মঙ্গলবার, ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬

| ১৩ আশ্বিন ১৪৩৩

বিকিরণ মাত্রা সহনীয় পর্যায়ে

রংপুরে মোবাইল টাওয়ারের রেডিয়েশন পরীক্ষা

প্রকাশ: ১৮:১৮, ১১ আগস্ট ২০২৬ | আপডেট: ১৮:৪১, ১১ আগস্ট ২০২৬

রংপুরে মোবাইল টাওয়ারের রেডিয়েশন পরীক্ষা

রংপুরে মোবাইল টাওয়ারের রেডিয়েশন পরীক্ষা

রংপুরে মোবাইল টাওয়ারের বিকিরণ মাত্রা সহনীয় পর্যায়ে থাকায় আতঙ্কিত না হয়ে সচেতন হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রক কমিশনের (বিটিআরসি) চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল মো. এমদাদ উল বারী (অব.)। মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) সকালে রংপুর জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে ‘মোবাইল টাওয়ারের ইএমএফ রেডিয়েশন পরিবীক্ষণ, জনসচেতনতা ও সেবার মান উন্নয়ন’ বিষয়ক মতবিনিময় সভায় তিনি এসব কথা বলেন।

বিটিআরসি চেয়ারম্যান বলেন, বাড়ির ছাদে মোবাইল টাওয়ার স্থাপন নিয়েও অনেকের উদ্বেগ রয়েছে। তবে অনুমোদন ছাড়া মোবাইল টাওয়ার স্থাপনের সুযোগ নেই। নির্ধারিত মান মেনেই টাওয়ার স্থাপন ও রেডিয়েশন নিয়ন্ত্রণ করা হয়।

ইন্টারনেট ব্যবহার নিয়ে বিটিআরসি চেয়ারম্যান বলেন,ইন্টারনেট সেবার সমস্যা চিহ্নিত করে সমাধানে একাধিক স্তরে কাজ করা হচ্ছে। নেটওয়ার্ক, গ্রাহকসেবা ও প্রযুক্তিগত অবকাঠামোকেও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

তিনি আরো বলেন, এআই ব্যবহারের মাধ্যমে বর্তমানে ভুয়া ছবি ও ভিডিও তৈরি করা হচ্ছে। এতে সত্য তথ্য নিয়েও মানুষের মধ্যে সন্দেহ তৈরি হচ্ছে। তাই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারে প্রত্যেককে দায়িত্বশীল হতে হবে।

মোবাইল টাওয়ারের বিকিরণ মাত্রা নির্ধারণ করতে রংপুরে চার দিনব্যাপী ইএমএফ রেডিয়েশন পরীক্ষা চালায় বিটিআরসি। ৮ থেকে ১১ আগস্ট রংপুর শহর ও আশপাশের এলাকায় চলে এই কার্যক্রম। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, হাসপাতাল, স্বাস্থ্যকেন্দ্র, আবাসিক এলাকা, বাজার, বাণিজ্যিক এলাকা ও টাওয়ারসংলগ্ন স্থানকে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়।

ইন্টারন্যাশনাল কমিশন অন নন-আয়োনাইজিং রেডিয়েশন প্রোটেকশন বা আইসিএনআইআরপির নির্ধারিত নিরাপদ সীমা ৬১ ভোল্ট পার মিটার। বিটিআরসির পরিমাপে রংপুরের গ্রান্ড প্যালেস হোটেল এলাকায় সর্বোচ্চ রেডিয়েশন পাওয়া গেছে ১.৭৯৫ ভোল্ট পার মিটার। সেখানে গড় মান ছিল ১.০৮২ ভোল্ট পার মিটার।

ক্যান্টনমেন্ট রোডে সর্বোচ্চ মান ছিল ১০.৪৮০ ভোল্ট পার মিটার। রেলওয়ে স্টেশনে সর্বোচ্চ মান পাওয়া গেছে ০.৪৭৪ ভোল্ট পার মিটার। জেলার অন্য কোনো স্থানে রেডিয়েশনের মাত্রা ১১ ভোল্ট পার মিটার ছাড়ায়নি।

রেডিয়েশনের পাশাপাশি মোবাইল নেটওয়ার্কের সেবার মানও পরীক্ষা করা হয়। এ পরীক্ষায় জনসমাগম বেশি এবং গুরুত্বপূর্ণ এলাকাগুলোকে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়।

বিটিআরসির মানদণ্ড অনুযায়ী, ২জি ভয়েস-মসের লক্ষ্যমাত্রা ৩.৫-এর বেশি। পরীক্ষায় গড় মান পাওয়া গেছে ৩.৮৭। ৪জি ভয়েস-মসের গড় মান ছিল ৩.৪২ এবং ৪জি ভোল্টে ভয়েস-মসের গড় মান ছিল ৩.০৭। ভয়েস-মস দিয়ে মোবাইল কলের শব্দ ও কথোপকথনের মান বোঝা হয়।

এদিকে ৪জি ডাউনলিংক গতির লক্ষ্যমাত্রা ১০ এমবিপিএসের বেশি। পরীক্ষায় গড় গতি পাওয়া গেছে ২৩.৩৯ এমবিপিএস। আপলিংক গতির লক্ষ্যমাত্রা ছিল ২ এমবিপিএসের বেশি। সেখানে গড় গতি পাওয়া গেছে ১২.৯৪ এমবিপিএস।

সভায় বিটিআরসির ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড অপারেশন্স বিভাগের মহাপরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল শফিউল আজম পারভেজসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। রংপুর জেলা প্রশাসনের আয়োজনে সভায় সভাপতিত্ব করেন জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ রুহুল আমিন। এতে বিভিন্ন অংশীজন, স্থানীয় বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজের শিক্ষক-শিক্ষার্থী, জেলা ও পুলিশ প্রশাসনের প্রতিনিধি, গণমাধ্যমকর্মী এবং বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশ নেন।

 

এ সম্পর্কিত খবর
আরও পড়ুন