ঝুঁকিতে ১৫ খাত
ডার্ক ওয়েবে ১৮ লাখের বেশি নাগরিকের তথ্য ফাঁস
টেকস্ক্রল নেটওয়ার্ক
প্রকাশ: ০০:৫২, ১৬ অক্টোবর ২০২৬ | আপডেট: ০১:০৪, ১৬ অক্টোবর ২০২৬
ডার্ক ওয়েবে ১৮ লাখের বেশি নাগরিকের তথ্য ফাঁস
দেশের ১৫টি খাতের ৭৬৭টি ডোমেইন পর্যালোচনা করে ডার্ক ওয়েবে দেশের ১৮ লাখের বেশি নাগরিকের তথ্য ছড়িয়ে থাকার প্রমাণ পাওয়ার কথা জানিয়েছে সাইবার নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠান সাইবার স্টেশন। একই সঙ্গে ১৭ হাজার ৩৬২ জনের লগইন তথ্য উন্মুক্ত হওয়ার তথ্যও উঠে এসেছে।
বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) রাজধানীর মহাখালীর ব্র্যাক সেন্টার ইনে অনুষ্ঠিত ‘বাংলাদেশ সাইবার রেজিলিয়েন্স ব্রিফিং ২০২৬’ শীর্ষক সেমিনারে এসব তথ্য প্রকাশ করা হয়। ব্রেইন স্টেশন ২৩ পিএলসির সাইবার নিরাপত্তা বিভাগ সাইবারস্টেশন এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে।
সাইবার স্টেশনের তথ্য অনুযায়ী, পর্যালোচনা করা ডোমেইনগুলোর প্রায় সবগুলোতেই ব্যবহারকারীদের পরিচয় ও লগইন-সংক্রান্ত তথ্য উন্মুক্ত হওয়ার প্রমাণ পাওয়া গেছে। উন্মুক্ত নাগরিক তথ্যের পরিমাণ সবচেয়ে বেশি সরকারি সেবা খাতে। তবে তথ্য উন্মুক্ত হওয়ার হার বেশি প্রযুক্তি ও টেলিযোগাযোগ খাতে।
সাইবার স্টেশনের সাইবার নিরাপত্তা সেবাবিষয়ক প্রধান মোহিব্বুল মোক্তাদীর তানিম বলেন, ঝুঁকি শনাক্ত না হলে তা কার্যকরভাবে মোকাবিলা করা সম্ভব নয়। সাইবার অপরাধীরা অপব্যবহারের আগেই কোন তথ্য উন্মুক্ত হয়েছে, তা শনাক্ত করে ব্যবস্থা নেওয়ার ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।
ব্রেইন স্টেশন ২৩-এর নির্বাহী পরিচালক এম জে ফেরদৌস বলেন, প্রতিষ্ঠানটির ২০ বছরের অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে সাইবারস্টেশন গড়ে তোলা হয়েছে। দেশের সাইবার নিরাপত্তা সক্ষমতা বাড়াতে বিদেশি প্রযুক্তির ওপর নির্ভরতা কমিয়ে দেশীয় সক্ষমতা জোরদারের প্রয়োজন রয়েছে।
সেমিনারে সাইবার নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞ তানভীর হাসান জোহা ও প্রযুক্তিবিদ মুনির হাসানও বক্তব্য দেন। তারা সাইবার ঝুঁকি শনাক্তকরণে দেশীয় প্রযুক্তি ও উদ্যোগকে আরও এগিয়ে নেওয়ার ওপর গুরুত্ব দেন।
অনুষ্ঠানে ডার্ক ওয়েবে বাংলাদেশের তথ্য উন্মুক্ত হওয়ার ঝুঁকি নিয়ে একটি প্যানেল আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়। এতে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের পরামর্শক অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ শাহরিয়ার রহমান, ডিএমপির স্পেশাল রেসপন্স
ইউনিটের প্রধান মোহাম্মদ শামসুল হক, বাংলাদেশ ব্যাংকের যুগ্ম সচিব (আইসিটি) মো. ইমরান খান এবং প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞ মাহতাব উদ্দিন আহমেদ অংশ নেন।
আলোচনায় তথ্যের অপব্যবহার ঠেকাতে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে সমন্বয় বাড়ানো এবং দ্রুত ঝুঁকি শনাক্ত করে ব্যবস্থা নেওয়ার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।
সেমিনারে ব্যাংকিং, টেলিযোগাযোগ, প্রযুক্তি, সরকারি সেবা ও শিক্ষাসহ বিভিন্ন খাতের প্রায় ১৫০ জন প্রতিনিধি, নিয়ন্ত্রক সংস্থার কর্মকর্তা ও সাইবার নিরাপত্তা পেশাজীবী অংশ নেন।
সাইবার স্টেশন জানিয়েছে, সাইবার নিরাপত্তা সচেতনতা বাড়ানোর পাশাপাশি প্রতিষ্ঠান ও নাগরিকদের সম্ভাব্য ঝুঁকি শনাক্ত ও মোকাবিলায় প্রয়োজনীয় সেবা দেওয়ার কার্যক্রম অব্যাহত রাখবে।













