বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর ২০২৬

| ৫ কার্তিক ১৪৩৩

১৯ ডিসেম্বর নির্বাচন

ই-ক্যাবের নির্বাচন সুষ্ঠু করতে অভিযোগ গ্রহণ ও নিষ্পত্তির ব্যবস্থা

গাজী তানজীর আহমেদ

প্রকাশ: ১৫:০৯, ২০ অক্টোবর ২০২৬ | আপডেট: ১৫:১১, ২০ অক্টোবর ২০২৬

ই-ক্যাবের নির্বাচন সুষ্ঠু করতে অভিযোগ গ্রহণ ও নিষ্পত্তির ব্যবস্থা

ই-ক্যাবের নির্বাচন সুষ্ঠু করতে অভিযোগ গ্রহণ ও নিষ্পত্তির ব্যবস্থা

নির্বাচন সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য করতে অভিযোগ গ্রহণ ও নিষ্পত্তির ব্যবস্থা রেখেছে ই-কমার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ই-ক্যাব)। অভিযোগ নিষ্পত্তির পরই চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশ করা হবে বলে জানিয়েছেন সংগঠনটির মহাব্যবস্থাপক এস. এম. ইকরামুল হক। ই-কমার্স ব্যবসায়ীদের জন্য জামানতবিহীন ঋণ ও ভেঞ্চার ক্যাপিটালের সুযোগ বাড়ানোর পাশাপাশি সরকারের নীতিগত সহযোগী হিসেবেও ই-ক্যাবকে কাজ করতে হবে বলে মনে করেন বিশ্লেষকেরা।

ই-কমার্স ব্যবসায়ীদের মধ্যে সারাদেশে সংযোগ তৈরি করতে ২০১৪ সালে গঠিত হয় ই-কমার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ই-ক্যাব)। তবে ২০২৪ সালের পর থেকে অনেকটাই স্থবির হয়ে পড়ে সংগঠনটির কার্যক্রম। ২০২৫ সালে নির্বাচন নিয়ে আইনি জটিলতার কারণে গঠিত নির্বাচন বোর্ড ও আপিল বোর্ডের কার্যক্রম নিয়েও অনিশ্চয়তা তৈরি হয়।

সম্প্রতি নির্বাচন সংক্রান্ত রিট পিটিশন নিষ্পত্তি করেছে হাইকোর্ট। ৯০ দিনের মধ্যে নির্বাচন কার্যক্রম সম্পন্ন করার নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। এরই মধ্যে ২০২৫–২৭ মেয়াদের কার্যনির্বাহী পরিষদ নির্বাচন আয়োজনের জন্য পুনর্গঠন করা হয়েছে নির্বাচন বোর্ড ও আপিল বোর্ড।

ই-ক্যাবের মহাব্যবস্থাপক এস. এম. ইকরামুল হক টেকস্ক্রলকে জানান, নির্বাচন ও আপিল বোর্ড আগামী ১৯ ডিসেম্বর নির্বাচনের তারিখ ঘোষণা করেছে। নির্বাচন সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য করতে অভিযোগ গ্রহণ ও নিষ্পত্তির ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।

২৯ অক্টোবর প্রাথমিক ভোটার তালিকা প্রকাশের পর নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সদস্যরা তাঁদের অভিযোগ জানাতে পারবেন। অভিযোগ নিষ্পত্তির পর প্রকাশ করা হবে চূড়ান্ত ভোটার তালিকা। এদিকে, নির্বাচন শেষে ফলাফল নিয়ে কোনো অভিযোগ থাকলেও আপিল বোর্ডের কাছে আবেদন করা যাবে।

তিনি বলেন, শুনানি ও চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের পর নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণা করা হবে। নির্বাচিত নতুন কমিটি দায়িত্ব নেওয়ার পর আগামী দুই বছরের কর্মপরিকল্পনা সম্পর্কে বিস্তারিত জানাবে।

এদিকে, প্রযুক্তি উদ্যোক্তা ও বিশ্লেষক সৈয়দ আলমাস কবীর টেকস্ক্রলকে বলেন, ই-ক্যাবকে ব্যবসায়িক সংগঠন হিসেবে কাজ করার পাশাপাশি সরকারের নীতিগত সহযোগী হিসেবেও ভূমিকা রাখতে হবে। জাতীয় ই-কমার্স রোডম্যাপ তৈরি, ডিজিটাল লাইসেন্সপ্রাপ্তির প্রক্রিয়া সহজ করা এবং আমলাতান্ত্রিক জটিলতা কমানোর উদ্যোগ নিতে হবে সংগঠনটিকে।

তিনি বলেন, ই-কমার্স উদ্যোক্তাদের জন্য জামানতবিহীন ডিজিটাল ঋণ ও ভেঞ্চার ক্যাপিটালের সুযোগ বাড়াতে বাংলাদেশ ব্যাংক ও জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) সঙ্গে সমন্বয়ের মাধ্যমে কাজ করতে হবে ই-ক্যাবকে।

ক্যাশ অন ডেলিভারির ওপর নির্ভরতা কমিয়ে নগদবিহীন লেনদেন বাড়াতে ভোক্তাদের আস্থা অর্জন জরুরি। এ জন্য অসাধু ব্যবসায়ীদের দৌরাত্ম্য কমাতেও কাজ করতে হবে সংগঠনটিকে।

তথ্যের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, স্মার্ট পণ্য সরবরাহ ব্যবস্থা গড়ে তোলা এবং কাগজবিহীন বাণিজ্যের প্রসারে সরকার ও বেসরকারি খাতের যৌথ উদ্যোগ প্রয়োজন।

দেশীয় হস্তশিল্প, পোশাক ও প্রক্রিয়াজাত খাদ্য আন্তর্জাতিক বাজারে পৌঁছে দিতে আন্তঃসীমান্ত ই-কমার্স নীতিমালা প্রণয়ন করতে হবে। পাশাপাশি আন্তর্জাতিক পেমেন্ট গেটওয়ে ব্যবহারের প্রক্রিয়াও সহজ করা প্রয়োজন।

এসব উদ্যোগ বাস্তবায়ন করা গেলে আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক ডিজিটাল বাণিজ্যে বাংলাদেশের অবস্থান আরও শক্তিশালী হবে। ২০২৬ সালে স্বল্পোন্নত দেশের (এলডিসি) তালিকা থেকে উত্তরণের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায়ও ই-কমার্স খাতের প্রস্তুতি গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করেন তিনি।
 

এ সম্পর্কিত খবর
আরও পড়ুন