দেশের প্রথম অপারেটর হিসেবে বাংলা কিউআর পেমেন্ট সেবা চালু করেছে গ্রামীণফোন
টেকস্ক্রল নেটওয়ার্ক
প্রকাশ: ১১:৪৫, ৪ নভেম্বর ২০২৬ | আপডেট: ১৩:০৮, ৪ নভেম্বর ২০২৬
গ্রামীণফোন এক্সপেরিয়েন্স সেন্টার,গুলশানে অপারেটরটির ব্র্যান্ডেড রিটেইল স্টোরে বাংলা কিউআর পেমেন্ট সেবার উদ্বোধন করেন বাংলাদেশ ব্যাংকের ডেপুটি গভর্নর
দেশের প্রথম টেলিকম অপারেটর হিসেবে মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংক পিএলসি (এমটিবি)-এর সাথে পার্টনারশিপের ভিত্তিতে তাদের ব্র্যান্ডেড রিটেইল স্টোরগুলোতে বাংলা কিউআর পেমেন্ট চালু করলো শীর্ষ টেলিযোগাযোগ সেবা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠান গ্রামীণফোন। এর ফলে, ডিজিটাল পদ্ধতিতে অর্থ পরিশোধ করতে পারবেন গ্রাহকরা, যা আরও সহজ ও সুবিধাজনক।
গ্রাহকরা সংশ্লিষ্ট ব্যাংক, মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিস বা পেমেন্ট সার্ভিস প্রোভাইডারের অ্যাপের মাধ্যমে গ্রামীণফোন এক্সপেরিয়েন্স সেন্টারগুলোতে রাখা বাংলা কিউআর কোড স্ক্যান করে সরাসরি তাদের অ্যাকাউন্ট থেকে মূল্য পরিশোধ করতে পারবেন।
এই জাতীয় কিউআর স্ট্যান্ডার্ডটি ব্যবহার করছে এমন সকল প্রতিষ্ঠানে একটি একক মার্চেন্ট কোডের মাধ্যমেই অর্থ পরিশোধ করতে পারেন গ্রাহকরা, যা নগদ টাকার ওপর নির্ভরতা কমায় এবং অর্থ পরিশোধের ক্ষেত্রে তাদের পছন্দের পরিধিটাও বাড়িয়ে দেয়।
‘এক দেশ, এক কিউআর’ ভিশনের আওতায় বাংলা কিউআর-এর মাধ্যমে সর্বজনীন ডিজিটাল পেমেন্ট ব্যবস্থা জোরদার করতে বাংলাদেশ ব্যাংকের নেয়া পদক্ষেপের ওপর ভিত্তি করে এই উদ্যোগটি নেয়া হয়েছে।
সেবাটি প্রাথমিকভাবে রাজধানীর গুলশান ও বসুন্ধরা আবাসিক এলাকা এবং চট্টগ্রামের জিইসি মোড়ের গ্রামীণফোন এক্সপেরিয়েন্স সেন্টারগুলোতে পাওয়া যাবে। ০৪ নভেম্বর, বুধবার, গুলশান গ্রামীণফোন এক্সপেরিয়েন্স সেন্টারে আনুষ্ঠানিকভাবে সেবাটির উদ্বোধন করেন বাংলাদেশ ব্যাংকের ডেপুটি গভর্নর ড. মোঃ হাবিবুর রহমান। এ সময় মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংক পিএলসি (এমটিবি)-এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা সৈয়দ মাহবুবুর রহমান এবং গ্রামীণফোনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) ইয়াসির আজমান উপস্থিত ছিলেন।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন গ্রামীণফোনের চিফ মার্কেটিং অফিসার ফারহা নাজ জামান, চিফ ফাইন্যান্সিয়াল অফিসার অটো মাগনে রিসব্যাক এবং চিফ কর্পোরেট অ্যাফেয়ার্স অফিসার তানভীর মোহাম্মদ। মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংক পিএলসি-এর পক্ষ থেকে উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও সিবিও চৌধুরী আখতার আসিফ, উপব্যবস্থাপনা পরিচালক ও রিটেইল ব্যাংকিং বিভাগের প্রধান মোঃ শাফকাত হোসেন এবং চিফ ডিজিটাল অফিসার খালিদ হোসেন।
রেফ্রিজারেটরে সাইবার হামলায় নিরাপত্তা বাড়াচ্ছে সুপারমার্কেটগুলো
বাংলাদেশ ব্যাংকের ডেপুটি গভর্নর ড. মোঃ হাবিবুর রহমান বলেন, অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এবং আর্থিক অন্তর্ভুক্তির অন্যতম চালিকাশক্তি হচ্ছে সংযোগ ও প্রযুক্তিগত উদ্ভাবন। দেশে আরও সমন্বিত ও দক্ষ ডিজিটাল পেমেন্ট ইকোসিস্টেম গড়ে তুলতে গ্রামীণফোনের এই পদক্ষেপকে সাধুবাদ। আর্থিক সেবাকে আরও সহজলভ্য করতে, তরুণদের ডিজিটাল পেমেন্ট ব্যবহারে উৎসাহিত করতে এবং একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক ও ক্রমবর্ধমান ক্যাশলেস অর্থনীতিকে এগিয়ে নিতে শিল্প-সংশ্লিষ্ট অন্যান্য প্রতিষ্ঠানগুলোও এই উদ্যোগে যুক্ত হবে বলে আমার প্রত্যাশা।
গ্রামীণফোনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) ইয়াসির আজমান বলেন, গ্রামীণফোনে গ্রাহক-কেন্দ্রিকতা আমাদের গ্রাহকদের দৈনন্দিন অভিজ্ঞতাগুলোকে আরও সহজ ও সুবিধাজনক করার প্রেরণা। আমরা বিশ্বাস করি, এই প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে পারস্পরিক সহযোগিতা উদ্ভাবনকে আরও বেগবান করে। আর এমটিবির সঙ্গে আমাদের অংশীদারত্ব বাংলা কিউআরের মাধ্যমে এই অঙ্গীকারকে বাস্তবে রূপ দিচ্ছে। গ্রাহকরা এখন নগদ টাকার এবং ভাঙতি টাকার জন্য অপেক্ষার বিষয়টি ছাড়াই ফোনের মাধ্যমে সহজে স্ক্যান করে মূল্য পরিশোধ করতে পারবেন। এটি ডিজিটাল পেমেন্টকে বাস্তবসম্মত দৈনন্দিন অভ্যাসে পরিণত করবে, যা আর্থিক অন্তর্ভুক্তিকে বিস্তৃত করতে এবং বাংলাদেশের ডিজিটাল অর্থনীতিতে আরও বেশি মানুষকে যুক্ত হতে সহায়ক ভূমিকা রাখবে। এ ধরনের প্রচেষ্টার মাধ্যমে আমাদের লক্ষ্য হলো গ্রাহকদের জন্য আরও নিরাপদ ও স্মার্ট আগামী গড়ে তোলা; পাশাপাশি দেশের ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতির ভিশনে অবদান রাখা।
মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংক পিএলসি (এমটিবি)-এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা সৈয়দ মাহবুবুর রহমান বলেন, আরও বেশি গ্রাহকের কাছে স্ক্যান-টু-পেমেন্টের মতো সহজ সুবিধা পৌঁছে দিতে গ্রামীণফোনের সাথে পার্টনারশিপ করতে পেরে আমরা আনন্দিত। পেমেন্ট সম্পর্কে আমাদের বিশেষ অভিজ্ঞতার সাথে গ্রামীণফোনের বিস্তৃত রিটেইলের সমন্বয়ে আমরা দৈনন্দিন লেনদেনকে আরও সুবিধাজনক করে তুলেছি এবং দেশজুড়ে ডিজিটাল পেমেন্টের ব্যাপক প্রসার ও ব্যবহারে অবদান রাখছি।
দৈনিক এক কোটি লেনদেনের যে লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক, গ্রাহকের দৈনন্দিন কেনাকাটায় এ সেবাটি চালু করে সেই জাতীয় লক্ষ্যকেই বেগবান করছে গ্রামীণফোন। বিপুল সংখ্যক গ্রাহকের কাছে সেবাটি পৌঁছে দিয়ে গ্রামীণফোনের উদ্দেশ্য হচ্ছে ব্যাপকভাবে ডিজিটাল পেমেন্ট ব্যবহারে তাদের উদ্বুদ্ধ করা এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক ডিজিটাল অর্থনীতির ভিত্তি সুদৃঢ় করা।
সূত্র: ইমপ্যাক্ট পিআর













