তামায় তথ্য প্রবাহের গতি কমে
ডেটা সেন্টারে তাপ কমাতে তামার বিকল্প পেয়েছেন গবেষকরা
টেকস্ক্রল নেটওয়ার্ক
প্রকাশ: ১৬:৪৮, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | আপডেট: ১৬:৫১, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬
ডেটা সেন্টারে তাপ কমাতে তামার বিকল্প পেয়েছেন গবেষকরা
বিশ্বে ডেটা সেন্টারগুলোতে বিদ্যুৎ সচল রাখার পাশাপাশি এটিকে শীতল রাখতে প্রচুর পরিমাণে ব্যবহার হয় তামা। গবেষকদের দাবি ডেটা সেন্টারে তামা ব্যবহারে কমে যায় তথ্য প্রবাহের গতি। এবার এই তামার ব্যবহার কমাতে আলো বা ফোটনকে এর বিকল্প হিসেবে দেখছেন গবেষক ও প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলো।
তবে প্রযুক্তিটি এখনো ব্যাপক ব্যবহারের পর্যায়ে পৌঁছায়নি। কারণ এতে উৎপাদন খরচ ও নির্ভরযোগ্যতাসহ রয়েছে বেশ কিছু চ্যালেঞ্জ।
ডেটা সেন্টার পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠান ডিজিটাল রিয়েলিটির প্রধান প্রযুক্তি কর্মকর্তা ক্রিস শার্প বলেন, তামার যুগের শেষ প্রান্তে রয়েছে বিশ্ব। তবে এর অর্থ তামার মজুত শেষ হয়ে যাচ্ছে না। বরং ডেটা সেন্টারে এর ব্যবহার কমানোর দিকে গুরুত্ব দেয়া হচ্ছে।
প্রায় ১০০ মেগাওয়াট সক্ষমতার একটি সাধারণ ডেটা সেন্টারে প্রায় ৪০০ টন তামার প্রয়োজন হয়। এর সিংহভাগই ব্যবহৃত হয় বিদ্যুৎ সচল রাখারা পাশাপাশি ডেটা সেন্টারকে শীতল রাখার কাজে। আবার কম্পিউটার সার্ভারে প্রয়োজন হয় ৭০ টন পর্যন্ত তামা। আর সার্ভারগুলোর মধ্যে সংযোগ স্থাপনের কাজেও ২০ টন পর্যন্ত তামা ব্যবহার হয়।
সংযোগের কাজে ব্যবহৃত তামার তারই এখন পরিবর্তনের অন্যতম লক্ষ্য। শার্পের ভাষায়, জিপিইউ, সিপিইউ ও অন্যান্য কম্পিউটিং উপাদানের মধ্যকার তারগুলো তথ্যপ্রবাহের গতি কমিয়ে দিচ্ছে। প্রচলিত ব্যবস্থায় তথ্য ইলেকট্রনের মাধ্যমে তামার তার দিয়ে চলাচল করে। এর বিকল্প হিসেবে ফোটন বা আলোর কণিকা ব্যবহারে গুরুত্ব দিচ্ছেন গবেষকেরা।
দীর্ঘ দূরত্বে যোগাযোগের ক্ষেত্রে কয়েক দশক ধরেই অপটিক্যাল ফাইবারে আলো ব্যবহার করা হচ্ছে। এখন সেই প্রযুক্তিকে ডেটা সেন্টারের ভেতরে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা চলছে।
সিলিকন ফোটোনিকস ফাউন্ড্রি কর্নারস্টোন ল্যাবসের উপপরিচালক কলাম লিটলজনস বলেন, আলো বিদ্যুতের মতো তাপ তৈরি করে না। ফলে তাপ কম হলে ডেটা সেন্টার ঠান্ডা রাখতে কম শক্তি প্রয়োজন হয়। একই চ্যানেলে একাধিক ডেটা স্ট্রিম পাঠানো সম্ভব হওয়ায় বাড়তে পারে তথ্য পরিবহনের সক্ষমতাও।
টিন্ডাল রিসার্চ ইনস্টিটিউটের পিটার ও’ব্রায়েন বলেন, ফোটোনিকস নিয়ে বহু বছর ধরে কাজ হলেও উৎপাদন সংক্রান্ত নানা চ্যালেঞ্জ ছিল। এখন প্রযুক্তিটি গবেষণাগার থেকে ব্যাপক ব্যবহারের দিকে যাওয়ার সময় এসেছে। এআই চিপ নির্মাতা এনভিডিয়ার সমর্থনও প্রযুক্তিটির অগ্রগতিতে ভূমিকা রাখছে।
তবে ফোটোনিকসে পরিবর্তন সহজ নয়। উৎপাদন প্রক্রিয়ার বিভিন্ন ধাপ বিভিন্ন দেশে ছড়িয়ে আছে। তাপও বড় একটি চ্যালেঞ্জ। অপটিক্যাল যন্ত্রপাতি কম তাপ তৈরি করলেও ডেটা সেন্টারের অন্য উপাদানগুলো পরিবেশ গরম করে। এতে তাপ-সংবেদনশীল অপটিক্যাল উপাদানের নির্ভরযোগ্যতায় প্রভাব পড়তে পারে।
অপটিক্যাল নেটওয়ার্ক প্রায় আলোর গতিতে তথ্য বহন করলেও এর স্থাপন ও রক্ষণাবেক্ষণে নতুন দক্ষতা প্রয়োজন। শার্প জানান, ফাইবার স্থাপনের ক্ষেত্রে বাঁক নেওয়ার মতো বিষয়েও বিশেষ সতর্কতা দরকার।
রেজোলাইট ডটএআইয়ের প্রধান নির্বাহী ওফের শাপিরো মনে করেন, শুধু তথ্য পরিবহনে নয়, প্রক্রিয়াকরণেও আলো ব্যবহার করা গেলে আরও বেশি শক্তি সাশ্রয় সম্ভব। তবে সেটি এখনো ভবিষ্যতের বিষয়। আপাতত ফোটোনিকসের উৎপাদন বড় পরিসরে নেওয়া এবং খরচ কমানোর কাজ চলছে।
কর্নারস্টোন পুরোনো সিলিকন উৎপাদন সরঞ্জামও পুনর্ব্যবহার করছে। তাদের একটি যন্ত্র সাবেক ইন্টেল উৎপাদন লাইন থেকে নেওয়া, যেখানে একসময় পেন্টিয়াম ৪ চিপ তৈরি হতো।
লিটলজনসের মতে, ইলেকট্রনিকস শিল্পের পুরোনো উৎপাদনজ্ঞান ও সরঞ্জাম কাজে লাগিয়েই ফোটোনিকসকে বড় পরিসরে উৎপাদন করা এবং খরচ কমানো সম্ভব।
সূত্র: বিবিসি








