অভ্যন্তরীণ সিস্টেমে অনুপ্রবেশ ঘটেনি
গিটহাব থেকে মেটার ১৫০০ ব্যবহারকারীর তথ্য ফাঁস, উন্মুক্ত সোর্স কোড
টেকস্ক্রল নেটওয়ার্ক
প্রকাশ: ১৩:১৭, ১৮ অক্টোবর ২০২৬ | আপডেট: ১৩:৪২, ১৮ অক্টোবর ২০২৬
মেটার ১৫০০ ব্যবহারকারীর তথ্য ফাঁস, উন্মুক্ত সোর্স কোড
এক কর্মীর চুরি হওয়া লগইন তথ্য ব্যবহার করে মেটার গিটহাব রিপোজিটরিতে প্রবেশ করে হ্যাকাররা। এতে প্রতিষ্ঠানটির বিভিন্ন পণ্যের সোর্স কোডের পাশাপাশি প্রায় ১ হাজার ৫০০ ব্যক্তির ব্যক্তিগত তথ্যও উন্মুক্ত হয়েছে। তবে মেটা জানিয়েছে, এ ঘটনায় তাদের অভ্যন্তরীণ সিস্টেম ও নেটওয়ার্কে কোনো অনুপ্রবেশ ঘটেনি।
প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান মেটার গিটহাবের কয়েকটি রিপোজিটরিতে অননুমোদিতভাবে প্রবেশ করেছে হ্যাকারদের একটি দল। কয়েক সপ্তাহ আগে শনাক্ত হওয়া এ ঘটনায় মেটার এক কর্মীর চুরি হওয়া লগইন তথ্য ব্যবহার করে রিপোজিটরি বা প্রজেক্ট ফোল্ডারগুলোতে প্রবেশ করা হয়।
এতে প্রায় ১ হাজার ৫০০ ব্যক্তির ব্যক্তিগত তথ্য ঝুঁকিতে পড়েছে। তাঁদের অধিকাংশই যুক্তরাষ্ট্রে কর্মরত মেটার কর্মী। গত মঙ্গলবার থেকে ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তিদের এ বিষয়ে জানাতে শুরু করেছে প্রতিষ্ঠানটি।
মাইক্রোসফট প্রতিষ্ঠানের গিটহাব সফটওয়্যার নির্মাতাদের জন্য একটি অনলাইন প্ল্যাটফর্ম। এখানে তাঁরা সফটওয়্যারের সোর্স কোড সংরক্ষণ, ব্যবস্থাপনা ও নিজেদের মধ্যে আদান-প্রদান করেন।
মেটার ভাষ্য অনুযায়ী, হ্যাকারদের নেওয়া তথ্যের প্রায় ৯৯ শতাংশই ছিল ব্যবসায়িক তথ্য ও বিভিন্ন পণ্যের সোর্স কোড। বাকি প্রায় ১ শতাংশ ছিল ব্যক্তিগত তথ্য।
মেটা জানিয়েছে, ব্যক্তিগত তথ্যগুলো গিটহাবে সংরক্ষণের কথা ছিল না। ভুলবশত সেগুলো রিপোজিটরিতে আপলোড করা হয়েছিল, যা প্রতিষ্ঠানের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তানীতির পরিপন্থী। তবে উন্মুক্ত হওয়া ব্যক্তিগত তথ্যের একটি উল্লেখযোগ্য অংশ ছিল কৃত্রিমভাবে তৈরি অথবা পরিচয় গোপন করা পরীক্ষামূলক তথ্য।
সফটওয়্যার পরীক্ষা করার সময় এ ধরনের তথ্য ব্যবহার করা হয়। ফলে প্রকৃত তথ্যের সঙ্গে পরীক্ষামূলক তথ্যের পার্থক্য শনাক্ত করা হ্যাকারদের জন্য কঠিন হতে পারে বলে ধারণা করছে প্রতিষ্ঠানটি।
মেটার এক মুখপাত্র জানান, এ ঘটনা প্রতিষ্ঠানটির কোনো পণ্যের নিরাপত্তা ত্রুটির কারণে ঘটেনি এবং মেটার অভ্যন্তরীণ সিস্টেমেও অনুপ্রবেশ করা হয়নি। বরং কর্মীর চুরি হওয়া লগইন তথ্য ব্যবহার করে গিটহাবে সংরক্ষিত ব্যবসায়িক তথ্যে অননুমোদিত প্রবেশ করা হয়েছে। গিটহাবের সঙ্গে প্রাথমিক তদন্তে এমন ইঙ্গিতও পাওয়া গেছে, হ্যাকাররা বিশেষভাবে মেটার তথ্য লক্ষ্য করে হামলা চালায়নি।
ঘটনাটি শনাক্ত হওয়ার পর মেটা তদন্তের জন্য গিটহাবের নিরাপত্তা দল ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে কাজ শুরু করে। সংশ্লিষ্ট নিয়ন্ত্রক সংস্থাগুলোকেও বিষয়টি জানানো হচ্ছে। ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তিদের সম্ভাব্য পরিচয় চুরি ও ফিশিং হামলার ঝুঁকি মোকাবিলায় বিনা মূল্যে ক্রেডিট পর্যবেক্ষণ এবং ডার্ক ওয়েবে তাঁদের ব্যক্তিগত তথ্যের উপস্থিতি পর্যবেক্ষণের সেবা দেওয়া হচ্ছে।
ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা ঠেকাতে মেটা আক্রান্ত রিপোজিটরিতে থাকা গোপন তথ্য ও নিরাপত্তাসংশ্লিষ্ট উপাদানগুলোর পরিবর্তন করেছে। পাশাপাশি গিটহাবে ব্যবহারকারীদের ব্যক্তিগত তথ্য সংরক্ষণ ঠেকাতে নতুন নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা চালু করেছে।
ভুলবশত কোনো ব্যবহারকারীর তথ্য রিপোজিটরিতে আপলোড করা হলে তা দ্রুত শনাক্ত করতে স্বয়ংক্রিয় স্ক্যানিং ব্যবস্থাও যুক্ত করছে প্রতিষ্ঠানটি। চুরি হওয়া সোর্স কোডের কারণে সম্ভাব্য নিরাপত্তাঝুঁকি কমাতেও পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
সূত্র: ইন্ডিয়া টুডে













