটারের সক্ষমতার অভাবেও ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেট ব্যবহারে ভোগান্তিতে পড়তে হয় গ্রাহকদের। পুরোনো বা কম সক্ষমতার রাউটারের কারণে ইন্টারনেটের গতি কমে যায়। অনেক এলাকায় এখনো শুধু ২.৪ গিগাহার্টজ ব্যান্ডের রাউটার ব্যবহার করা হয়। তবে ভালো গতি পেতে ২.৪ ও ৫ গিগাহার্টজ উভয় ব্যান্ড সমর্থন করে এমন ডুয়াল-ব্যান্ড রাউটার ব্যবহারের পরামর্শ দেন তিনি।

রাউটারের নিরাপত্তার বিষয়টিও তুলে ধরেন আইএসপিএবি সভাপতি। তাঁর দাবি, অনেক গ্রাহক রাউটারের পূর্বনির্ধারিত নাম ও পাসওয়ার্ড পরিবর্তন করেন না। এতে অন্য কেউ অনুমতি ছাড়া সংযোগ ব্যবহার করলে নেটওয়ার্কে বাড়তি চাপ তৈরি হয়।

তবে ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেটের গ্রাহকেরা প্যাকেজ অনুযায়ী নির্ধারিত গতি পাচ্ছেন কি না, তা যাচাইয়ে নতুন মনিটরিং ব্যবস্থা চালু করতে যাচ্ছে বিটিআরসি। কমিশনের ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড অপারেশন্স বিভাগের কমিশনার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ইকবাল আহমেদ টেকস্ক্রলকে জানান, বর্তমানে পরীক্ষামূলক পর্যায়ে থাকা এই ব্যবস্থার মাধ্যমে ইন্টারনেটের আপলোড ও ডাউনলোডের গতি পর্যবেক্ষণ করা হবে। আগামী মাসের মধ্যে পরীক্ষা শেষ হলে পরবর্তী দুই থেকে তিন মাসের মধ্যে এটি চালুর সম্ভাবনা রয়েছে।

 ক্ষতিকর ভিডিও দেখানোর অভিযোগে টিকটকের বিরুদ্ধে ইইউর ব্যবস্থা

তিনি আরও জানান, গ্রাহকেরা নিজেরাও বিভিন্ন অনলাইন টুল ব্যবহার করে ইন্টারনেটের গতি পরীক্ষা করতে পারেন। সন্ধ্যা ৭টা থেকে রাত ১টা পর্যন্ত ইন্টারনেটের গতি কমে যাওয়ার বিষয়ে পাঁচজন গ্রাহকের অভিযোগ পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্ট আইএসপির সংরক্ষিত নেটওয়ার্কের তথ্য পরীক্ষা করে সমস্যার কারণ শনাক্ত করা হবে। এরপর প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এ ছাড়া প্যাকেজ অনুযায়ী নির্ধারিত গতি না পেলে গ্রাহকেরা বিটিআরসির কাছে অভিযোগ করতে পারবেন। অভিযোগ তদন্তে কোনো আইএসপির বিরুদ্ধে অনিয়ম পাওয়া গেলে জরিমানাসহ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তবে বর্তমানে বিভিন্ন প্রশাসনিক কারণে আইএসপিগুলোর বিরুদ্ধে জরিমানার মাধ্যমে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে বলেও জানান ইকবাল আহমেদ।

বর্তমানে দেশে ইন্টারনেট সেবাদাতা বৈধ প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা ২ হাজার ৫০০। অন্যদিকে, অননুমোদিত অপারেটরের সংখ্যা ১২ থেকে ১৫ হাজার। এর বিপরীতে দেশে ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেট ব্যবহারকারীর সংখ্যা ১ কোটি ৫০ লাখের বেশি বলে জানিয়েছে আইএসপিএবি।
 মায়া রাইড । যাত্রী ও নারী

এ সম্পর্কিত খবর
আরও পড়ুন