স্ক্রলটি ২ হাজার বছর পুরাতন
এআইয়ের সাহায্যে পড়া সম্ভব প্রাচীন স্ক্রল
টেকস্ক্রল নেটওয়ার্ক
প্রকাশ: ২০:১০, ৩ জুলাই ২০২৬ | আপডেট: ২১:০৬, ৩ জুলাই ২০২৬
এআইয়ের সাহায্যে পড়া সম্ভব প্রাচীন স্ক্রল
বর্তমানে প্রযুক্তির মাধ্যমে পড়া সম্ভব হচ্ছে প্রাচীন স্ক্রল। প্রায় দুই হাজার বছর আগে আগ্নেয়গিরির অগ্ন্যুৎপাতে পুড়ে যাওয়া একটি প্রাচীন স্ক্রল ইতোমধ্যে পাঠোদ্ধার সম্ভব করেছেন এক দল গবেষক। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) এবং ভার্চুয়াল আবরণ সরানো প্রযুক্তির সাহায্যে স্ক্রলটি স্পর্শ না করেই ভেতরের লেখা পড়তে সক্ষম হয়েছেন তারা।
যুক্তরাষ্ট্রের ইউনিভার্সিটি অব কেন্টাকি এবং ইতালির নেপলসের গবেষকরা বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) নেপলসের ন্যাশনাল লাইব্রেরিতে এই সাফল্যের ঘোষণা দেন। প্রায় দুই হাজার বছর আগে মাউন্ট ভেসুভিয়াসের অগ্ন্যুৎপাতে ধ্বংস হওয়া প্রাচীন শহর হারকুলেনিয়াম থেকে উদ্ধার করা স্ক্রলটির নাম PHerc. 1667
গবেষকদের মতে, স্ক্রলটি এতটাই পুড়ে গিয়েছিল যে একসময় এর পাঠযোগ্যতার মান শূন্য বলে বিবেচিত হয়েছিল। তবে আধুনিক প্রযুক্তির সাহায্যে প্রায় ১ দশমিক ৫ মিটার দীর্ঘ ধারাবাহিক গ্রিক লেখা, যা ২০টি কলামে বিস্তৃত স্ক্রলটি বর্তমানে পড়ার উপযোগী।
স্ক্রলটি হারকুলেনিয়াম সংগ্রহের অন্যতম প্রাচীন নিদর্শন। এটি খ্রিস্টপূর্ব দ্বিতীয় বা তৃতীয় শতকের শেষভাগের বলে ধারণা করা হয়। শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে এটি জোর করে খোলার ব্যর্থ চেষ্টায় বাইরের স্তর ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ১৭৮২ সালের নথিতে স্ক্রলটিকে মোটামুটি অক্ষত বলা হলেও পরে মানুষের হস্তক্ষেপেই এর সবচেয়ে বেশি ক্ষতি হয়।
গবেষক ফেদেরিকা নিকোলার্দি বলেন, ১৯৮০-এর দশকে স্ক্রলটির একটি অংশ খোলার পর এটিকে সম্পূর্ণ অপাঠ্য বলা হয়েছিল। কিন্তু এখন ভার্চুয়াল আবরণ সরানো প্রযুক্তির মাধ্যমে একাধিক কলামজুড়ে ধারাবাহিক যুক্তি ও বক্তব্য অনুসরণ করা সম্ভব হচ্ছে।
এই সাফল্যের পেছনে রয়েছে ভেসুভিয়াস চ্যালেঞ্জ নামে একটি বৈশ্বিক গবেষণা উদ্যোগ, যা ২০২৩ সালে শুরু করেন গবেষক ব্রেন্ট সিলস। এতে উচ্চ-রেজোলিউশনের মাইক্রো-সিটি স্ক্যান ব্যবহার করা হয়। যুক্তরাজ্যের ডায়মন্ড লাইট সোর্স এবং ফ্রান্সের ইউরোপিয়ান সিনক্রোট্রন রেডিয়েশন ফ্যাসিলিটিতে স্ক্রলটি স্ক্যান করা হয়। প্রতিটি স্ক্যানের ডেটার পরিমাণ ছিল প্রায় ৩০০ টেরাবাইট। এরপর কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা স্তরগুলো ভার্চুয়ালি খুলে কালি শনাক্ত করে লেখাগুলো পাঠোদ্ধার করে।
পাঠোদ্ধার হওয়া লেখায় মূলত নৈতিকতা, শিল্প এবং মানব আচরণ নিয়ে স্টোয়িক দর্শনের আলোচনা পাওয়া গেছে। এটি বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ, কারণ হারকুলেনিয়ামের অধিকাংশ স্ক্রলই এপিকিউরিয়ান দর্শনের। গবেষকদের ধারণা, লেখাটি স্টোয়িক দার্শনিক ক্রিসিপাসের রচনা হতে পারে। এতে তার ভাতিজা ও শিষ্য অ্যারিস্টোক্রিয়নের নামও উল্লেখ রয়েছে।
এদিকে একই গবেষণায় আরেকটি স্ক্রল PHerc. 139 শনাক্ত হয়। প্রযুক্তির মাধ্যমে প্রথমবারের মতো নিশ্চিত হওয়া গেছে যে গ্রন্থটি অন্তত আটটি খণ্ডে রচিত ছিল। এছাড়া PHerc. 172 স্ক্রল থেকে ৭০টির বেশি কলামের লেখা উদ্ধার করা হয়েছে।
গবেষকদের মতে, এই প্রযুক্তিগত অগ্রগতি ভবিষ্যতে আরও শত শত পুড়ে যাওয়া প্রাচীন স্ক্রলের অজানা ইতিহাস ও দর্শন উন্মোচনের পথ খুলে দেবে।
সূত্র: টাইমস অফ ইন্ডিয়া













