বৃহস্পতিবার, ২৫ জুন ২০২৬

| ১০ আষাঢ় ১৪৩৩

বকেয়া বিতর্কে এমটবের ব্যাখ্যা

মোবাইল অপারেটরদের বকেয়ার বড় অংশ অনিষ্পন্ন ভ্যাট

টেকস্ক্রল নেটওয়ার্ক

প্রকাশ: ১৭:২৫, ২৫ জুন ২০২৬ | আপডেট: ১৭:২৭, ২৫ জুন ২০২৬

মোবাইল অপারেটরদের বকেয়ার বড় অংশ অনিষ্পন্ন ভ্যাট

মোবাইল অপারেটরদের বকেয়ার বড় অংশ অনিষ্পন্ন ভ্যাট

দেশের চার মোবাইল ফোন অপারেটরদের আলোচিত অর্থের বড় অংশ অনিষ্পন্ন ভ্যাট-সংক্রান্ত বিষয়ের সঙ্গে সম্পর্কিত বলে জানায় মোবাইল ফোন অপারেটরদের সংগঠন এমটব। গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে এ তথ্য জানায় সংগঠনটি।

২৪ জুন দেশের বেশ হয়েকটি গণমাধ্যমে প্রকাশিত হয় দেশের চার মোবাইল ফোন অপারেটরের কাছে সরকারে মোট বকেয়া রাজস্বের পরিমাণ ১৩ হাজার ৩৪৪ কোটি টাকা। গতকাল ডাক টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম জাতীয় সংসদের প্রশ্নোত্তর পর্বে এ তথ্য জানান বলে খবর প্রকাশিত হয়। বিভিন্ন লাইসেন্স ফি, রেভিনিউ শেয়ারিং, স্পেকট্রাম ফি, প্রশাসনিক জরিমানা, সামাজিক দায়বদ্ধতা তহবিলসহ নিরীক্ষা আপত্তিজনিত দাবির কারণে অপারেটরগুলোর কাছে এই বিপুল অর্থ পাওনা আছে বলে জানানো হয়।

এর প্রেক্ষিতে এমটব জানায়, মোবাইল অপারেটরদের কাছে সরকারের বকেয়ার বিতর্কিত অর্থের পেছনে থাকা জটিল আইনগত ও নিয়ন্ত্রক বাস্তবতাকে যথাযথভাবে তুলে ধরা হয় নেই।

উত্থাপিত দাবিগুলোর একটি বড় অংশ অনিষ্পন্ন ভ্যাট-সংক্রান্ত বিষয়ের সঙ্গে সম্পর্কিত। অপারেটররা দীর্ঘদিন ধরে বিটিআরসিকে অর্থ পরিশোধ করলেও প্রয়োজনীয় মূসক চালান সংগ্রহে নানা জটিলতার মুখোমুখি হয়েছে। এতে তারা আইনের আওতায় প্রাপ্য ভ্যাট রেয়াত এবং ইনপুট ট্যাক্স ক্রেডিটের সুবিধা গ্রহণ করতে পারেনি।

একইভাবে, রাজস্ব ভাগাভাগির অর্থের ওপর ভ্যাট আরোপের প্রচেষ্টা দ্বৈত কর আরোপের আশঙ্কা তৈরি করে। কারণ বিভিন্ন স্তরে ওই আয়ের ওপর ইতোমধ্যে ভ্যাট পরিশোধ করা হয়েছে। এছাড়া নিরীক্ষা কার্যক্রমের সময় লাইসেন্সের শর্তাবলীর ভুল ব্যাখ্যায় বিতর্কিত অর্থের পরিমাণ উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে গেছে। এসব বিষয় কর আইনের ব্যাখ্যা ও প্রয়োগের জটিলতায় আদালতের পর্যালোচনা ও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত প্রয়োজন।

এমটব মনে করে, সংশ্লিষ্ট সকল পক্ষের গঠনমূলক আলোচনা, স্বচ্ছ প্রক্রিয়া এবং আইননানুগ উপায়ে রেগুলেটরি ও কর সংক্রান্ত বিরোধগুলোর সমাধান হওয়া প্রয়োজন। মোবাইল অপারেটররা দেশের সকল বৈধ আইনগত বাধ্যবাধকতা পালনে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ এবং বিদ্যমান সমস্যাগুলোর সমাধানে নীতিনির্ধারক, নিয়ন্ত্রক সংস্থা ও কর কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কাজ করে যেতে আগ্রহী। একই সঙ্গে বিনিয়োগকারীদের জন্য বিদ্যমান বৈধ অধিকার ও আইনি প্রতিকার পাওয়ার সুযোগের প্রতিও যথাযথ সম্মান প্রদর্শন করা জরুরি।

একটি ন্যায্য, ভারসাম্যপূর্ণ এবং অনুমানযোগ্য রেগুলেটরি পরিবেশ টেলিযোগাযোগ খাতের দীর্ঘমেয়াদি বিকাশের জন্য অপরিহার্য। একই সঙ্গে বিদেশি বিনিয়োগের আকর্ষণীয় গন্তব্য হিসেবে বাংলাদেশের অবস্থান শক্তিশালী রাখার ক্ষেত্রেও এর গুরুত্ব রয়েছে। তাই বিতর্কিত বিষয়গুলোর জটিল বাস্তবতাকে উপেক্ষা করে সহজ ব্যাখ্যার পরিবর্তে তথ্যভিত্তিক আলোচনা এবং আইনগত নিশ্চয়তার পথে এগিয়ে আসতে সংশ্লিষ্ট সকলকে আহ্বান জানায় এমটব।

 

এ সম্পর্কিত খবর
আরও পড়ুন