সোমবার, ০২ নভেম্বর ২০২৬

| ১৭ কার্তিক ১৪৩৩

বাড়ছে গোপনীয়তার উদ্বেগ

মেটার স্মার্ট চশমায় প্রকাশ্যে ভিডিও ধারনের সুবিধা

টেকস্ক্রল নেটওয়ার্ক

প্রকাশ: ১৪:৫১, ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | আপডেট: ১৫:২৮, ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬

মেটার স্মার্ট চশমায় প্রকাশ্যে ভিডিও ধারনের সুবিধা

মেটার স্মার্ট চশমায় প্রকাশ্যে ভিডিও ধারনের সুবিধা

চোখে পরলেই ছবি তোলা, ভিডিও ধারণ, ফোনকল করা কিংবা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সঙ্গে কথা বলার সুবিধা দ্রুত দ্রুত জনপ্রিয় করে তুলছে স্মার্ট চশমার প্রযুক্তি। তবে সামনে থাকা মানুষটি টের না পেলেও স্মার্ট চশমার ক্যামেরায় তার ছবি বা ভিডিও ধারণ করা সম্ভব। ফলে জনসমক্ষে এর ব্যবহার নিয়ে বাড়ছে উদ্বেগ।

যুক্তরাজ্যজুড়ে প্রায় ৮০০টি পাব পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠান ওয়েদারস্পুনস কিছুদিন আগে তাদের প্রতিষ্ঠানের ভেতরে মেটার স্মার্ট চশমা ব্যবহারে মাধ্যমে ভিডিও ধারণ নিষিদ্ধ করেছে। নারীর অধিকার নিয়ে কাজ করা সংগঠনগুলোও হয়রানিমূলক কাজে  এ প্রযুক্তি ব্যবহারের আশঙ্কা বিষয়ে সতর্ক করেছে। 

অন্যদিকে টিকটক ও ইনস্টাগ্রামের মতো প্ল্যাটফর্মে ভিডিও কনটেন্টের জনপ্রিয়তা বাড়ায় জনসমক্ষে স্মার্ট চশমার ব্যবহার নিয়ে বিতর্ক চলছে।

উত্তর বেলফাস্টের ৩১ বছর বয়সী কনটেন্ট নির্মাতা পিয়ার্স ভ্যালেলি মেটা-রেয়বান চশমা ব্যবহার করেন। রাস্তায় হাঁটার সময় পথচারীদের সঙ্গে স্বতঃস্ফূর্ত কথোপকথনের ভিডিও ধারন করেন তিনি। 

তার একটি ভিডিও টিকটকে ৬ লাখ ভিউ পেয়েছে। ভ্যালেলি বলেন, কেউ ভিডিও না করতে বললে তিনি সেটি প্রকাশ করেন না। এখন পর্যন্ত কাউকে ভিডিও সরিয়ে নেওয়ার অনুরোধও করতে হয়নি।

এসব বিষয় বিবেচনায় এবার স্মার্ট চশমার ক্যামেরায় ভিন্নতা এনেছে মার্কিন প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান মেটা। মেটা জানিয়েছে, এ পর্যন্ত তাদের ৭০ লাখের বেশি স্মার্ট চশমা বিক্রি হয়েছে। কয়েকশ পাউন্ড দামের এসব চশমার ক্যামেরা স্পর্শের মাধ্যমে চালু করা যায়। ক্যামেরা চালু হলে সাদা আলো জ্বলে ওঠে, যাতে আশপাশের মানুষ ভিডিও ধারণের বিষয়টি বুঝতে পারেন। 

সম্প্রতি আলোতে কারসাজি করা হলে ক্যামেরা বন্ধ হয়ে যাওয়ার ব্যবস্থাও যুক্ত করেছে মেটা। গবেষকদের ধারণা, আগামী কয়েক বছরে স্মার্ট চশমার ব্যবহারকারী ১০ কোটি ছাড়াতে পারে।

উত্তর আয়ারল্যান্ডে সাধারণভাবে সড়কে কারো ভিডিও ধারণ বেআইনি নয়। তবে ভিডিও ধারণের ধরন ও উদ্দেশ্য গুরুত্বপূর্ণ। এটি হয়রানি, পিছু নেওয়া, গোপনে যৌন উদ্দেশ্যে ছবি বা ভিডিও ধারণ, এমন কোনো পরিস্থিতির সঙ্গে যুক্ত হলে তা বেআইনি হতে পারে। 

তবে এ নিয়ে উদ্বেগও কমছে না। গত ডিসেম্বরে নিউইয়র্কের সাবওয়েতে এক নারী এক ব্যক্তির মেটা চশমা ভেঙে দেওয়ার পর প্রশংসিত হন। জুলাইয়ে স্কটল্যান্ডের পুলিশ গোপনে সাধারণ মানুষের ভিডিও ধারণের অভিযোগে এক টিকটকারের বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু করে। 

ওয়েদারস্পুনসের পাশাপাশি কমিক কন নর্দার্ন আয়ারল্যান্ডও গোপনে ভিডিও ধারণের আশঙ্কায় এসব চশমা নিষিদ্ধ করেছে। নারীর অধিকারকর্মী এলেইন ক্রোরি বলেন, স্মার্ট চশমা দিয়ে কেউ কখন ভিডিও করছেন, তা আশপাশের মানুষ সব সময় বুঝতে পারেন না। ফলে ভিডিও ধারণের ক্ষেত্রে সম্মতির বিষয়টি জটিল হয়ে উঠছে। 

তিনি পোশাকের নিচ থেকে গোপনে ছবি বা ভিডিও ধারণের মতো বেআইনি কাজেও এ প্রযুক্তির অপব্যবহারের আশঙ্কা জানিয়েছেন। তার মতে, প্রযুক্তির সঙ্গে তাল মিলিয়ে আইন এখনো যথেষ্ট এগোয়নি।

তবে প্রযুক্তিটির ইতিবাচক ব্যবহারও রয়েছে। বেলফাস্টের চক্ষু বিশেষজ্ঞ জিওফ ম্যাককনভিল জানান, দৃষ্টিশক্তির সমস্যায় থাকা রোগীরা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক লেখা থেকে কণ্ঠে রূপান্তর সুবিধা ব্যবহার করে সংবাদপত্র ও সাইনবোর্ডের লেখা পড়তে পারছেন। 

মেটা বলেছে, কম দৃষ্টিশক্তি বা শ্রবণ সমস্যায় থাকা মানুষের জন্য এ প্রযুক্তি গুরুত্বপূর্ণ। ইনস্টাগ্রামের প্রধান অ্যাডাম মোসেরিও বলেছেন, মানুষকে ব্যবহার বা হয়রানি করে তৈরি করা কনটেন্ট পাওয়া গেলে তা সরিয়ে দেওয়া হবে।

 

সূত্র বিবিসি
 

এ সম্পর্কিত খবর
আরও পড়ুন