শনিবার, ১০ অক্টোবর ২০২৬

| ২৩ আশ্বিন ১৪৩৩

মস্কোয় আন্তর্জাতিক ফোরাম

শিশুদের অনলাইন নিরাপত্তায় বৈশ্বিক সহযোগিতা জোরদারের আহ্বান

টেকস্ক্রল নেটওয়ার্ক

প্রকাশ: ১৪:০৬, ৯ অক্টোবর ২০২৬

শিশুদের অনলাইন নিরাপত্তায় বৈশ্বিক সহযোগিতা জোরদারের আহ্বান

শিশুদের অনলাইন নিরাপত্তায় বৈশ্বিক সহযোগিতা জোরদারের আহ্বান

শিশুদের ডিজিটাল পরিবেশে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বৈশ্বিক সহযোগিতা, অংশীজনদের যৌথ উদ্যোগ এবং আন্তর্জাতিক সর্বোত্তম অনুশীলন বিনিয়ের আহ্বান জানান ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিমন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম।

৮ অক্টোবর (বৃহস্পতিবার) রাশিয়ার মস্কোয় অনুষ্ঠিত ‘ডিজিটাল চাইল্ডহুড উইদাউট বর্ডার্স: বেস্ট ইন্টারন্যাশনাল প্র্যাকটিসেস ফর চাইল্ড সেফটি অনলাইন’ শীর্ষক বিজনেস আইটি ব্রেকফাস্টে বাংলাদেশের পক্ষে বক্তব্য দেওয়ার সময় তিনি এ আহ্বান জানান। অনুষ্ঠানে তিনি বাংলাদেশ সরকারের প্রতিনিধিত্ব করেন। 

মন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ দ্রুত ডিজিটাল রূপান্তরের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। এর ফলে শিশুরা শিক্ষা ও বিকাশের জন্য অনলাইন জগতের সুযোগ পাচ্ছে। একই সঙ্গে তারা নতুন ও পরিবর্তনশীল বিভিন্ন ধরনের অনলাইন ঝুঁকির মুখোমুখি হচ্ছে। শিশুদের ডিজিটাল নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এখন শুধু অভিভাবক বা শিক্ষকদের দায়িত্ব নয়; সরকার, অনলাইন প্ল্যাটফর্ম, প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান ও সুশীল সমাজসহ সব অংশীজনের সম্মিলিত দায়িত্ব।

তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে বাংলাদেশ শিশুদের তথ্য সুরক্ষা এবং অনলাইন শোষণ থেকে রক্ষায় সাইবার সিকিউরিটি অ্যাক্টসহ সংশ্লিষ্ট ডিজিটাল সুরক্ষা আইন ও আইনি কাঠামো শক্তিশালী করতে কাজ করছে। তবে শুধু আইন দিয়ে এ চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করা সম্ভব নয়। এ ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতা, সর্বোত্তম অনুশীলন এবং কার্যকর ও বিস্তৃত পরিসরে প্রয়োগযোগ্য সমাধান বিনিময়ও গুরুত্বপূর্ণ।

তিনি বলেন, প্রস্তাবিত দলিলটি জাতিসংঘের কনভেনশন অন দ্য রাইটস অব দ্য চাইল্ডের আলোকে শিশু অধিকারভিত্তিক একটি সমন্বিত কাঠামো উপস্থাপন করেছে।

প্রস্তাবিত উদ্যোগের তিনটি মূল নীতির প্রতি বাংলাদেশের দৃঢ় সমর্থন জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, শিশুর সর্বোত্তম স্বার্থকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া, সব অংশীজনের যৌথ দায়িত্ব নিশ্চিত করা এবং আন্তর্জাতিক সহযোগিতার মাধ্যমে অভিজ্ঞতা ও সর্বোত্তম অনুশীলন বিনিময় করা প্রয়োজন।

মন্ত্রী বলেন, এ উদ্যোগে এশিয়া-প্যাসিফিক অঞ্চলসহ বিভিন্ন ভৌগোলিক অঞ্চলের ন্যায্য প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করে বহুপক্ষীয় অংশীজন কাঠামো গড়ে তোলা গুরুত্বপূর্ণ। এতে বাংলাদেশের মতো উন্নয়নশীল দেশগুলোর নিজস্ব বাস্তবতা, চ্যালেঞ্জ ও অভিজ্ঞতা বৈশ্বিক কৌশল প্রণয়নে যথাযথভাবে প্রতিফলিত হওয়ার সুযোগ তৈরি হবে। একই সঙ্গে ডিজিটাল চাইল্ডহুড সেফটি ইনডেক্স এবং গবেষণা ও সর্বোত্তম অনুশীলন বিনিময়ের জন্য বিশেষ প্ল্যাটফর্ম প্রতিষ্ঠার প্রস্তাবকে স্বাগত জানায় বাংলাদেশ।

ফকির মাহবুব আনাম বলেন, শিশু, অভিভাবক ও শিক্ষকদের ডিজিটাল সাক্ষরতা বৃদ্ধিও এ উদ্যোগের গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাসহ প্রযুক্তির দ্রুত বিকাশের সঙ্গে তাল মিলিয়ে প্রয়োজনীয় জ্ঞান ও সচেতনতা বাড়ানো গেলে অনলাইন ক্ষতির বিরুদ্ধে কার্যকর প্রতিরোধব্যবস্থা গড়ে তোলা সম্ভব।

তিনি বলেন, গ্লোবাল অ্যালায়েন্স টু প্রোটেক্ট চিলড্রেন ইন দ্য ডিজিটাল এনভায়রনমেন্ট-এর জয়েন্ট স্টেটমেন্টে বর্ণিত নীতির প্রতি বাংলাদেশের দৃঢ় অঙ্গীকার রয়েছে। অনলাইন বুলিং, যৌন হয়রানি, তথ্য চুরি ও অন্যান্য ডিজিটাল ক্ষতি থেকে শিশুদের সুরক্ষায় অ্যালায়েন্সের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করতে বাংলাদেশ আগ্রহী। জাতীয় নীতি ও বৈশ্বিক সহযোগিতার মধ্যে সেতুবন্ধন তৈরিতেও এ অ্যালায়েন্স গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

মন্ত্রী বলেন, জাতীয়তা নির্বিশেষে প্রতিটি শিশু যেন নিরাপদ, সৃজনশীল ও নির্ভয়ে ডিজিটাল জগৎ ব্যবহার করতে পারে এমন একটি ভবিষ্যৎ নির্মাণে বাংলাদেশ সংশ্লিষ্ট সব অংশীজনের সঙ্গে কাজ করতে প্রস্তুত।
আন্তর্জাতিক এ ফোরামে ১০০টির বেশি দেশের প্রতিনিধি অংশ নেন।
 

এ সম্পর্কিত খবর
আরও পড়ুন