জিইও মোবাইল উৎপাদন
দেশে মোবাইল ফোন উৎপাদনে নতুন প্রতিষ্ঠান
আইরিন
প্রকাশ: ১৩:১৬, ১২ আগস্ট ২০২৬ | আপডেট: ০১:২৭, ১৯ আগস্ট ২০২৬
দেশে মোবাইল ফোন উৎপাদনে নতুন প্রতিষ্ঠান
দেশে মোবাইল ফোন উৎপাদনে যুক্ত হতে যাচ্ছে দেশীয় এক প্রতিষ্ঠান। বিলিয়ন টেন কমিউনিকেশন প্রতিষ্ঠানটিকে ইতোমধ্যে মোবাইল ফোন উৎপাদনের অনুমোদন দিয়েছে বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রক কমিশন (বিটিআরসি)। ফোরজি ফিচার ফোনের পাশাপাশি স্মার্টফোন উৎপাদনের শর্তে প্রতিষ্ঠানটিকে স্থানীয়ভাবে জিইও মোবাইল ফোন উৎপাদন করতে কারখানা এবং টেস্টিং ল্যাব স্থাপনের অনুমোদন দেয় বিটিআরসি।
বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রক কমিশনের (বিটিআরসি) তথ্য অনুসারে, চলতি বছরের জুনে কমিশনের ৪ সদস্যের একটি দল বিলিয়ন টেন কমিউনিকেশন প্রতিষ্ঠানের মোবাইল ফোন উৎপাদনের নিজস্ব কারখানা ও টেস্টিং ল্যাব পরিদর্শন করেন। এর ভিত্তিতে জনবলের কর্মদক্ষতা নিশ্চিতের পাশাপাশি কারখানা ও টেস্টিং ল্যাবে কিছু প্রয়োজনীয় সংশোধন আনতে প্রতিষ্ঠানটিকে নির্দেশ দেয় বিটিআরসি। এরপর নির্দেশনা অনুসরণের মাধ্যমে কারখানাটিতে প্রয়োজনীয় সংশোধনের প্রমাণপত্র দাখিল করে প্রতিষ্ঠানটি। এই প্রমাণপত্র বিবেচনার মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানটিকে মোবাইল ফোন উৎপাদনের অনুমোদন দেয়া হয়।
এদিকে, বিলিয়ন টেন কমিউনিকেশনের ব্যবস্থাপনা পরিচালক রাফিউর রহমান খান টেকস্ক্রলকে জানান, চলতি বছরের অক্টোবরে জিইও মোবাইল ফোন উৎপাদন শুরুর কথা রয়েছে। হ্যান্ডসেটটি উৎপাদনে মাদারবোর্ড দেশে তৈরি করা হলেও কিছু কাঁচামাল চীন থেকে আমদানি করা হচ্ছে। কাঁচামাল আমদানি শেষে অক্টোবর ও ডিসেম্বরে পর্যায়ক্রমে শুরু হবে মোবাইল ফোন উৎপাদন কার্যক্রম। প্রতি মাসে সাড়ে তিন লাখ হ্যান্ডসেট উৎপাদনের সক্ষমতা থাকলেও বর্তমানে এক লাখ হ্যান্ডসেট উৎপাদনের লক্ষ্য ঠিক করা হয়েছে। আগামীতে গ্রাহকদের চাহিদার প্রেক্ষিতে বাড়ানো হবে উৎপাদন।
তিনি আরো বলেন, সব ধরনের কাঁচামাল আমদানির পর করসহ উৎপাদন ব্যয় বিবেচনার মাধ্যমে হ্যান্ডসেটটির দাম নির্ধারণ করা হবে। কারখানাটিতে ৫৫০ লোকের কর্মসংস্থানের সুযোগ রয়েছে।
২০২০ সালে সীমিত আকারে জিইও মোবাইল ফোন বাজারে আনা হয়। তবে সেসময় থেকে হ্যান্ডসেটগুলো উৎপাদন করা হয় চীনের একটি প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে। নতুন কারখানার মাধ্যমে উৎপাদন করা হবে নতুন মডেলের হ্যান্ডসেটও। এবার নিজস্ব কারখানার মাধ্যমে হ্যান্ডসেটগুলো উৎপাদনে দাম কমার সম্ভাবনার কথাও জানান তিনি।
প্রযুক্তি বিশ্লেষক সুমন আহমেদ সাবির টেকস্ক্রলকে বলেন, এখনো কম দামে স্মার্টফোন কিনতে পারছেন না গ্রাহকরা। দেশে কম দামে উন্নত মানের স্মার্টফোন উৎপাদন করা হলে চাহিদা বাড়বে গ্রাহকদের। এতে এ খাতে বিনিয়োগ আগ্রহ বাড়বে দেশীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর। তবে দেশীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর উৎপাদিত হ্যান্ডসেটের মান উন্নয়নে নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিটিআরসির নজরদারি প্রয়োজন।
তিনি আরো বলেন, বর্তমান প্রযুক্তির সাথে তাল মিলিয়ে দেশীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর আরো আধুনিক মোবাইল ফোন উৎপাদনের বিষয়ে বিবেচনা করা প্রয়োজন। এতে আন্তর্জাতিক বাজারে নিজেদের অবস্থান তৈরি হবে বলেও মনে করেন তিনি।
মোবাইল ফোন ইন্ডাস্ট্রি ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (এমআইওবি) তথ্য অনুযায়ী, দেশে বর্তমানে ওয়ালটন ও স্যামসাংসহ দেশি ও বহুজাতিক মিলে প্রায় ১৭টি প্রতিষ্ঠান মোবাইল ফোন উৎপাদনের সাথে জড়িত। এসব প্রতিষ্ঠান বছরে আড়াই কোটির বেশি মোবাইল ফোন উৎপাদন করছে। দেশে চাহিদার প্রায় ৯০ শতাংশের বেশি মোবাইল ফোন উৎপাদন করছে প্রতিষ্ঠানগুলো। এ খাতে বিনিয়োগ ২ হাজার ৫০০ কোটি টাকার বেশি। রয়েছে প্রায় এক লাখ মানুষের কর্মসংস্থান।













